Home | জাতীয় | কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সাধারণ শিক্ষার্থীদের

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সাধারণ শিক্ষার্থীদের

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

আন্দোলনকারীরা শাহবাগের জাতীয় গ্রন্থাগার থেকে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে।

আন্দোলনকারীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান করছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে মানববন্ধন করেছিল চাকরিপ্রত্যাশী বেকাররা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, কমসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য বেশি কোটা সংরক্ষণে একদিকে বেকার সমস্যা কমছে না, অন্যদিকে ৫৬ শতাংশ কোটায় নিয়োগ দেওয়ার প্রার্থী না পাওয়ায় আবার আসন খালি থেকে যাচ্ছে। তাই বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে একযোগে কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশী বেকাররা।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বড় জমায়েতের পাশাপাশি সব কলেজে কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করার পর বেকার জীবন যাপন করা চাকরিপ্রত্যাশীরা।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈঠক করে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একত্রিত হয়ে নিজেদের প্রস্তুতি ও অবস্থান জানান দিচ্ছে তারা। কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানীর বাইরে থেকেও অনেকে ঢাকায় আসছে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটা সংস্কারের বিষয়ে তারা প্রথমে ১০ দফা দাবি জানালেও এখন দাবি পাঁচটি। দাবিগুলো হচ্ছে—কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদে মেধায় নিয়োগ দেওয়া, নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া এবং চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।

২০১৩ সালে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন জেগে উঠলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগের বছর হওয়ায় ছাত্রদল-শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছাত্রলীগ পিটুনি দিলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এবার আবার নির্বাচনের বছরে কোটা সংস্কার দাবিতে মাঠে নেমেছে তরুণ বেকাররা, যারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও নিয়োগ না পাওয়া বা উত্তীর্ণ হতে না পারার জন্য তারা কোটা সংরক্ষণকে দুষছে।

তবে তরুণ বেকাররা জানিয়েছে, কোটা সংস্কার দাবি যৌক্তিক মনে হওয়ায় এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অনেক নেতাও এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। তারাও একত্রে এই আন্দোলন করবেন বলেও সম্মতি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কোটা সংরক্ষণের কারণে ২৮তম বিসিএসে ৮১৩টি, ২৯তম ৭৯২টি, ৩০তম ৭৮৪টি, ৩১তম ৭৭৩টি আর ৩৫তম বিসিএসে ৩৩৮টি পদ খালিই থেকেছে। তবে ৩৬তম বিসিএসে কোটা পূরণ না হওয়ায় ৩৭তম থেকে তা পূরণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে এখন ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনির জন্য কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, সব জেলার জন্য ১০ শতাংশ আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। আর ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ...

স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচ ড্র : রোনালদোর হ্যাটট্রিক

রাশিয়া বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচ ড্র করেছে স্পেন ও পর্তুগাল।উত্তেজনায় ঠাসা এই ...