ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গাভি পালনে সাফল্য

কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গাভি পালনে সাফল্য

Kushtia Gavi Picকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া  : ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুধের বিশাল ঘাটতি মেটাতে কুষ্টিয়ার ২০ হাজার পশুপালনকারীর গোয়ালে পালিত হচ্ছে ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গাভি। এখান থেকে প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪৮ হাজার লিটার দুধ। টাকার অংকে যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।  খামারভিত্তিক পশু সেবা প্রদান এবং দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিছু প্রতিষ্ঠান। দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের নানাভাবে সাহায্য করছে প্রতিষ্ঠান গুলো। সরেজমিন দেখা গেছে, কুষ্টিয়ার খোকসা একতারপুর গ্রামে সাদাত আলীর ফার্মে রয়েছে ৮টি দুগ্ধজাত গাভি। একটি এনজিওর পরামর্শ ও অর্থঋণ সহায়তায় এই গাভিগুলো কিনে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। গাভির জাতবিচার, ওষুধ, পরিবেশ ও ফার্ম আবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে রয়েছে তার সম্যক জ্ঞান। বর্তমানে তার ৭টি গাভি প্রতিদিন প্রায় ১ মণ দুধ দিচ্ছে। গোবর থেকে তৈরি জৈব সার ও জ্বালানি থেকে প্রতি মাসে পেয়ে যাচ্ছেন ৮-১০ হাজার টাকা। তার দুগ্ধ খামারটি এলাকায় আত্মকর্মসংস্থানের একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, কুমারখালী, ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে দুগ্ধজাত গাভি পালন চলছে পশুপালনকারীদের গোয়ালে গোয়ালে। কুষ্টিয়া জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা জানান, এ জেলায় বর্তমানে ২০ হাজার পশুপালনকারীর গোয়ালে প্রায় ৬০ হাজার দুগ্ধজাত গাভি বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হচ্ছে। কেউ ১-২টি, কেউবা আবার ৭-৮টি খামারে দুগ্ধজাত গাভি পালন করছেন। এসব দুগ্ধ খামারকে কেন্দ্র করে কুমারখালীতে গড়ে উঠেছে বৃহৎ শিলাইদহ ডেইরি ফার্ম। এখানকার ফার্মের প্রক্রিয়াজাত দুধ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে। জেলার কুমারখালীর দইরামপুর, হাশিমপুর, কালোয়া, কয়া, পান্টি, জোতমোড়া, আমবাড়িয়া, গোপগ্রাম, চাঁদট, সেনগ্রাম, টাকিমারা, বড়বারিয়া, হরিনারায়ণপুর, বৃত্তিপাড়া, আব্দুলপুর, খাজানগর, দূর্বাচারা, লাহিনী, পাহাড়পুর, বাগুলাট প্রভৃতি গ্রামে বেশিসংখ্যক দুগ্ধজাত গাভি পালন হয়ে থাকে। এ সকল গ্রামে প্রায় ২০ হাজার পশুপালনকারী বিভিন্ন এনজিওর অর্থঋণ সহায়তায় ঘরে ঘরে দুগ্ধজাত গাভির খামার গড়ে তুলে সুখের নিঃশ্বাস ছাড়ছেন। প্রতিটি গাভি থেকে গড়েদুধ উৎপাদন হয় প্রতিদিন সাড়ে ৮ লিটার। কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের আমানুল্লাহ রাজা জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে দুগ্ধজাত গাভি পালন ও দুধ বিক্রি করে আসছেন। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রিজিয়ান, শাহীওলান ও নেপালী জাতের ৫টি বকনা বাছুর কিনে পালন করছেন তিনি। বর্তমানে ৫টি দুগ্ধজাত গাভি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ মণ দুধ পান। তবে তিনি জানান, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গাভি পালনের ব্যয় আগের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে। চাউলের খুদ প্রতি কেজি প্রায় ২৫ টাকা, ছোলা ৩৫ টাকা কেজি, খৈল ৩০ টাকা, ধানের বিচালি এক আটির দাম ১০-১২ টাকা। গাভি পিছু বছরে খাদ্য বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১২-১৫ হাজার টাকা। জানা গেছে, খাঁটি দুধ থেকে তৈরি দইয়েরও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। নিজ জেলা ছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও প্রতিনিয়ত বাণিজ্যিকভাবে দুধ ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা পশুসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের জিডিপিতে সাড়ে ৩ শতাংশ অবদান রাখলেও পশুসম্পদের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ পায় বার্ষিক জাতীয় বাজেটের মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। সেক্ষেত্রে বিশাল একটা ঘাটতি সবসময় থেকেই যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টন গুড়ো দুধ আমদানি করা হয়, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। আর এই আমদানিকৃত দুধে মেলামিন ছাড়াও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিও আইসোটোপের উপস্থিতি থাকতে পারে। অথচ কুষ্টিয়ার মত সারাদেশে তরল দুধের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দুধের চাহিদা পূরণ করে যায় সহজেই। পাশাপাশি গুড়ো দুধ খাওয়া নিরুৎসাহিত করা যায়। কুষ্টিয়া পশুসম্পদ বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক (এডি) জানান, দেশে দুধের উৎপাদন বাড়াতে দানা জাতীয় গো-খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে তা ভর্তুকি মূল্যে পশুপালনকারীদের মাঝে সরবরাহ করতে হবে এবং এসব কাজে দুগ্ধ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্প বহুদূর এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আটোয়ারীতে আমন ধানে কারেন্ট পোকার সর্তকীকরণ সভা

আটোয়ারী(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমন ও এর প্রতিকার ...

রাজারহাটে ১ঘন্টায় ৭ লাখ বৃক্ষরোপন সম্পন্ন

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাজারহাট প্রকল্প ...