ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কুষ্টিয়ায় ভুয়া কাজীর বাল্য বিবাহ দেয়ার অভিযোগে কারাদন্ড

কুষ্টিয়ায় ভুয়া কাজীর বাল্য বিবাহ দেয়ার অভিযোগে কারাদন্ড

kustia mapকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়া জর্জ কোর্টের এক আইনজীবির কক্ষে বাল্য বিবাহ দেওয়ার সময় মনিরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ভুয়া কাজীকে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রোববার সকালে কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম জামাল আহমেদ এ রায় প্রদান করেন। জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা মুনছুর আহমদ হেলালীর সহযোগিতায় তার নিকাহ রেজিষ্ট্রার খাতাপত্র নিয়ে কাজ করে আসছিল মনিরুল ইসলাম। ইউনিয়নে সহকারী কাজীর কোন পদ না থাকলেও মুনছুর আহমদ হেলালীর সহকারী হিসাবে তিনি বিভিন্ন স্থানে বাল্য বিবাহসহ নিকাহ রেজিষ্ট্রারের কাজ করে আসছিল। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৭নং আইলচারার কাজী মওলানা মুনসুর আহমেদের সহকারী কাজী হিসেবে এসব বাল্য বিবাহ দিয়ে আসছিলেন। গতকাল এমনই এক সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া জর্জ কোর্টের এক আইনজীবির কক্ষে ‘স’ অদ্যক্ষ ১৩ বছরের এক শিশু কণ্যার সাথে ‘আ’ অদ্যক্ষ ১৯ বছরের এক ছেলের সাথে আড়াই হাজার টাকার চুক্তিতে বাল্য বিবাহ দেওয়ার প্রস্তুত চলছিলো। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে অভিযান চালিয়ে মনিরুল ইসলামকে ভুয়া বিবাহ রেজিষ্ট্রার কাগজপত্রসহ নিকাহনামাসহ তাকে আটক করে। পরে আটটকৃত মনিরুল ইসলামকে ভ্রাম্যমান আদালত বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ এর ৫ ধারা অনুয়াযী এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। সে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকার মোছাপ আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম কাজী হিসাবে বাল্য বিবাহ দিয়ে আসছিলেন। উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা মুনছুর আহমেদ হেলালী নিকাহ রেজিষ্ট্রার এর অন্তরালে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। তিনি নির্বিঘেœ ওই ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করে চলেছে। ইতিপূর্বে বাল্য বিবাহ দেওয়ার অভিযোগে এলাকার সচেতন মহল তাদের এ অপকর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এতদ্বসত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে বাল্য বিবাহ অব্যাহত রাখলে এলাকাবাসী আইলচারা পশু হাটের উপর থেকে তার কাজী অফিস উঠিয়ে দেয়।  পরে ওই কাজী আইলচারা বাক্স ব্রীজ মোড়ে অফিস খোলেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেখানেও তিনি বাল্য বিবাহসহ বিভিন্ন অপকর্ম নির্বিঘেœ চালিয়ে যেতে যান। আইলচারা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা মুনছুর আহমদ হেলালী তার নিজ নামীয় নিকাহ রেজিষ্ট্রারের নামে নিজ পুত্র মামুনুর রশীদকে দিয়ে এ কাজ চালিয়ে যান। ঘটনাক্রমে মামুনুর রশীদ ওই এলাকার একটি মেয়েকে প্রতারণা করে নিকাহ করলে স্থানীয়রা তাদেরকে শালীসীর মাধ্যমে সেখান থেকে তেড়ে দেয়। ওই কাজী বাধ্য হয়ে আইলচারা বাক্স ব্রীজের নিকট কাজী অফিস বিক্রি করে আইলচারা হারু মোড়ে অফিস নেন। তার ওই লম্পট পুত্র মামুনুর রশীদের মাজিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী হলে আইলচারা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা মুনছুর আহমদ হেলালী নিজ ছেলের স্থানে একজনকে নিয়োগ দেন। মনিরুল ইসলাম মনির নামে ওই  ব্যক্তিটিই আইলচারা ইউনিয়নের কাজীর সকল কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। আইলচারা ইউনিয়নের কাজীর সকল কাগজপত্র নিয়ে তিনি কাজ কর্ম করতে থাকেন। সরকারী সকল ধরনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ওই কাজী আইলচারা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে।  তথ্যসুত্রমতে, বাংলাদেশ সরকারের নিকাহ রেজিষ্ট্রার্ড যে নীতিমালা রয়েছে।  সেখানে এস,আর ও নং-৮৪-আইন/২০১১-মুসলিম ম্যারেজ এন্ড ডিভোর্সেস (রেজিষ্ট্রেশন) এক্ট,১৯৭৪ (এক্ট নং-লি এইচ অফ ১৯৭৪) এর সেকশন ১৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ সংশোধন করেছে। এইনীতিমালায় রয়েছে কোন নিকাহ রেজিষ্ট্রার তাহাকে যে এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে , সেই এলাকা বা উক্ত এলাকা সংলগ্ন কোন ওয়ার্ড, পৌরসভা বা ইউনিয়নের কোন মসজিদ অথবা বেসরকারী স্কুল, কলেজ অথবা বেসরকারী মাদ্রাসা ব্যতিত অন্য কোথায়ও চাকরী করিতে পারিবেন না।  অথচ আইলচারা ইউনিয়নের কাজী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজ ইউনিয়ন ছেড়ে হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাইস্কুলে চাকুরী করে যাচ্ছেন। তার সহকারী হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে বাল্য বিবাহসহ বিভিন্ন অপকর্মও চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আটোয়ারীতে বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় এক ...

রাণীশংকৈলে ইয়াবা সহ আটক ১

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ...