ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | কুষ্টিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুরু হয় সন্ত্রাস আর লুটপাট

কুষ্টিয়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুরু হয় সন্ত্রাস আর লুটপাট

hasina kustiaকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের রক্ষা করতে পারেননি। ওই খুনি হুদা, কর্ণেল ফারুক বাংলার মাঠিতে তাদের বিচার করে রায় কার্যকর করা হয়েছে। যারা এখনো দেশের বাইরে পালিয়ে আছে তাদের খুঁজে বের করে সাজা কার্যকর করা হবে। তেমনিভাবে বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর যতই চেষ্টা করুক না কেন, ওই আল বদর, খুনি জামাতকে রক্ষা করতে পারবেনা। যাদের সাজা হয়েছে ইনশাল্লাহ বাংলার মাটিতে রায়ও কার্যকর হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে যাদের বিচার হয়েছে তাদের রায় বাংলার মাটিতে কার্যকর করা হবেই। শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বিরোধীদলের নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আপনি সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন ছেলেদের লেখাপড়া শিখানোর জন্য। কিন্তু তাদের লেখাপড়া না শিখিয়ে চোর বদ-মাইস বানিয়েছেন। শুধু তাই নয় বিএনপি নেত্রী নিজে এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। হেফাজত ইসলামী সমাবেশে হাজার হাজার হেফাজত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা ওইদন রাতে কতজন হেফাজত কর্মীকে হত্যা করেছি তার তালিকা চাওয়া হলো তখন আর তিনি দিতে পারেননি। খালেদা জিয়া মিথ্যা বলার ওস্তাদ। বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে মসজিদে উলুর ধ্বনি শোনা যাবে। মানুষ নামাজ পড়তে পারবে না। কিন্তু আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানুষ নিবির্ঘে মসজিদে মসজিদে নামাজ পড়তে পারছেন। বরং বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় বগুড়ায় মসজিদের ভিতরে কোরআন শরীফ পড়া অবস্থায় মুসুল্লীকে খুন করা হয়েছে। আ’লীগ আবার ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে স্কুল সরকারী করা হবে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর ইন্টারনের্ট সার্ভিস দিয়েছি সর্বত্র। আ’লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন মানুষ খেয়ে পড়ে বাঁচে। আ’লীগ ক্ষমতায় গেলে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আমরা কৃষকদের সুবিধার জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সরকার গঠন করা পর সারের দাম কমিয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ গড়েছেন, ঠিক তেমনি তার কন্যা আমি আপনাদের সাথে নিয়ে দেশ গঠনে ভুমিকা রাখতে চায়। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার জুলফিকার আলী আরজুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দিপু মণি, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কুষ্টিয়া -১ আসনের সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া ৪-আসনের সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা তরুণ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা অ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী। কুষ্টিয়া জনসভাস্থলে পৌছেঁ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নিমার্ণ (৩৭-ইউনিট) শীর্ষক প্রকল্প, কুষ্টিয়া জেলা সার্ভার স্টেশন ভবন (৪ তলা ভিত বিশিষ্ট ৩ তলা ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ভেড়ামারা থানা ভবন, কুষ্টিয়া কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের চারতলা ভিত বিশিষ্ট এক তলা একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর থানা ভবন, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন (৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতীকরণ), খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন (৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প, মিরপুর থানা ভবন, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, কুমারখালী উপজেলায় সাংবাদিক ’’কাঙ্গাল হরিনাথ” স্মৃতি মিউজিয়াম, কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন, ভেড়ামারা উপজেলার বিজেএম কলেজের একাডেমিক ভবন, ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, মিরপুর উপজেলার সাগরখালী আইডয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, কুমারখালী উপজেলার কুমারখালী কলেজের একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর উপজেলার নুরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, দৌলতপুর উপজেলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ তলা একাডেমিক ভবন, কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।  পরে লালন একাডেমিক শিল্পীরা লালন সংগীতে মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে বরণ করে নেন। দুপুরে আগেই জনসভাস্থল সরকারী কলেজ মাঠ কানাই কানাই পূর্ণ হয়ে যায়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেই সাথে একই সঙ্গে বহুল আলোচিত বাগরেহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মহমোহন সিং নয়াদিল্লি থেকে ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ভেড়ামারায় ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ভারত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল্লাহ ফারুক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জ্বালানি উপদষ্টো তৌফিকী এলাহী চৌধুরী, ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ স্মরণ, ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পিকে সিনহা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুব-উল-আলম হানিফ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন ও সুলতানা তরুণসহ দুই দেশের বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেউ কেউ পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই,পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোন প্রকল্পের অনুমোদন দেইনি। আগামীতেও দেব না। সব ধরনের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় রেখেই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, আজ অনেকেই পরিবেশবাদী সেজেছেন। কিন্তু আমরা সরকারই সুন্দরবন রক্ষায় এবং একে বিদ্যুৎ ঐতিহ্য স্থান হিসেবে অন্তভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার সময় বিদ্যুতের দৈনিক উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আমরা সরকার গঠন করার পর তা ৬ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াটে উন্নতী করেছি। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরো বলেন, গত সাড়ে ৪ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান কাজ চলছে। ৩ হাজার ৯৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র টেন্ডার প্রক্রিয়ার আছে। প্রধানমন্ত্রী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আরো বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যাতে পরিবেশের ক্ষতি না করে, সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বায়ু ও পানি দূষনরোধে উন্নতমানের কয়লা ব্যবহার করা হবে। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। এর আগে সকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ৩০মিনিটের সময় ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড.মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সরকার ও সেদেশের জনগনের অসামান্য অবদান ও আতœত্যাগের কথা স্মরণ বাংলাদেশের মানুষ চিরকাল মনে রাখবে। বিদ্যুৎ আমদানির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব আরও দৃড় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ।পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। মনমোহন সিং বলেন, এ প্রকল্পের মাদ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন দিগন্তের সুচনা হল। বাংলাদেশ ভারতের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের জনগনের পাশে ভারত সব সময় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পর্তুগালে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশী সিনেমা “হাওয়া”

পর্তুগাল প্রতিনিধিঃ ১৫ই অক্টোবর হাওয়া পর্তুগালে বানিজ্যিক ভাবে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশী সিনেমা ...

মদনে বউ শাশুড়ির দ্বন্ধে নিহত-১, নারীসহ অহত-৭

সুদর্শন আচার্য্য মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে বউ শাশুড়ীর দ্বন্ধে শফিকুল ইসলাম ...