Home | আন্তর্জাতিক | খুলনায় দুপুরে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক বিকেলে ৪৮ ঘন্টার হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ রাজপথ দখলে রাখার অঙ্গীকার

খুলনায় দুপুরে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক বিকেলে ৪৮ ঘন্টার হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ রাজপথ দখলে রাখার অঙ্গীকার

এম শিমুল খান, খুলনা প্রতিনিধি, ১৭ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : ৪৮ ঘন্টার হরতালে খুলনার রাজপথ জোটগতভাবে দখলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। হরতালের পুরোটা সময় রাজপথে থেকে মিছিল ও পিকেটিং করবে তারা। পুলিশ প্রশাসন অথবা শাসকদলের সহযোগি যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছ থেকে আঘাত আসলে তাকে প্রতিহত করা অথবা কৌশল পরিবর্তন করা হবে। রোববার দুপুরে খুলনা মহানগর ১৮ দলীয় জোটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় অংশ নেয়া জোটের শীর্ষ স্থানের নেতারা সরকার পতনের একদফার আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করেন। তাদের অভিমত, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী মহাজোট সরকারের দুঃশাসনের শেষ বছরে এসে আন্দোলনের গতি প্রকৃতি কি হবে সে সম্পর্কে জোটের প্রধান এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত কয়েক দিনের বক্তৃতা ও বিবৃতিতে বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন। এখন তার নির্দেশিত পথে রাজপথের আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে দেয়ার অন্য কোন বিকল্প নেই বলে তারা মত প্রকাশ করেন। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশীর নামে তছনছ ও লুটপাট, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ শীর্ষ স্থানীয় দেড়শ নেতাকর্মীকে নজিরবিহীন কায়দায় গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার আসামি বানানো, ধর্ম ও নবীজীকে নিয়ে অশালীন কটুক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় সরকারের অপকর্ম জায়েজের সুযোগ সুযোগ দেয়া, পক্ষান্তরে ধর্মপ্রান মুসল্লীদের ওপর পুলিশ-বিজিবি’র গুলিবর্ষণে ১৭০ জনের নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচির কর্মকৌশল নির্ধারনের লক্ষে এসভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিকেলে বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে হরতালের সমর্থনে ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে সমাবেশে যোগ দেয়। সকাল থেকেই পুরো নগরীতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া র‌্যাবের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। জোটের জেলা শাখার উদ্যোগে বিকেলে বিভিন্ন উপজেলায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। সভা সূত্র জানায়, কিছুদিন বিরতির পর খুলনায় আবারও জোটগতভাবে আন্দোলন কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গত প্রায় এক মাস জোটের প্রধান শরীক বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন ইস্যুতে পৃথক পৃথক ভাবে হরতালসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিল। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। গতকালের সভায় একাধিক বক্তা নিজেদের ভেতরের দূরত্ব কমিয়ে আনার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ১১ মার্চ শেষ বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ যে স্টাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস তছনছ করেছে তার জবাব কঠোরভাবে সরকারকে দেয়া উচিত। না হলে নিকট ভবিষ্যতে আরও বড় মাশুল দিতে হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এখন তাদের অস্তিত্বের লড়াই চালাচ্ছে। এ লড়াইয়ে জয়ের জন্য জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। দলটির প্রথম সারীর প্রায় সকল নেতা এখন জেল হাজতে। সভায় খুলনায় বিএনপি-জামায়াত-খেলাফত মজলিসসহ ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে ভয়াভহ রকমের নির্যাতন এবং পরে পেন্ডিং মামলায় আদালতে চালান দিচ্ছে পুলিশ। এমনকি একাধিক ঈমাম ও মোয়াজ্জেমকে থানায় নিয়ে চোখ বেধে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা সর্বাধিক বলে জানিয়েছেন বক্তারা। এসব জুলুম নির্যাতনের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় হরতালে জনসমর্থন সৃষ্টির জন্য সন্ধ্যায় পাড়ায় পাড়ায় মিছিল ও যানবাহন মালিকদের সাথে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সারা দেশে শাসক দলের ইন্ধনে মিডিয়ার ওপর আঘাত, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখা, পত্রিকাটি বন্ধের ষড়যন্ত্র, বিভিণœ স্থানে পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। খুলনা মহানগর ১৮ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই। বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, পিপলস লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডা. সৈয়দ আফতাব হোসেন, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক, শেখ মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আমির আলী, রেহানা ঈসা, বিজেপির সাধারন সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, খেলাফত মজলিসের সাধারন সম্পাদক মাওলানা নাসিরউদ্দিন, জামায়াতের এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ মোঃ ওলিউল্লাহ, মোঃ শফিকুর রহমান, মাহবুব কায়সার, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, মাওলানা আলী আহমেদ, মহিবুজ্জামান কচি, মেহেদী হাসান দিপু, শফিকুল আলম তুহিন, শের আলম সান্টু, আজিজুল হাসান দুলু, আজিজা খানম এলিজা, ইউসুফ হারুন মজনু, কে এম হুমায়ুন কবির, আরিফুজ্জামান আরিফ, মোঃ হাদিসুর রহমান প্রমুখ।

x

Check Also

অবশেষে পর্তুগালের লিসবনে মোহাম্মদ হান্নানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদ হান্নানের ...

পর্তুগাল মাল্টি কালচারাল একাডেমি’র হলরুমে বর্নিল আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান,পর্তুগালঃ পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা রুয়া ...