Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ৮ বছর, এখনও ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ৮ বছর, এখনও ন্যায় বিচারের আশায় পরিবার

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম সীমান্তে আলোচিত সীমান্ত হত্যাকান্ড কিশোরী ফেলানী হত্যার ৮ বছর পুর্ণ হলো। কিন্তু দেশ-বিদেশে আলোচিত এ হত্যা কান্ডের বিচার ভারতের উচ্চ আদালতে গড়ালেও এখনও ন্যায় বিচার পায়নি তার পরিবার। ন্যায় বিচারের আশায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করে যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দু’দফায় বেকুসর খালাস দেয় বিএসএফ’র বিশেষ আদালত।

এদিকে ফেলানী হত্যার পর থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জের নিজ বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে তার বাবা নুরুল ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, আমার মেয়েকে বিএসএফ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার দিয়েছিলাম বাংলাদেশ সরকার, ভারত সরকারের নিকট। কিন্তু এখনও ন্যায় বিচার পাইনি। এদিকে সেসময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার বাকী দুই মেয়ে ও তিন ছেলে লেখাপড়ার খরচ দেয়ার কথা বলে গেলেও আমি আর কোন সহায়তা পাই নাই। এখন খুব কষ্ট করে এই ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া করাচ্ছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় বসে আছি।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাটাতারের বেড়ায় নির্মমভাবে খুন হয় কিশোরী ফেলানী। ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত ফেলানীর মরদেহ কাটাতারেই ঝুলে থাকে দীর্ঘ ৪ ঘন্টা। ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশের ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে সমালোচনার ঝড় তোলে। সেসময় বিজিবির দাবীর মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। ফেলানীর বাবা দুদফা বিএসএফ’র আদালতে স্বাক্ষী দিয়ে আসলেও ঐ বছর ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। রায় পুর্নবিবেচনার বিজিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পুনর্বিচারে আবারও অমিয় ঘোষ খালাস দেয় বিশেষ আদালত।

বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে কন্যা হত্যার ন্যায় বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের আইনজীবি অপর্নাভাট ও মানবাধিকার সংগঠন মাসুম’র সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট করেন নুরুল ইসলাম। এখন ন্যায় বিচারের তাকিয়ে আছেন আদালতের দিকে।

ফেলানীর নির্মম হত্যাকান্ডের কথা এখনও ভুলতে পারেননি তার স্বজনরা। তাদের দাবী এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচারসহ সীমান্ত হত্যা বন্ধের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাগেশ্বরীর ৩ ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা অর্থ সহায়তা পাবে ১কোটি ৩০লাখ টাকা

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : বাংলাদেশের উত্তারাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্টির জরুরী সহায়তা প্রকল্পের ...

বাংলাদেশি সিনেমা থেকে কতো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সানি লিওন?

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করবেন বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন। এরই মধ্যে ...