ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আবহাওয়া | কুয়াশা ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

কুয়াশা ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

স্টাফ রির্পোটার : সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। কুয়াশা ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে দেশের সর্বউত্তরে শীতের দাপটে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে।

কুয়াশার কারণে অনেক জায়গায় সূর্যের দেখা মিলছে না। হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করেছে। নৌ চলাচলও বিঘ্ন ঘটেছে। কুয়াশা আর তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগ-ব্যাধিতে ভুগছেন। শীতের এমন পরিস্থিতি আরও দুই দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামতে পারে।

জানা যায়, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুরের ওপর দিয়ে কয়েকদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে হিমেল বাতাস। ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ না হলেও দুই দিন ধরে কনকনে শীত শুরু হয়েছে।

পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও দিনাজপুর , হিমালয় থেকে বয়ে আসা শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উত্তরের সব জেলাতে এখন দিনরাত বইছে শীতল হাওয়া।

পঞ্চগড় ছাড়া উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা এখনো দুই অঙ্কের মধ্যে থাকলেও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা এক অঙ্কে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া কোনো কোনো জেলায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতেও নামতে পারে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে। ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকতে পারে।

পঞ্চগড় জেলা সদরসহ উত্তরের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়া ঘুরে দেখা যায়, হিমেল হাওয়ার কারণে দিনের শেষে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত গরম কাপড় ব্যবহার করছে স্থানীয়রা। রাতে রাস্তাঘাটে নীরবতা নেমে আসছে। ফুটপাতেও গরম কাপড়ের বেচা-কেনা শুরু হয়েছে।

কুয়াশার জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত নিম্নআয়ের মানুষদের শীত নিবারণ করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই রাতে ও ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ফরহাদ নামে এক রিকশাচালক বলেন, শীতের কারণে সকাল এবং সন্ধ্যার পর রিকশা চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দিনদিন শীতের সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্বও বাড়ছে।

কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদী অববাহিকার চার শতাধিক চরের মানুষ শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগে পড়েছেন। গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো গরম কাপড়ের অভাবে পড়েছে বিপাকে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। স্বল্প আয়ের মানুষেরা ভিড় করছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানে। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শিশুদের নানা রোগ-ব্যাধি নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন।

রংপুর জেলাতেও শীতের তীব্র প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দিনের বেলায় মাঝেমধ্যে দুই-একবার সূর্য দেখা গেলেও তা মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘শীতের কারণে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। দরজা খোলামাত্রই হু হু করে শীতল বাসায় ঘরে ঢুকছে। বাতাস এমন ঠান্ডা যে মনে হয় শরীর ফ্রিজের মতো হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে তীব্র শীতের কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর হাসপাতালে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেশি।

রংপুরের পীরগাছায় এক সপ্তাহে ৮৩ জন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু আল হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় দিনে গরম ও রাতে শীত পড়ার কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে।’

তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখিরও প্রাণ ওষ্ঠাগত। শীতের কারণে গৃহপালিত এসব পশু-পাখি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা বিসিবির

ক্রীড়া ডেস্ক : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সবধরনের ক্রিকেট ইভেন্ট স্থগিত করা ...

বাংলাদেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত

স্টাফ রির্পোটার :বাংলাদেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যারা একই পরিবারের ...