Home | ফটো সংবাদ | কোটা থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও আন্দোলনে নামার পেছনে ‘রাজনীতি’ আছে: হাছান মাহমুদ

কোটা থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও আন্দোলনে নামার পেছনে ‘রাজনীতি’ আছে: হাছান মাহমুদ

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পরও আন্দোলনে নামার পেছনে ‘রাজনীতি’ আছে বলে মনে করেন হাছান মাহমুদ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কথা বলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো কোটা থাকবে না। গত ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রী সংসদে একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।

তবে কোটা আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন চাইছেন আর এই দাবিতে আবার মাঠে নামার ঘোষণা ছিল তাদের। তবে এবার ছাত্রলীগের প্রতিরোধের মধ্যে পড়েছে তারা। শনিবার এবং সোমবার দুই দফা আন্দোলনকারীদের নেতাদেরকে পেটায় তারা।

এর মধ্যে কোটা আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতা রাশেদ খাঁন সামাজিক মাধ্যমে সাড়ে ১৮ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দেন। কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ এনে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এতদিন পরে কোটা আন্দোলনকারীরা সবর হওয়ার পেছনে রাজনীতি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যে তাদের যে বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে তাতে স্পষ্ট।’

প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ জুন বলেছেন, কোটা থাকবে না, তবে এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতি চট করে বাতিল করা যায় না। এ নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে এবং তারা প্রতিবেদন দিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একদিকে কোটা বাতিলের আরেক দিকে কোটা বহালের আন্দোলন চলছে। সরকার শুধু একপক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেবে না। সরকারকে সবার কথা শুনতে হবে।’

‘এই পদ্ধতি বাতিল করতে হলে সরকারকে চিন্তা-ভাবনা করে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। কোনো অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠী যাতে বৈষম্যের শিকার না হয়। যাতে সবার মতের প্রতিফলন ঘটে। শুরু থেকে সে বিষয়গুলোকে খেয়াল রাখতে হবে।’

‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে চাকরিতে কোটা পদ্ধতি চালু হয়। সাড়ে চার দশক ধরে এ পদ্ধতি চালু রয়েছে। সেটা বাতিল করতে হলে কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। আমরা কয়েকজন মিলে শাহাবাগে আন্দোলন করলাম, কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলন করলাম। আর সাথে সাথে কোটা বাতিল করে দিল সরকার। সেটা তো হয় না।’

কোটা আন্দোলনে বিএনপি বাতাস দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন হাছান মাহমুদ। বলেন, ‘নিজেদের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন কোটা আন্দোলনকারীদের ঘাড়ে ভর করেছে। এই আন্দোলনে বাতাস দিয়ে রাজনীতিতে ঠিকে থাকার চেষ্টা করছে দলটি।’

‘ফখরুল সাহেবরা তাদের কাধে ভর করে রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন আর সরকার সে ফাঁদে পা দেবে সেটা হয় না।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে  আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য ইদ্রিস মল্লিক, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন  প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল ভারত। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ...

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যোগদান করলেন প্রথম মহিলা ইউএনও মাসুমা আরেফিন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে প্রথম মহিলা ...