Home | সারা দেশ | কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম, উদ্দিশ্য ব্যাহত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম, উদ্দিশ্য ব্যাহত

অনিরুদ্ধ রেজা,কুড়িগ্রাম : অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের কাজে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্যাপক অনিয়মের কারনে কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অধিকাংশ প্রকল্পে সচ্ছলদের নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। অনুপস্থিত শ্রমিকদের কাগজে কলমে উপস্থিত দেখিয়ে অর্থ আতœসাত করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৪০দিনের মধ্যে ২০দিন অতিবাহিত হলেও কোন তদারকী কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)কে সরেজমিনে কাজ দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ডে ৩ হাজার ২৮৭ জন শ্রমিকের মাধ্যমে উক্ত প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর এপ্রিল মাসের শুরু থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ২কোটি ৬৫লাখ টাকার বিপরীতে কর্মসৃর্জন কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কাজের শুরু থেকেই কাগজে কলমে উল্লেখিত শ্রমিকের তুলনায় বাস্তবতার মিল নেই। এসব প্রকল্পে অনেক কম শ্রমিক ব্যবহার করে অনুপস্থিত শ্রমিকদের নামে বিপুল পরিমান সরকারী টাকা আতœসাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোন কোন প্রকল্প চেয়ারম্যানের ঘনিষ্টজন ও সচ্ছল ব্যাক্তিদের নাম তালিকায় ব্যবহার করায় প্রকৃত হতদরিদ্রদের অনেকেই এতে অংশ গ্রহন করতে না পেরে সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মসৃজন শ্রমিকদের তালিকায় রেশনিং কার্ড সহ সরকারীভাবে অন্যান্য সুবিধাভোগীদের নাম টাকার বিনিময়ে অন্তর্ভূক্তেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ প্রকল্পে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তালিকাভূক্ত শ্রমিকদের পরিবর্তে কোমলমতি শিশু সহ বদলী শ্রমিকদের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এসব প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজেও একই ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারী অর্থ আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঁঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম প্রকল্পে দেখা যায়, কাগজে কলমে ৬১জন শ্রমিক থাকলেও কাজ করছেন ৩৫জন। একই ইউনিয়নের সুলতান বাহাদুর প্রকল্পে ৪২জন শ্রমিকের স্থলে ৩৪ জন ও খিতাবখাঁ প্রকল্পে ১০২জনের স্থলে ৮৬ জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মনস্বর প্রকল্পে ৭৪ শ্রমিকের মধ্যে ১০ জন, চতুরা মৌজার প্রকল্পে ৫১ জনের মধ্যে ৭জন, মানাবাড়ি প্রকল্পে ৩৪জনের মধ্যে ৮ জন এবং পাড়ামৌলা প্রকল্পে ৩১ জনের মধ্যে ১০জন অনুপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে মনস্বর প্রকল্পের কাজ পাইকার পাড়া মাদরাসা সংলগ্ন রাস্তা, পূর্ব মনস্বর পুকুরের রাস্তা ও মন্দির মৌজার একটি মন্দিরে, চতুরা প্রকল্পে দাড়িয়ার পাড় ও বাঁধের সন্নিকটস্থ একটি বাড়ির রাস্তায় এবং মানাবাড়ি প্রকল্পে জাহাঙ্গির আলীর পুকুর পাড়ের রাস্তায় শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কর্তৃক নির্ধারীত প্রকল্পের তালিকায় এসব নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অধিকাংশ স্থানে নির্ধারীত প্রকল্পের বাইরে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসী ও একাধিক শ্রমিক সর্দার জানান, শুরু থেকেই পর্যায়ক্রমে উল্লেখিত পরিমান শ্রমিক অনুপস্থিত থাকছেন এবং অনুপস্থিত শ্রমিকদের মজুরীর টাকা অফিসকে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে তারা জানান।
প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকি ও দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করেন সচেতন মহল।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন মিয়া কাজ তদারকিকালে ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ারচর প্রকল্পে ৮৮জন শ্রমিকের মধ্যে ২৮জন, ছিনাইহাট প্রকল্পে ৮৪ জনের মধ্যে ২২জন এবং দেবালয় প্রকল্পে ৩৭জনের মধ্যে ১০জন শ্রমিক অনুপস্থিত পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।এবিষয়ে মনস্বর প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, নির্ধারিত প্রকল্পে পানি উঠায় শ্রমিকদের অন্যান্য স্থানে কাজ করানো হচ্ছে। আর অনুপস্থিত শ্রমিকদের বিল উত্তোলন করা হবে না।
উক্ত ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত রাজারহাট রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক মাসুদ করিম জানান, উদ্ধোধনের দিন কাজ দেখেছি। জুন পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের কাজে ব্যাস্ত থাকতে হবে।
কালুয়ার চর ইউপি সদস্য খালিদ হাসান জানান, ধানকাটা শুরু হওয়ার কারনে কিছু শ্রমিক অনুপস্থিত থাকছে। অফিসের সাথে কথা বলে অনুপস্থিত শ্রমিকদের বিল জমা দিতে বললে জমা দিব, না বললে দিব না।
উক্ত ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহআলম জানান, শুরুর দিকে একবার কাজ দেখেছি। আর যাওয়া হয়নি।
ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জাহানারা বেগম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাইরেও কাজ করা হয়। ওই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আঃ রহমান বলেন, এপর্যন্ত কোন প্রকল্পে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এরমধ্যে দেখব।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, এসব ট্যাগ অফিসারদের দেখার কথা। শ্রমিক অনুপস্থিতি ও শিশু শ্রমিক ব্যবহার করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ রাশেদুল হক প্রধান জানান, নতুন পরিপত্র না আসায় তালিকা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিক অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাহিরপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছেন গণভবন থেকে ...

কুমিল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৭ ডাকাত সদস্য গ্রেফতার মোঃ হাবিবুর রহমান খান

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা নগরীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ...