ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | খাগড়াছড়িতে ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে জমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

খাগড়াছড়িতে ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে জমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা

khagrachari mapচাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি থেকে : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সদরস্থ ২৬২নং গোলাবাড়ী মৌজায় জিরোমাইলে একটি দালাল চক্র গোপনে সরকারী খাস জায়গা, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রাপ্ত জায়গা, এমনকি খতিয়ানভুক্ত অনেক জায়গাও তথাকথিত স্থানীয় ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট মৌজা প্রধানের প্রতিবেদন ব্যতিরেকে জমি-জমা বিক্রি করে ক্রেতাকে ঠকিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । শুক্রবার সৃষ্ট দলিল দৃষ্টে দেখা যায় যে জমির বিক্রেতা প্রথমে খাস দখলীয় জমির মালিক একজনকে সাজিয়ে তার কাছ থেকে সরকারী ষ্ট্যাম্পে বেচাবিক্রি হিড়িক সম্পাদন করে জমির মালিক বনে যায় । তারপর ক্রেতাদেরকে সম্পাদিত দলিল দেখিয়ে প্লটের আকারে অনেকটা বসু›দ্ধরা সিটি ষ্টাইলে বসতভিটা বিক্রি করে অবৈধ পয়সা কামাচ্ছে । আবার কোন কোন দলিলে দেখা যায় যে, আগের মুল মালিককেও বনে যাওয়া মালিক জমি ক্রেতা সাজিয়ে তার কাছেও নামে মাত্র আঞলিক দলিল সম্পাদন করে বিক্রি দেখানো হয় । অর্থাৎ দালাল চক্র হোতার অন্য একজনকে জমি বিক্রেতা এবং নিজেকে ক্রেতা আর এক সময় নিজে বিক্রেতা এবং অপরকে ক্রেতা এভাবে দলিল সৃষ্টি করে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে চক্রটি । এ চক্রের এমন একজন মুল হোতা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা দক্ষিন গন্জ পাড়া’র মকবুল হোসেনের ছেলে মোঃ জয়নাল ড্রাইভার ।
এ রমরমা জমি ব্যবসার শিকারে পড়েছেন অতিসহজ সরল ত্যাগী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রজ্ঞাবীর চাকমা । তার ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত ১.২০(এক একর বিশ শতক) জায়গাটি ঐ চক্রের হাতে খোয়া যাচ্ছে । এমনি ভাবে আরও কতজনের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে এখনই বলা মুশকিল । এতে জমির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা রুপ ধারন করবে । যারা এ চক্রের শিকারের পরিনত হয়েছে, তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে বিষয়টি যথাসময়ে নিয়ন্ত্রনে না আনলে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারন করা নিয়ে গোলযোগসহ নানা জটিলতা সহিংসতা সৃষ্টি’র আশংকা করেছেন বিশিষ্ট মহলের । ক্ষতিগ্রস্থরা বিষয়টি প্রতি প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন দেওয়ার কামনা করেছেন ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী কল্যান সমিতি’র সাধারন সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল জানান, বিরাজমান পরিস্থিতি’র কারনে ১৯৮৬সালে ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় । সরকারের ২২দফা চুক্তি অনুযায়ী পরে ১৯৮৮সালে বাংলাদেশে ফেরত আসলেও মেরুং ইউনিয়নের ছোট মেরুং এলাকার এরামছড়ি ও বুইয়ছড়ার নিজস্ব রেকডিয় ৩৫একর ধান্য জমি, ৫একর টিলা পাহাড় সেটেলার বাংগালীদের দখলে থাকায় এখন পর্যন্ত আর ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তির মধ্যের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে । এ রকম ৯টি থানায় অবৈধ সেটেলার গুচ্ছগ্রাম নামে ভুয়া কবুলিয়ত দেখিয়ে আদিবাসীদের হাজার হাজার জমি ও পাহাড় দখলের পায়তারা নিত্য-নৈমিত্তিক মেতে উঠেছে ভূমি খেকোরা।
খাগড়াছড়ি মং সার্কেলে’র রাজা সাচিংপ্রæ চৌধুরী  জানান, ভুমি ও ভুমি ব্যবস্থাপনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী জনগনের ভুমি সংক্রান্ত প্রথা ও রীতি যা জাতীয় ও বিশেষ আইন সমূহের স্বীকৃত । ১৯০০সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’র ৪০নং বিধি অনুযায়ী- মৌজার হেডম্যানগন সংশ্লিষ্ট মৌজার অধিবাসী কর্তৃক আনীত বিরোধীয় সকল বিষয়ের উপর বিচার পুর্বক, সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন । ৫০(১) নং বিধি অনুযায়ী- ”কোন পাহাড়ী ব্যক্তি  ডেপুটি কমিশনারের আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত ব্যতিরেকে হেডম্যানের অনুমতিক্রমে পৌর এলাকা বহিঃভূত সংশ্লিষ্ট  মৌজায় বাস্তুভিটার জন্য সর্বোচ্চ ০.৩০একর খাস ভূমি দখল করিতে পারিবেন”।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার পরিষদ বা পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯এর ৬৪(১) ধারা অনুযায়ী- ”পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তুযোগ্য খাস জমিসহ কোন জায়গা-জমি, সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের পুর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্তু, ক্রয়-বিক্রয়, বা অন্যবিধ হস্তান্তর করা যাইবেনা”। ”পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রন ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি,পাহাড় ও বনাঞল পরিষদের সহিত আলোচনা করা, উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহন ও হস্তান্তর করা যাইবেনা । ৬৪(২) ধারা অনুযায়ী- হেডম্যান, চেইম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার(ভূমি)এর কার্যাদি পার্বত্য জেলা পরিষদ তত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রন করিতে পারিবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের ২৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী : নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি ...

মির্জাপুর থানা পুলিশের অভিযানে ১ মাসে ১২২ জন আসামী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা পুলিশের অভিযানে ১ মাসে ১২২জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা ...