ব্রেকিং নিউজ
Home | রাজনীতি | ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাপ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাপ

awami-league-স্টাফ রিপোর্টার : দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের উৎসাহের শেষ নেই। নির্বাচনকে উপলক্ষে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী জোটের প্রার্থীরা। শাসক দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০০ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নিজেরই প্রায় ১৫০০ প্রার্থী রয়েছে যারা আগামী নির্বাচনে ভোটে দাড়াতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তথ্যটি জানা গেছে, নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ৩০০ আসনে প্রায় ১৫০০ প্রার্থী রয়েছে আমাদের। এসব আসনের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় নেতারা প্রায় দিনই আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, নির্বাচন আসলেই এমপি হতে আগ্রহী লোকজনের তৎপরতা বেড়ে যায়। এবারও তারা মনোনয়ন পেতে দলের প্রথম সারির নেতাদের কাছে ধর্ণা দেয়া শুরু করেছেন। দলের প্রভাবশালী নেতাদের ‘গুডবুকে’ থেকে এমপি পদের টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এসব প্রার্থীদের কেউই এখন পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পাননি। তারপরও ভোটারদের মন জয় করার জন্য তারা সমাবেশ, ব্যানার, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ততই প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড। দলীয় সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোর্ডের সভাপতি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। পরে পার্লামেন্টারি বোর্ড তাদের সাক্ষাত্কার নিয়ে থাকে। এরপর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়; কিন্তু নির্বাচনের সময় এগিয়ে এলেও দলীয় মনোনয়ন কোন প্রার্থীর ভাগ্যে জুটবে তা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, এলাকার ভোটার ও প্রার্থীদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।

 

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপিদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশিই আগামীতে মনোনয়ন পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছেছে। এছাড়া সম্প্রতি শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা অনেক মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি আসনে তিন জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চাচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের কাছে। সেই হিসেবে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ প্রায় ৯০০ প্রার্থী বাছাই করছে।  সূত্র জানায়, তৃণমূলের মতামত নেয়ার পর বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত জরিপ এবং দলের পক্ষ থেকে পরিচালিত জরিপের ফল মূল্যায়ন করে প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেয়া হবে। নভেম্বরের শুরুতেই প্রার্থীদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে যাবে বলে দলটির নেতারা আশা করছেন।

 

নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও এখন নির্বাচনী আবহ। একই চিত্র দলীয় প্রধানের কার্যালয়েও। সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ভিড় করছেন দলের কেন্দ্রীয় ও দলীয় প্রধানের কার্যালয়ে। উদ্দেশ্য দলের প্রভাবশালী নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়রাও এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন লাভে স্থানীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতণ্ডায়ও জড়াচ্ছেন কেউ কেউ।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চুয়াডাঙার দুইটি আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছেন। চুয়াডাঙা-১ আসনে ছোলায়মান জোয়াদ্দার ছেলুন ছাড়াও আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতারা বেয়াই হাসান কাদির গণু, যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন খোকন, বর্তমান এমপির ছোট ভাই পৌর মেয়র রিয়াজুল জোয়ার্দার টোটন এই আসনে আওয়ামী লীগের টিকেট পেতে চান। চুয়াডাঙা-২ আসনে বর্তমান এমপি আলী আজগর টগরের ঘাড়ে গরম নিশ্বাস ফেলছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদুল ইসলাম আজাদ, মির্জা শাহরিয়ার রহমান, সিরাজুল আলম ঝন্টু।

 

টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের অন্তত তিন জন নেতা মাঠে তৎপর। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনূছ ইসলাম তালুকদার ও ব্যবসায়ী হাসমত আলী।

 

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, মকবুল হোসেন বাবু, রফিকুল ইসলাম, ইন্দ্রনাথ রায় ও অরুনাংশ দত্ত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দবিরুল ইসলাম, হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম ফেরদৌস টগর, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু দৌড়-ঝাঁপে ব্যস্ত। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ইবাদুল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুল ইসলাম, রানী শংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সেলিনা জাহান লিটা মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

 

পাবনা-৪ আসনে বর্তমান এমপি শামসুর রহমান ডিলুর বিপরীতে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল আলম বুদু, মখলেসুর রহমান মিণ্টু, নুরুজ্জামান বিশাস, শহিদুল ইসলাম রতন, পাবনা-২ আসনে এ কে খন্দকারের বিপরীতে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক মির্জা জলিল এবং আব্দুল ওহাব।

 

এছাড়া মনোনয়নের দৌড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ নেতারা। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদ প্রশাসকদেরও অনেকেই চান আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে। এভাবে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদের ৩শ আসনেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বড়ো দলে একাধিক প্রার্থী থাকাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সালন্দর ইউনিয়নে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নে বুধবার ১০ নভেম্বর বিকাল ৩টায় সালন্দর ...

আমলাতন্ত্র এখন ‘আমলা লীগ’ হয়ে গেছে: ঠাকুরগাওয়ে মির্জা ফখরুল 

আমলাতন্ত্র  এখন আমলা লীগ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ...