খুলনা প্রতিনিধি : সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার পরও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্ধ হচ্ছে না দালাল প্রথা। বহিরাগত দালালরা হাসপাতালে আগত রোগী ভাগিয়ে নিয়ে বাইরের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে প্রতিনিয়তই হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালাল নিয়ন্ত্রণে সেখানে বক্স বসিয়ে প্রতিনিয়ত মাইকিংও করছেন। কিন্তু এর মধ্যেও দালালদের বিচরণ থাকে অবাধ। র‌্যাব-৬এর একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে ১৬জন কথিত দালালকে। পরে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১৪ জনকে দু’মাসের করে জেল এবং দু’জনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৬এর সিপিসি স্পেশাল কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: এনায়েত হোসেন মান্নান এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম।

দুই মাসের কারাদন্ডাদেশ দেয়া আসামীরা হলেন, মোসা: মরিয়ম বেগম(৩৫), মোসা: বিলকিস বেগম(৩৫), রুবি(৫০), জেসমিন(৩২), পারুল বেগম(৩০), মফিজুর রহমান(৩৮), শওকত হোসেন(২৭), কামেনা বেগম(৩০), রহিমা খাতুন(২৫), মোসা: বিউটি(৩০), জেসমিন আক্তার(২৪), মোসা: মঞ্জিলা(৪৫) এবং সখিনা(৫০)। এছাড়া ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয় মোসা: হাজেরা বেগম(২৬) ও বিউটি(৩০) নামের আরও দু’ কথিত দালালকে।

এরা সকলেই খুমেক হাসপাতালের সামনের বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কথিত দালাল। যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ফুসলিয়ে ওইসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর নামে অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে হাতিয়ে নেন সকল অর্থ।

এদিকে, হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত অপর একটি সূত্র জানায়, দালাল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি বহি:বিভাগে ও জরুরি বিভাগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষেই মনিটর বসিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন দালালের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পক্ষান্তরে কিছু বহিরাগত ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্থানে বসিয়ে হাসপাতালের কর্মচারীদেরই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যা দালাল নিয়ন্ত্রণের নামে নতুন করে ‘দালাল’ সৃষ্টি বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।