Home | সারা দেশ | কুষ্টিয়ার বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা ছাড়াই রক্তের ব্যবহার হচ্ছে

কুষ্টিয়ার বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা ছাড়াই রক্তের ব্যবহার হচ্ছে

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : তত্বাবধানে অবহেলা ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় কুষ্টিয়ার বেশিরভাগ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোয় কোনো পরীক্ষা ছাড়াই রোগীদের শরীরে রক্ত পুশ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে রোগী সুস্থ হলেও রক্তের মাধ্যমে তার শরীরে প্রবেশ করছে জটিল রোগের জীবাণু। ফলে জেলায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অনুযায়ী রোগীর শরীরে রক্ত প্রবেশ করার আগে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে হয়। রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট, সি ভাইরাস, এইচআইভি ভাইরাস, ডিএসএজি, ভিডিআরএল, এইচ সিভি ভাইরাসগুলো পরীক্ষা করে রোগীর শরীরে রক্ত দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জেলার বেশিরভাগ প্রাইভেট ক্লিনিক এবং হাসপাতাল গুলোতে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ট্রান্সফিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রক্তের স্ক্রিনিং সরকারি মেডিকেল ছাড়া আর কোথাও হয় না। সরকারি হাসপাতালের বাইরে ব্যবহৃত রক্তের স্ক্রিনিং সরকারি মেডিকেল কলেজের ট্রান্সফিউশন বিভাগ থেকে নিয়ে ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে তা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় প্রায় তিন শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতাল রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩০টি, মিরপুর উপজেলায় ৫টি, ভেড়ামারায় ১১টি, কুমারখালীতে ৬টি, দৌলতপুর ১৩টি, এবং খোকশা উপজেলায় ২টি ক্লিনিক রয়েছে। সুত্র মতে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাশেম ক্লিনিক, সার্জিক্যাল, কুতুব উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, আয়েশা ক্লিনিক, সনো হসপিটাল, সামসুজ্জামান মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মরিয়ম ক্লিনিক, লালন শাহ হাসপাতাল, পদ্মা ক্লিনিক, আল-কোরণী মেডিক্যাল সেন্টার, আদ-দ্বীন হাসপাতাল, নূরুন নাহার জেনারেল হাসপাতাল, রোটারী আই হাসপাতাল, কিরণ পলি ক্লিনিক, আলো হেলথ সেন্টার, দার-উস-শেফা, শাওন ক্লিনিক, আগা ইউসুফ আধুনিক হাসপাতাল, ইসলামিয়া হাসপাতাল, কুষ্টিয়া নাসিং হোম, দিশা আই কেয়ার, মেডিকেয়ার হাসপাতাল, বৈশাখী ক্লিনিক, ডক্টরস ল্যাব, সেবা প্রাইভেট হাসপাতাল, হরিণারায়নপুর নিউ সেবা ক্লিনিক, ঝাউদিয়া ক্লিনিক, আল হেরা, এফপিএবি, আমিন ষ্পেশালাইজ্ড হসপিটাল ও মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিস হাসপাতাল। মিরপুরে রয়েছে নাহার ক্লিনিক, পোড়াদহ, জয়মন ও নাহার নাসিং হোম। ভেড়ামারায় রয়েছে সাদিয়া ক্লিনিক, ভেড়ামারা নাসিং হোম, আল-হেলাল, দারদী, মাহামুদা, শিল্পী, প্রতীক্ষা নাসিং হোম, নিরাময়, আল-নূর ও হাসিয়ারা ক্লিনিক। দৌলতপুরে রয়েছে, দৌলতপুর ক্লিনিক, নিউ সেবা, আলহাজ্ব, মডার্ণ, সুপারসনো, কোহিনূর, আরোগ্য লাভ, আল্ল¬াহর দান, মায়ের দোয়া, সিটি প্রাঃ হাসপাতাল, তারাগুনিয়া, জননী নাসিং হোম, ও হোসেনাবাদ ক্লিনিক। কুমারখালীতে রয়েছে, পান্টি ক্লিনিক, প্রতীক প্রাইভেট হাসপাতাল, সোমা ক্লিনিক, নোভা ও ফাতেমা ক্লিনিক। খোকসা ক্লিনিক নামে একটি মাত্র ক্লিনিক রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলোতে দৈনিক রক্তের চাহিদা প্রায় ৩০-৪০ ব্যাগ। রক্তের এ চাহিদা নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সরবরাহ করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, জেলার প্রায়ভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়ম না মেনে ঝুঁকিপূর্ণ রক্তের সরবরাহ হলেও সরকারি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ডা. মোঃ সাইফুর রহমান জানান, রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অনুযায়ী ট্রান্সফিউশন বিভাগ ছাড়া অন্য কেউ রক্ত সরবরাহ, সংগ্রহ ও গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু কুষ্টিয়ায় এ আইন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাদের কাছে এলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আত্রাইয়ে পাথরের মূর্তি উদ্ধার

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রাম থেকে পাথরের ...

আগৈলঝাড়ায় জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যেগে ...