ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগের পাপন একমাত্র প্রার্থী বিএনপির শরীফুল

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগের পাপন একমাত্র প্রার্থী বিএনপির শরীফুল

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। তারা তৃণমূলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি জনসংযোগ করছেন।

তবে দলগুলোতে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের তেমন ভিড় নেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অন্য প্রধান দল বিএনপির প্রার্থী অনেকটাই নিশ্চিত। আওয়ামী লীগে এই মুহূর্তে বর্তমান সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন একমাত্র প্রার্থী। তার বিকল্প দেখছেন না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আর বিএনপিতে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম আছেন এগিয়ে। তবে দলের একজন বহিষ্কৃত প্রভাবশালী নেতাও আছেন মাঠে।

ভাটি অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত কুলিয়ারচর উপজেলা আর বন্দরনগরী ভৈরব নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৬ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। অন্যভাবে এই আসনকে জিল্লুর রহমানের আসন বললেও অত্যুক্তি হবে না। স্বাধীনতার পর ২০০৮ সাল র্পযন্ত পাঁচবার এখানকার সাংসদ ছিলেন তিনি। সর্বশেষ পাঁচটি নির্বাচনের চারটিতেই আসনটি থেকে যায় তার পরিবারে। একমাত্র ৯১ সালের নির্বাচনে জয় পায় বিএনপি।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জিল্লুর রহমানকে পরাজিত করে বিএনপির ডা. আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এর পর থেকে আসনটি হাতছাড়া বিএনপির। এবার আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাবে দলটি। এ জন্য বেশ আগে থেকে তৃণমূলে কাজ করে চলেছে দলের লোকজন।
তবে এখানে দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া, পরে এলজিআরডি মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় এলাকায় বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ তার মৃত্যুর পর এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ছেলে নাজমুল হাসান পাপন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। তার শূন্য আসনে ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন ছেলে নাজমুল হাসান পাপন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাপন দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বাবার মতো নাজমুল হাসান পাপনও এলাকার উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি একাধারে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, বেক্সিমকো ফার্মার মতো বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণ সংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্তা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। তিনি নিয়মিতই নির্বাচনী এলাকায় আসেন। এলাকার নানা উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনার পাশাপাশি জনসংযোগ করছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে পাপনদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের একটি পরিচ্ছন্ন ইমেজ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত নারীনেত্রী আইভি রহমানের ছেলে হিসেবেও এলাকায় তার একটি আলাদা ও সংহত অবস্থান রয়েছে। তাই বিসিবি সভাপতি পাপন কেবল একজন শক্তিশালী প্রার্থী নন, ভিআইপি প্রার্থীও।

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম। তিনি দলের প্রভাবশালী নেতা। দলের সক্রিয় নেতা হিসেবে তিনি মাঠে একক প্রার্থী হলেও তার পথ একেবারেই নিষ্কণ্টক নয়। মাঠে রয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গিয়াসউদ্দিন। তিনি ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ছিলেন। গিয়াসউদ্দিন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুুর রহমানের সঙ্গে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু জয়ের ম্খু দেখেননি তিনি।

ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাজুল ইসলাম তাজ ভৈরবী। তিনি জাতীয় পার্টির ভৈরব উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুধু শহরে নয়, গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে সরকার:প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি সরকার ষোলশ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ...

তালাকের নোটিশ হাতে পেয়েছেন অপু

বিনোদন ডেস্ক : আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে স্বামী শাকিব খানের পাঠানো ...