Home | অর্থনীতি | ব্যবসা ও বাণিজ্য | কুষ্টিয়া চিনিকলে ৪৮ বছরে ১৩২ কোটি টাকা লোকসান

কুষ্টিয়া চিনিকলে ৪৮ বছরে ১৩২ কোটি টাকা লোকসান

Suger milকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার বৃহত্তর শিল্প প্রতষ্ঠান কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে ৪৭ মওসুমে মুনাফা অর্জন করেছে মাত্র ২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আর লোকসান হয়েছে প্রায় ১শত ৩২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। কিন্তু মিলে সরকারি রাজস্ব খাতে ও উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় করেছে ১০৭ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। লাভ ক্ষতি যাই হোক না কেন এই বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত শত পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। অর্থনৈতিক প্রবাহ চলমান রয়েছে। এলাকার উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে এ মিলটি বড় ধরনের ভূমিকা রেখে যাচ্ছে যার ফলে এলাকার মানুষেরা প্রতিনিয়ত উপকৃত হচ্ছেন। এক কথায় বলা যায় কুষ্টিয়া চিনিকল জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের শ্রোতধারাকে প্রবাহমান রেখেই চলেছে। তবে মিলের সার্বিক অবস্থা পূর্বের ন্যায় ফিরে আসলে এলাকার মানুষেরা আরো বেশি উপকৃত হতে পারতো বলে এমন আশা পোষণ করছে এলাকাবাসী। কুষ্টিয়ার সদর উপজেলা এবং মিরপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত   কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১-৬২ সালে। মিলের মোট জমির পরিমাণ ২২১.৪৬ একর। এর মধ্যে কারখানা ২২.৩৭ একর, আবাসিক এলাকা ৯.৫০ একর, পুকুর, রেলওয়ে, সাইডিং ও খালখন্দ ২২.৩৯ একর, খামার ১০০.১৩ একর, ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র ১৭.০৭ একর জমি। কুষ্টিয়া চিনিকল সূত্র জানায়, ৪৭ মওসুমের মধ্যে ৩০ বার লোকসান হয়েছে এবং ১৫ বার লাভের মুখ দেখতে পেয়েছে। আর স্বাধীনতার পর ২৬ মওসুমে লোকসান হয়েছে আর লাভ হয়েছে ১৪ মওসুমে। জানা যায়, শুরুতে ১৯৬৫-৬৬ মাড়াই মওসুমে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছিল। পরের বার ১৯৬৬-৬৭ মাড়াই মওসুমে ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। ১৯৬৭-৬৮ মওসুমে ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা লোকসান, ১৯৬৮-৬৯ মওসুমে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লোকসান, ১৯৬৯-৭০ মওসুমে ১৬ লাখ ৬ হাজার টাকা, ১৯৭০-৭১ লোকসান ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ১৯৭১-৭২ মওসুমে লোকসান ৮১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ১৯৭২-৭৩ মাড়াই মওসুম মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে মাড়াই হয়নি। এ মওসুমে ক্ষতি ছিল ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ১৯৭৩-৭৪ মাড়াই মওসুমে ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা লাভ, ১৯৭৪-৭৫ মওসুমে লাভ হয়েছে ৪৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ১৯৭৫-৭৬ মওসুমে লোকসান ২৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ১৯৭৬-৭৭ মওসুমে লাভ ৪৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, ১৯৭৭-৭৮ মওসুমে লোকসান ৬৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১৯৭৮-৭৯ মওসুমে লাভ ১৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ১৯৭৯-৮০ মাড়াই মওসুমে লোকসান ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ১৯৮০-৮১ মওসুমে লাভ হয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, ১৯৮১-৮২ মওসুমে লাভ হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ ৮১ হাজার টাকা, ১৯৮২-৮৩ মওসুমে লাভ ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ১৯৮৩-৮৪ মাড়াই মওসুমে লাভ ৬ কোটি ৮৪ হাজার টাকা, ১৯৮৪-৮৫ মওসুমে লাভ ৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, ১৯৮৫-৮৬ মওসুমে লোকসান ৪২ লাখ ১২ হাজার টাকা, ১৯৮৬-৮৭ লোকসান ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ১৯৮৭-৮৮ মওসুমে লাভ ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ১৯৮৮-৮৯ মওসুমে লোকসান ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ১৯৮৯-৯০ মওসুমে লাভ ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ১৯৯০-৯১ মওসুমে লোকসান ২ কোটি ৮১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, ১৯৯১-৯২ মওসুমে লোকসান ৪কোটি ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, ১৯৯২-৯৩ মওসুমে লোকসান ৫ কোটি ১৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, ১৯৯৩-৯৪ মওসুমে লোকসান ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ১৯৯৪-৯৫ মওসুমে লাভ ২ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার টাকা, ১৯৯৫-৯৬ মওসুমে লাভ ১ কোটি ২৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা, ১৯৯৬-৯৭ লোকসান ২ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, ১৯৯৭-৯৮ মওসুমে লোকসান ৩ কোটি ৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৯৯৮-৯৯ মওসুমে লোকসান ১ কোটি ৪৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১৯৯৯-২০০০ মওসুমে লোকসান ৭ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ২০০০-০১ মওসুমে লোকসান ৩ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, ২০০১-২০০২ মওসুমে লোকসান ১০ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২০০২-০৩ মওসুমে লোকসান ৮ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ২০০৩-০৪ মওসুমে লোকসান ৭ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ২০০৪-০৫ মওসুমে লোকসান ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ২০০৫-০৬ মওসুমে লাভ ৯৩ লাখ ৮ হাজার টাকা, ২০০৬-০৭ মওসুমে লোকসান ১২ কোটি ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, ২০০৭-০৮ মওসুমে লোকসান ৯ কোটি ৬৭ হাজার টাকা, ২০০৮-০৯ মওসুমে লোকসান ১৭ কোটি ৪১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ২০০৯-১০ মওসুমে ১৩ কোটি টাকা লোকসান এবং ২০১০-১১ মওসুমে লোকসান ১৫ কোটি টাকার বেশি। মিল সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া চিনিকলের পুঞ্জিভূত লোকসান ১শত ২৪ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। আর লাভ হয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কুষ্টিয়া চিনিকল বিপুল পরিমাণ লোকসান করলেও এ মিলের অবদান জেলাবাসীকে চিরদিন স্মরণ করতেই হবে। জানা যায়, কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবগারী শুল্ক ও ভ্যাট, আয়কর প্রদান ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা, রাস্তা উন্নয়ন ও ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা কাজে লেভী প্রদানের মাধ্যমে এ যাবৎ ১০৭ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, রাস্তা উন্নয়ন তহবিলে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩ হাজার টাকা, ভ্যাট, আবগারী শুল্ক ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ৯৫ কোটি ৯৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যে বি.এস.আর লেভী দেয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। মিলের সুগার সেসডেভলপমেন্ট ফান্ড থেকে ৩০ কি.মি. পাকা রাস্তা নির্মাণ, প্রায় দেড়শত কি.মি. আধা-পাকা রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজ ১৪টি, ৩৫টি কালভার্ট এবং ২২ হাজার কি.মি. কাঁচা রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, কুষ্টিয়া চিনিকলের ঐতিহ্য রয়েছে। এক সময় এ জেলার অর্থনেতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হত কুষ্টিয়া চিনিকলকে কেন্দ্র করে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন চিনিকলের সম্পদ এবং জনবল সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ চিনিকলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বেনাপোল বন্দরের এসিড রাখায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে আশপাশে বসবাস মানুষ : নীরব বন্দর কর্তৃপক্ষ

বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে এসিড ও ভারী পন্য ...

কালোজিরার যাত্রা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: সর্বস্তরের রুচিশীল, ভোজন রসিক আর বিনোদন প্রিয় মানুষের জন্য রাজধানীতে ...