Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কোটালীপাড়ায় বিয়ে করে বিপাকে যুবক, মিথ্যা মামলার শিকার

কোটালীপাড়ায় বিয়ে করে বিপাকে যুবক, মিথ্যা মামলার শিকার

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : সাত বছর ধরে প্রেম । অতপর বিয়ে করে বিপাকে পড়েছে এক যুবক। মেয়ের প্রভাবশালী পিতার মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ওই যুবক ও তার আত্মীয় স্বজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।

জানা গেছে, উপজেলার ঘাঘর বাজারের ব্যবসায়ী শংকর সাহার ভাগ্নে তারক সাহার সাথে একই বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন সাহার মেয়ে লোপা সাহার দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে গত ১২ জুলাই তারক ও লোপা গোপালগঞ্জ খাটরা সার্বজনীন কালী মন্দিরে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এর পর একই মাসের ১৫ তারিখে দু’জনে মিলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ্যাফিডেভিট করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লোপার পিতা স্বপন সাহা গত ২০ আগস্ট লোপাকে দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। এর ৯দিন পর গত ২৯ আগস্ট লোপার পিতা স্বপন সাহা গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে তারক সাহা ও তার তিন মামা এবং খালাতো ভাই পরিতোষ সাহাকে আসামী করে একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোটালীপাড়া থানাকে এফআইআর হিসেবে গন্য করার নির্দেশ দেন। কোটালীপাড়া থানা গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি এফআইআর করেন। এই মামলার পরে তারক এবং তার আত্মীয় স্বজন এলাকা ছেলে পালিয়ে যান।

তারক সাহা বলেন, আমার শশুর স্বপন সাহা জোর করে আমার স্ত্রীকে আটকিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া তিনি আমাকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমাকে ও আমার আত্মীয় স্বজনদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

শংকর সাহা বলেন, আমার ভাগ্নের বাড়ি মুকসুদপুর উপজেলায়। সে আমার দোকানে কাজ করে। তার প্রেম ও বিয়ে সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। স্বপন সাহা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে।

এ ব্যাপারে স্বপন সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

কোটালীপাড়া সাহা সম্প্রদায়ের অভিভাবক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি যশোদা জীবন সাহা বলেন, কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক দু’জন ছেলে মেয়ে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে বা পুরোহিতের উপস্থিতে ছেলে মেয়েকে শাখা সিঁদুর পড়িয়ে দিলে সেটি বিবাহ হিসেবে গন্য হয়।

তিনি আরো বলেন, এ্যাফিডেফিটের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর ধর্মীয় কোন বিধান নেই।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

স্টাফ রির্পোটার : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উপলক্ষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকাসহ সারাদেশে ১ ...

২১টি ‘বিশেষ’অঙ্গীকার নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা আওয়ামী লীগের

স্টাফ রির্পোটার :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২১টি ‘বিশেষ’অঙ্গীকার নিয়ে ...