ব্রেকিং নিউজ
Home | শিল্প সাহিত্য | ফিচার | কৃষকদের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক অমল সেন স্মরণে আমাদের বাসুদা আমাদের বাবুদা

কৃষকদের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক অমল সেন স্মরণে আমাদের বাসুদা আমাদের বাবুদা

ফরহাদ, নড়াইল প্রতিনিধি, ১৭ জানুয়ারি, বিডিটুডে ২৪ডটকম ॥  তার নাম বাসু হলে গ্রামের মানুষ এ নাম ধরে ডাকতেন না। তাদের (গ্রামের মানুষ) কাছে তিনি (বাসু) ছিলেন ‘বাবুদা’। সবার প্রিয় ‘বাবুদা’ বা ‘বাসুদা’ আমাদেরই ‘অমল’দা। শোষিত শ্রেণির অধিকার আদায়ে গণ-মানুষের এক অনন্য বিপ্ল¬বী নেতা।

‘অনুশীলন’ গ্র“পের নেতা সুশীল বসুর মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন সবার প্রিয় বাবুদা (অমল সেন)। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র (মতান্তরে নবম)। অমল সেন এ সময় নির্যাতিত-নিপীড়িত কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদারী শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলেন। নড়াইলের আফরা গ্রামের বিখ্যাত সেন পরিবার তথা জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও শোষক শ্রেণির (জমিদার) বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। জমিদার-গাতিদার ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। লক্ষ্য ইংরেজমুক্ত করা। এ কাজে বৃহত্তম জনগোষ্ঠী শ্রমিক ও কৃষকদের সংগঠিত করেন। তখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে ইংরেজ সরকার হিন্দু ও মুসলমান পরস্পরকে উসকে দেয়ার নানা অকৌশলে ব্যস্ত। ইংরেজদের এ অপকৌশল পরাস্ত করতে শুরু করেন কৃষক আন্দোলন। এই সময় জমিদারদের জমি ব্যাপকহারে বর্গাচাষ করতেন এ দেশের কৃষকেরা। এক্ষেত্রে কৃষকদের কোন সহযোগিতা করতেন না জমির মালিকরা। বিনা পয়সায়, বিনা খরচে জমির অর্ধেক ফসল নিয়ে যেতেন জমির মালিক জমিদাররা। কৃষকেরা বঞ্চিত হতেন তাদের কষ্ট ও পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল থেকে। কৃষকদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১৯৩৩ সালে অমল সেন তার পরিবার, সমাজ ও শ্রেণিস্বার্থের  বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। নিজ বাড়ি আফরা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বাঁকড়ী গ্রামের রসিকলাল ঘোষের বাড়িতে আশ্রয় নেন। শুরু করেন বঞ্চিত কৃষকদের অধিকার আদায়ের যুদ্ধ।

কৃষকদের তে-ভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তী নায়ক অমল সেন জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও কৃষকঘরেরই সন্তান হয়ে উঠেন। একআত্মা হন কৃষক ও শোষিত শ্রেণির। তখন কৃষক আন্দোলন এতটাই শক্তিশালী হয়েছিল যে তৎকালীন জোতদার-জমিদাররা কৃষকদের তে-ভাগার দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন। তবে, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তার জীবনের ১৯বছরই কেটেছে কারাগারে। তিনি মুক্তিযুদ্ধেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শত্র“র সাথে কখনও আপোষ করেননি। আপোষ করেননি নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে।

অমল সেন কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেমে যশোর জেলার বাঘারপাড়ার বাঁকড়ী বহুমুখী বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। মৃত্যুর পর (২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি) তার কর্মস্থল বাঁকড়ীতেই তাকে সমাহিত করা হয়। এদিনটি (১৭ জানুয়ারি) ঘিরে বাঁকড়ী পরিণত হয় গণ-মানুষের মিলন মেলায়। বহুপ্রাণের সমাগমে এ মেলায় ছড়িয়ে যায় শোষিত শ্রেণির আবেগ আর অনুভূতি। অমল সেনের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রতি বছর উচ্চরিত হয়-সাম্রাজবাদী আগ্রাসন, পুঁজিবাদী শোষণ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে দীপ্ত শপথ। কমরেড অমল সেন তার জীবনদ্দশায় লিখেছেন ‘নড়াইলের তে-ভাগা আন্দোলনের সমীক্ষা’, ‘সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমস্যা’, ‘কমিউনিস্ট জীবন ও আচরণরীতি প্রসঙ্গে’, ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’, ‘কমিউনিস্ট আন্দোলনের আদর্শগত বির্তক প্রসঙ্গ’সহ বিভিন্ন বই-পুস্তক। ১৯১৪ সালের ১৯জুলাই নড়াইল শহর সংলগ্ন আউড়িয়ায় (মামাবাড়ি) জন্ম তার। ছিলেন জমিদারের সন্তান। তবে, খুব সাদাসিধে জীবন তার। নড়াইল সদরের আফরার সন্তান চিরকুমার অমল সেনকে তাই স্পর্শ করেনি জমিদারদের আভিজাত্য আর গৌরব।

x

Check Also

জেলাবাসীর গৌরব হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ

বিডিটুডে ডেস্ক : চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী জনপদের নাম হাজীগঞ্জ। এখানকার জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ মুসলমান। ...

পদ্মাতীরের ময়নাপাড়ার মাঠ

বিডিটুডে ডেস্ক : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজ থেকে প্রায় একশত উনিশ বছর আগে বর্ষাকালে, ...