Home | সারা দেশ | কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত স্পিরিট পানে ১০বছরে ৩৮ জনের মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত স্পিরিট পানে ১০বছরে ৩৮ জনের মৃত্যু

kustia mapকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত স্পিরিট পানে ১০ বছরে ৩৮ জনের মৃত্যু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও একেবারে নিশ্চুপ রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের অধিকর্তারা। মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা প্রতিরোধ এবং দমনে এদের করো রয়েছে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব। আবার কারো যানবাহন ও লোকবল দুটোরই অভাব। অধিকর্তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা যাই হোক না কেন অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযানের অভাবেই বিষাক্ত স্পিরিট পানে অনাকাক্সিত মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ার জন্য নতুন কোন খবর নয়। সুত্র জানায়, বিষাক্ত স্পিরিট পানে জেলায় গত ১০ বছরে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর ঈদের দিন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালি, দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়। এরা হল-কুমারখালি উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের মধুপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের কেরামত আলি শেখের ছেলে লিয়াকত (৩৮) ও একই গ্রামের মৃত জলিল শেখের ছেলে মহম্মদ (৪০)। একই বছর কুমারখালিতে বিষাক্ত মদ পানে আরো ৪জনের মৃত্যু হয়। গত ৩০ অক্টোবর সদর উপজেলার হরিণারায়ণপুর এলাকার গোবিন্দর ছেলে গৌতম বিশ্বাস (৩২) বিষাক্ত স্পিরিট পানে মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে রেজাউল মল্লিক (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত ৩১ অক্টোবর দেলৈতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে রেজাউল মল্লিক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রেজাউল মল্লিক পুরাতন আমদহ গ্রামের রহিম মল্লিকের ছেলে। গত ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৩ দিনে ৩ জনের মৃত্যু হয়। একই দিন শহরের চর আমলা পাড়ায় আরো ১ জনের মৃত্যু হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর কলেজ পাড়ার খবির উদ্দিন ওরফে ভ্যাগল (৫২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিষাক্ত স্পিরিট বিক্রেতাদের মাঝে মধ্যে গ্রেফতার করলেও প্রত্য সাীর অভাবে তারা খুব তাড়াতাড়ি বেরিয়েও আসছে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে। কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আইউব আলী মিয়া জানান, এ্যালকোহল বা স্পিরিট অবাধে বিক্রির কোন লাইসেন্স দেয়া হয়না বা নেই। তবে ওষুধ প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে স্পিরিট ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। হোমিও চিকিৎসকদের ৭জন, শিল্পে ২ এবং ল্যাবরেটরির জন্য ২টি করে সর্বমোট জেলায় ১১টি প্রতিষ্ঠানকে স্পিরিট ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছেন। বৈধ লাইসেন্স প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে-কুষ্টিয়া শহরের ন্যাশনাল হোমিও হল, বেঙ্গল ল্যাবরেটরি, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, কুষ্টিয়া চিনিকল, শিলাইদহ ডেইরী ফ্যাক্টরী, কুষ্টিয়ার এন এস রোডের হানিম্যান হোমিও হল, ভেড়ামারার বাবর হোমিও কিনিক, খালেদ হোমিও হল, কুমারখালীর কেণ্ট হোমিও কিনিক, সান্দিয়ারার হানিম্যান হোমিও ফার্মেসী ও তন্নী হোমিও ফার্মেসী। এসব প্রতিষ্ঠান বছরে সর্বোচ্চ ৭শ’৭২ লিটার ও সর্বনিম্ন ১১ লিটার রেক্টিফাইড স্পিরিট উত্তোলন করতে পারবে। ওই সূত্রের দাবি এসব বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাদ্দ বাদেও এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাজার হাজার লিটার হোমিও ওষুধের কাঁচামাল (ইথানল) হিসেবে রেক্টিফাইড স্পিরিট উত্তোলণ করে নামমাত্র হোমিও চিকিৎসক এবং অবৈধ স্পিরিট, মদ বিক্রেতাদের কাছে দিয়ে মাদকের ভয়াবহতা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে রেক্টিফাইড স্পিরিট উত্তোলন বা বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মতা ও অগ্রাধিকারের টানাটানিতে বিপর্যস্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে স্পিরিট ট্রাজেডি দমন কার্যক্রম। কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাজার হাজার লিটার রেক্টিফাইড স্পিরিট উত্তোলণ বন্ধে বা নিয়ন্ত্রণ নিতে অধিকার ও মতা নিয়ে এ দু’অধিদপ্তরের মধ্যে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অতিরিক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট উত্তোলণ চলছে অবাধে দেখার কেউ নেই। অপরদিকে প্রায় প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে দেশে শত শত লিটার স্পিরিট ও ভারতীয় মদ প্রবেশ করছে। এসব স্পিরিট পানে অকালে ঝড়ে পড়ছে যুব সমাজসহ পরিবারের একমাত্র উপার্জনাম মানুষটি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জানায়, মাদকদ্রব্য অফিস কর্মকর্তা মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। যত্রতত্র মাদক বিক্রি যাতে না হয় সে ব্যাপারে টহল দেয়া হবে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন জানান, যারাই স্পিরিট কিংবা মদ ব্যবসার সাথে জড়িত থাক না কেন লাইসেন্সধারীদের বাদ দিয়ে যার-তার কাছে মদ বিক্রি করলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*