ব্রেকিং নিউজ
Home | শিল্প সাহিত্য | ফিচার | কে লিখবে মফস্বল সংবাদকর্মীদের কষ্ট?

কে লিখবে মফস্বল সংবাদকর্মীদের কষ্ট?

গৌতম চন্দ্র বর্মন

মা বলছে ছেলেকে কিরে খোকা এবারে পুজায় আমাকে শাড়ি কিনে দিবেতো সারাদিন ক্যামেরা আর একটা মাইক্রোফোন নিয়ে হোন্ডা নিয়ে ঘুরে বেড়াস রাতে ফিরে আমাকেতো টাকা দিস না বোমাকে টাকা রাখতে দিসতো সামনেতো পুজা কিছুইতো বলিস না বুঝতে পারছিনা?

কি করবো বল মা, এটা যে আমার কর্তব্য সময় মত খবর প্রকাশ না করতে পারলে চলবে কি করে। আমরা যে এ কাজের জন্য সামান্য কিছু বেতন পাই আবার কেউ পায়না মা।আর তুমি পুজায় শাড়ি চাচ্ছো তাঁতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসচ্ছে।

শুনছিলাম মা এবার নাকি সাংবাদিকরা করোনার কারনে প্রোনোদনা পাবে,আমিও পাবো মনে করেছিলাম আর সেটাকা দিয়ে তোমাকে ভাল একটা শাড়ি কিনে দিব। কিন্তু সে টাকা আমি পেলাম না কারন হয়ে দাড়ালো আমি যে উপজেলার
আর কে বা লিখবে আমাদের এ কথার গল্প মা।

স্ত্রী রাখো তোমার এসব কথা আগের রাতে নিউজ কভার করতে গিয়ে সারারাত ফিরলে না, ফোনটাও তোমার বন্ধ। তোমার চিন্তায় সারারাত আমি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমাদের অপেক্ষার বেতন কত পেলাম তাহলে।

ছেলে টাও সারারাত বাবা বাবা বলে কাঁদছিল,পাবেই বা কত বেতন। শোন আমরা সংবাদকর্মী এটা নিয়ে ঠিকমতো অনেক অভিজ্ঞতার ব্যাপার বুক ফুলিয়ে বলতে তো পারো তোমার স্বামী একজন সংবাদকর্মী।

আরো দশটা পেশার মত আমাদের টাও দেশের জন্য খুবই দরকার। আমরা খবর সংগ্রহ করে প্রিন্ট ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় প্রকাশ করি বলেই তো তোমরা ঘরে বসে সব কিছু জানতে পারো। এখান থেকে অনেক দূরের এখন কি হচ্ছে, মা নারে বাবা সেদিন তোর ছেলেকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম নতুন জামার জন্য খুব বায়না ধরেছে,আর তুমি যে টাকা দাও তাতেতো জামা কিনে দিলে এমাস না খেয়ে থাকতে হবে।তাই আমি কোন মতে বুজিয়ে নিয়ে আসচ্ছি। তারপর তুমি সারাদিন না খেয়ে থাকলে আমি দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি তোর একটা কিছু হয়ে গেল গত বছর বছর ঝামেলায় জড়িয়ে পায়ের একটা চোট নিয়ে বাড়ি ফিরলি, এই রক্তের দাম কি কেউ তোমাকে দিয়েছে।

ছেলে জন্য এত চিন্তা করো নাতো মা না বাবা আমার মত তুমিও একদিন যখন হবে তখন আমার কথা বুঝবে। মা তুমি আর তোমার নাতি  এরকম করলে তোমার বৌমা তো ছেলেমানুষি করবেই ওদেরকে তো তুমি ভরসা দিবে মা,ছেলে আচ্ছা ঠিক আছে? সাবধানে থেকো মা এখন যে করোনার  উপদ্রব তাতে বাড়ি থেকে একদম বেরিও না। এখন আমি আসি মা,এই তোমরা খেয়ে নিও স্ত্রী যাবার সময় ব্যাগটা কাধে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিন বছরের ছেলেটা  হাতের আঙ্গুল ধরে বলল আমার জন্য কি আনবে বাবা, আর কখন ফিরবে তুমি, জানো বাবা তোমার যখন আসতে দেরি হয় তখন মা আর দিদি খুব চিন্তা করে আচ্ছা বাবা খুব তাড়াতাড়ি আসবো।

এখন আসি একথা বলে বেরিয়ে গেল,এরপর শুরু হলো জেলার সংবাদকর্মীর মত উপজেলার সংবাদকর্মীরা পাঠকের খবর জোগাড়ের দৌড়, এভাবেই প্রতিদিন তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে ওদের দেখা হয় কতশত খবর সংগ্রহ নিয়ে আসে তারা, আজ কে খুন হলো, কে মাঝ রাস্তায় পড়ে মারা গেল, কার নামের পাশে উপাধি যুক্ত হল, কোন শিশুটা রাস্তার পাশে জলসায় থেকে উদ্ধার হল। এতসব খবর ওরা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে। আবার খবর মন মত না হলে শুনতে হয় অফিস থেকে নানা কথা। তখনো হায়ার লেভেল থেকে শুনতে হয় অনেক কথা। কিছু ভুল খবর প্রকাশিত হলে জনগণের রেশে পড়তে হয় সংবাদকর্মীদের।

খরা বন্যা বজ্রপাতে ওদের থামতে মানা, কারণ ওরা থেমে গেলে দেশ থেমে যাবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে কে কখন কোথাও বিশাল কোন জনসভাতে উপরতলার মানুষের সামান্য কথা তুলে ধরবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়তে হয় তাদের। তবুও হয়তো অনেক সময় দেখা মিলে না উপর তলার লোকদের সাথে।

আসলে ওদের নিজেদের কাজটাই ওরকম। সবার জন্য সমানভাবে খবর দেয়ার চেষ্টা করলেও সামান্যতম ভুলভ্রান্তি তে ওদের নিয়ে চুল ছেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়, সঠিক খবর সঠিক সময় পৌঁছে দেয়ার জন্য বনে জঙ্গলে বাজারে শহরে নদীতে যেখানে সেখানে বিধি নিষেধ শর্তেও ওদের চলতে হয়। দুই পক্ষের মাঝখানে ও কখনো কখনো মাথা ফাটিয়ে আসতে হয় তাদের।

সংবাদকর্মীরা  প্রতিনিয়ত হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে আপডেট জোগাড় করে আমাদের জন্য আজ কতজন করোনায় পেশেন্ট বাড়লো আমরা বাড়িতে বসে সব পেয়ে যাই। তার জন্য ওরা প্রাণপর লড়াই করে ওরা মৃত্যু জানের পিছু পিছু ছুটতে থাকে শেষ দৃশ্যটা কাভার দেওয়ার জন্য ওরা সংবাদকর্মী  রোবট না কিন্তু, তার পরেও ওদের নিয়ে মজা করে এবং ওদের কে নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেন।

একবার ওদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন উপজেলার সাংবাদিকদেরোতো পরিবার আছে, তাদের জীবনের মূল্যতো আছে? কেনই বা পেলনা করোনার প্রনোদনা সে কথা আজো ঘুরপাক খাচ্ছে? অথচ ওরা নিজেও জানেনা আজ বেরিয়ে গেলেও আগামী কাল আদৌ ফিরবে কিনা, আপনার বাড়ীর ছেলেরা যতটা ইনভাইট গাল করে ওরাও কিন্তু ততটাই পরিশ্রম করছে ওই জায়গায় দাঁড় করার জন্য ওদেরকে অনেক খরকুঠো কুড়াতে হয়েছে সংবাদকর্মূরা শুধু বেতন ভক্ত কর্মচারী না

ভেবে দেখুন ওদেরও একটু সম্মান দিন। ওরা পেটের দায়ে এসব কাজ করছে তা নয় অনেক সাংবাদিক বেতন পর্যন্ত পায়না। ওরা একটা ভালোবাসার জায়গা অনেক পরিশ্রম করে তবেই এই জায়গা অর্জন করেছে। আমরা তো বাড়িতে বসে এসব খবর দেখি আর ওরা মৌমাছির মতো খবর সংগ্রহ করে আনেও  আমরা সব সময় সবকিছু সবার আগে জানাতে জানতে পারি।তারপরোও এবার করোনার নামে প্রেরিত প্রেরণা কেনই যে উপজেলা সংবাদকর্মীরা পেলনা?

 

[প্রিয় পাঠকপাঠিকা, আপনিও বিডিটুডে২৪.কম এর অংশ হয়ে উঠুন শেয়ার করুন নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করুন নিজের প্রতিভা আপনিও হতে পারেন লেখক অথবা মুক্ত সাংবাদিক সমকালীন ঘটনা, সমাজের নানান সমস্যা, জীবন যাপনে সঙ্গতিঅসঙ্গতি সহ লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ঘরোয়া টিপস্ বিভিন্ন বিষয়ে বস্তনিষ্ঠ অপনার যৌক্তিক মতামত সর্বোচ্চ ১০০০ শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখে আপনার নিজের ছবি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ (যদি থাকে) মেইল করুন bdtoday24@gmail.com ঠিকানায় লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পর্তুগালে বৃহত্তর ফরিদপুর এসোসিয়েশনের কমিটির অভিষেক ২০২২ অনুষ্ঠিত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ বৃহত্তর ফরিদপুর এসোসিয়েশন এর ...

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...