Home | ফটো সংবাদ | ক্যাম্পাস কাঁপানো চার ছাত্রদল নেতা আজ ভালো নেই

ক্যাম্পাস কাঁপানো চার ছাত্রদল নেতা আজ ভালো নেই

স্টাফ রিপোর্টার : ক্যাম্পাস কাঁপানো সেই চার ছাত্রদল নেতা আজ ভালো নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ’৮০-’৯০ দশকের ডাকসাইটে এসব নেতার কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়েছেন। আবার কেউ কেউ রাজনীতিতে থাকলেও নেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে। একসময়ের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রদল নেতা সানাউল হক নীরু বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও তার কোনো পদপদবি নেই। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বছর আগে তার নিখোঁজ রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি। কামরুজ্জামান রতন এখন আর বিএনপির কোনো পদপদবিতে নেই। আবদুল মালেককেও আগের মতো দেখা যায় না।সানাউল হক নীরু। আশির দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ’৯০ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে তার সখ্যের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজার বিকল্পধারায় যোগ দেন তিনি। নরসিংদী থেকে এমপি প্রার্থীও হন।
অবশ্য এর পর থেকে আবার বিএনপির রাজনীতিতে ফেরেন। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও দেখা যায় তাকে। দলের হাইকমান্ডও এখন তার প্রতি অনেকটাই ইতিবাচক বলে জানা গেছে। সাবেক ছাত্রনেতা নীরুকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে এনে মূল্যায়ন করা হতে পারে এমন আলোচনা রয়েছে বিএনপিতে। ছাত্রদলের ওই কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন গোলাম ফারুক অভি। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনিও একই সময়ে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হন। অভি আবার আলোচনায় ফিরে আসেন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে। ’৯৬-এর নির্বাচনে বরিশাল থেকে নির্বাচন করে এমপিও হন। এর কয়েক বছর পর মডেল তিন্নি হত্যা মামলার আসামি হয়ে ফেরার জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে অভি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
রিজভী-ইলিয়াস কমিটির নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ছাত্রনেতা আবদুল মালেক। ওই সময় ছাত্রসমাজে তার ছিল ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। নিজের জীবনের সোনালি দিনগুলো ছাত্রদলের পেছনে ব্যয় করে বর্তমানে ক্ষোভ আর অভিমানে দল থেকে দূরে রয়েছেন। দলের উল্লেখযোগ্য কোনো পদপদবিতে নেই তিনি। ঢাকায় থাকলেও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে।
নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কামরুজ্জামান রতন। মূলত মালেক-রতনের নেতৃত্বেই এরশাদবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একসময়ের ডাকসাইটে এই ছাত্রনেতা পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। মাঝে দল থেকে বহিষ্কার হন তিনি। এক পর্যায়ে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়। বিএনপির সব কর্মসূচিতেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তিনি।
বিএনপির নতুন কমিটিতে কিংবা অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তার। জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি পদ পেতে পারেন বলেও রতন সমর্থকরা প্রত্যাশা করছেন।সানাউল হক নীরু বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি। এখন বিএনপি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে নেতার চেয়ে দক্ষ কর্মীর দরকার। তিনি বলেন, গোটা বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে হবে। অঙ্গসংগঠনগুলোকে গোছাতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভয়ানক অভিযানে মিম!

বিনোদন ডেস্ক :  এক আলোকচিত্রে দেখা যাচ্ছে আগাগোড়া শরীর কালো পোশাকে ঢাকা ...

শ্রীলঙ্কায় বন্যা, ভূমিধসে নিহত ১০০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ...