Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কুমিল্লায় এক দিনে দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার-আহত ৫

কুমিল্লায় এক দিনে দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার-আহত ৫

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার তিতাসে পৃথক স্থান থেকে একদিনে দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে তিতাস থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলা বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামের জর্ডান প্রবাসী আলেক মিয়ার স্ত্রী মোসা. শাহিনা আক্তার (৩৮) ও সাতানী ইউনিয়নের রায়পুর (গায়েন বাড়ী) গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী আলেহা বেগম (৫০) নামে গৃহবধূদ্বয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সরজমিনে এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের জর্ডান প্রবাসী আলেক মিয়া দীর্ঘ ১৪ বছর যাবৎ প্রবাসে চাকুরী সুবাদে রয়েছে। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে ফারজানাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে আরেক ছেলে সৌদী আরবে রয়েছে এবং ছোট ছেলে নুর মোহাম্মদ গাজীপুর খান মডেল বহুমূখী স্কুল এন্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণীতে লেখা পড়া করে। পরিবারের দীর্ঘদিন যাবৎ টাকা-পয়সা নিয়ে প্রবাসী স্বামীর সাথে জগড়া হতো বলেও জানায় নিহতের বোন জড়িনা বেগম।

সে জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে মোবাইল ফোনের ইমুতে ভিডিও কল দিয়ে স্বামীর সাথে জগড়ার এক পর্যায়ে আলেককে বিয়ে করেছো নাকি এমন কথায় স্বামী আলেক রাগে বলে, হে আমি বিয়ে করেছি। এই কথা শুনে স্ত্রী মোসা. শাহিনা আক্তার স্বামী আলেক মিয়াকে ভিডিও কলে রেখেই ছোট বোন স্বামী নাজমুল হোসেনের বাড়ীর রান্না ঘরের ওপরের সরু খুঁটিতে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ দুপুর দুইটার দিকে মাটিতে হাটু লাগানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।

তবে এলাকাবাসী জানায়, এটি আত্মহত্যা নয়; তাদের পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকান্ড হতে পারে! নিহতের মেয়ে ফারজানা জানায়, আমার মা ফাঁসি দিলে মাটিতে হাটু লাগানো থাকতো না এবং যেই খুঁটিতে পাঁস দিয়েছে সেটি ভেঙ্গে যেতো।

এদিকে গত ২২ অক্টোবর রাতে উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের রায়পুর (গায়েন বাড়ীর) গিয়াস উদ্দিন সওদাগরের গাছের ডাব চুরি করে পুরান বাতাকান্দি গ্রামের আলম গীরের ছেলে মো. শাকিল (২৯), এংরাজের ছেলে আবুল কালাম (২৮) ও মমিন মিয়ার ছেলে আল আমিন (৩০)। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে ওই মাদকাসক্ত চুর চক্রের সদস্যরা রায়পুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে প্রতিবাদ করলে গিয়াস উদ্দিন সওদাগরের স্ত্রী মেনোয়ারা বেগম (৫২), তার ছেলে জাহাঙ্গীর (৩২), আনিস (২৯) ও মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৫) এবং আব্দুল করিম সওদাগরের স্ত্রী আলেহা বেগমকে (৫০) পিটিয়ে আহত করে। এদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে আলেহা বেগম মারা যায়। অন্যদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং বুধবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেণ। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং অপর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় থানায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসপি সার্কেল (মুরাদনগর-তিতাস) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিডিটুডেকে বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনার স্বামী প্রবাসে বিয়ে করেছে এমন সংবাদ শুনে দুঃখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

অপরদিকে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনায় এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। ১১জনের নাম উল্লেখ করে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

স্বাস্থ্য বীমা চালুর পরিকল্পনা আছে সরকারের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান ...

কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ ...