Home | জাতীয় | কেউ আইন মানে না, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কীভাবে?’

কেউ আইন মানে না, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কীভাবে?’

স্টাফ রির্পোটার : ঢাকার মানুষ আইন মানে না, তাদেরকে যারা বাধ্য করবেন, সেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও উদাসীন। এই অবস্থায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

শনিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ট্রাফিক সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, কীভাবে শৃঙ্খলা আসবে, সেটা জানেন না তিনি। এই সংশয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কেউ যেখানে আইন মানে না, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা কীভাবে ফিরে আসবে?’।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন থেকে নিরাপস সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে সড়কে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে আসে। সরকার সড়ককে নিরাপদ করার পাশাপাশি যান ও পথচারী চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ওই আন্দোলনের পর থেকে ঢাকায় কাগজপত্র এবং গাড়ির ফিটনেসের সমস্যা আছে এমন যানবাহন চলাচল দৃশ্যত বন্ধ হয়েছে, তবে এতে আবার চলাচলের দুর্ভোগ বেড়েছে। পর্যাপ্ত বাসের অভাবে গাড়িতে উঠাই কষ্টকর হয়ে গেছে।

এর মধ্যে পুলিশ আবার পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে বিশেষ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে, ট্রাফিক আইন নিয়ে সচেতনতা গড়তেও নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

এর অংশ হিসেবেই সাপ্তাহিক ছুটির দ্বিতীয় দিন শাহবাগ মোড়ে চালানো হয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি। যানবাহন চালকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় লিফলেট। পথচারীদেরকে অনুরোধ করা হয় যেখান সেখান দিয়ে রাস্তা পারাপারের বদলে নির্ধারিত এলাকা বিশেষ করে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের।

যানবাহন এবং পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাচলের বিষয়টি নতুন নয়। এই ধরনের অনুরোধ আর অভিযানও চালানো হয়েছে কতবার সেটি গুণে শেষ করা যাবে না। কিন্তু ফল আসেনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পথচারীরা আইন মানে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও আইন মানে না। আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক চাপ সহ্য করতে হয়। অনেক সময় পেছন থেকে টেনে ধরতে চায়।’

‘প্রভাবশালীদের কারণে রাস্তায় বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। কখনও আমরা সেটা উপেক্ষা করতে পারি কখনও বা আমাদেরও আপস করতে হয়।’

‘অনেক পুলিশ সদস্যই ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য অর্থাৎ কোন পুলিশ সদস্য যদি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে তাকে এক চুল, এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল ইলসাম এবং বাস চালক এবং পরিবহন মালিকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সচেতনতামূলক এই লিফলেটে যেসব স্থানে হর্ন বাজান নিষিদ্ধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় বিষয় ও নির্দেশনাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্টো দিকে গাড়ি না চালানো, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক না করা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা, বেপরোয়াভাবে গাড়ি না চালানো, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো, যেখানে সেখানে ওভারটেকিং না করা, শারীরিক ও মানসিকভাবে অনুপযুক্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানোর অনুরোধ করা হয় লিফলেটে।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হর্ন না বাজাতে অনুরোধও করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল উপাসনালয়, আবাসিক এলাকা বা যে কোনো সংরক্ষিত এলাকায় হর্ন বাজানে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তুলে ধার জানানো হয়, রাত ১১ টার কোথাও হর্ন বাজানো যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল ভারত। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ...

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে যোগদান করলেন প্রথম মহিলা ইউএনও মাসুমা আরেফিন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে প্রথম মহিলা ...