ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | কোন বিষয়ে আবেদন করা হবে বুঝে উঠতে পারছেন না কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা

কোন বিষয়ে আবেদন করা হবে বুঝে উঠতে পারছেন না কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা

স্টাফ রিপোর্টার : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ডের চূড়ান্ত রায় পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু ঠিক কোন বিষয়ে আবেদন করা হবে সে বিষয়ে এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। তবে পর্যালোচনার আবেদনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়ে একমত হয়েছেন আইনজীবীরা।আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের ফাঁসির চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। পরদিন ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি হয় মৃত্যু পরোয়ানা আর তা পড়ে শোনানো হয় কামারুজ্জামানকে। আর সেদিন থেকেই রায় পর্যালোচনার ১৫ দিন ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
কতদিনের মধ্যে রিভি্উ আবেদনের শুনানি শেষ হতে পারে এই সম্পর্কে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আদালতের এখতিয়ার। রিভিউ আবেদন পূর্ণাঙ্গ রায়ের রেকর্ডে বড় ভুল থাকলে তার বিরুদ্ধে রিভিউ করা যাবে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা যাবে না’।

তবে এই আবেদনের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকর করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এই আবেদন খারিজ হয়ে গেলেও দণ্ড কার্যকরে আরও সময় লাগতে পারে যদি তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই আবেদনের নিস্পত্তি হতে সময় লাগতে পারে আরও সাতদিন।অবশ্য কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয় এখনও। এই আবেদন করতে হলে কামারুজ্জামানকে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ স্বীকার করে নিতে হবে। আর এটা করলে জামায়াতের জন্য বিব্রতর হবে বলে মনে করছেন তার আইনজীবীরা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে রায় পর্যালোচনা কবে করবেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, অ্যাটর্নি জেনারেল যে সময়ের কথা বলেছেন, সেটা তার নিজ ব্যখ্যা। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর থেকে ১৫ দিনের ক্ষণ গণনা শুরুর হবে বলে দাবি করছেন তারা।কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আগামী শনিবার ৭ মার্চ। তিনি জানান, এর মধ্যে রায় পর্যালোচনার আবেদন না পেলে রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের আগেও এমন একটি বিতর্কে মেতেছিলো রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ। রায় পর্যালোচনার আরও সময় আছে দাবি করে আদালতে যেতে কালক্ষেপনের চেষ্টা করছিলেন কাদের মোল্লার আইনজীবীরা। পরে প্রশাসন ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিলে তড়িঘড়ি করে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন নিয়ে যায় জামায়াতের আইনজীবীরা। সে আবেদন নাকচ হলে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কার্যকর হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ড।

তাহলে রায় পর্যালোচনার আবেদন কবে করতে যাচ্ছেন?- জানতে চাইলে কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মুনিরের  বলেন, ‘সময় হলেই আমরা আবেদন করবো’। আবেদনে ঠিক কোন বিষয়গুলো তুলে ধরবেন আপনারা-জানতে চাইলে শিবিরের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘প্রাথমিক বিবেচনায় আমাদের কাছে যেটা ভুল মনে হয় সেগুলো আমরা তুলে ধরব। আর মাননীয় আদালত যদি সেটি বিবেচনায় আনে তাহলে সেগুলোর আবার শুনানি হতে পারে’। ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেয়া মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা দেয় কামারুজ্জামানকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিমানে উঠার পর দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন নাসির

স্পোর্টস ডেস্ক: ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিতে বুধবার রাত ১১.১৫টায় ...

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশ সফররত ...