Home | বিবিধ | পরিবেশ | কালিয়াকৈরে শিল্প কারখানায় বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

কালিয়াকৈরে শিল্প কারখানায় বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

kaliakair-pic-1মো: হুমায়ুন কবির, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অধিকাংশ শিল্প কারখানায় অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) বা বর্জ্য শোধানাগার নেই। যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য খাল বিলে পড়ে চাষের যোগ্যতা হারাচ্ছে কৃষি জমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ এবং সেই সাথে আবাসস্থল হারাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, হরিণহাটি, সফিপুর, মৌচাক, সূত্রাপুর, বাড়ইপাড়া, সিনাবহ, আন্ধার মানিক, সূরিচালা, তেলিরচালা, যোগিচালা, ফকিরচালা, মুরাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় তিন শতাধিক শিল্প কারখানা। সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শিল্প কারখানা স্থাপন করার সাথে সাথে বর্জ্য শোধানাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। অথচ কালিয়াকৈর উপজেলায় গড়ে উঠা অধিকাংশ কারখানায় শোধানাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) নেই। তবে হাতে গুনা অল্প সংখ্যক কারখানায় ইটিপি থাকলেও এর যথাযথ কোন ব্যবহার করছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে প্ল্যান্ট চালানোর ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোন ভূমিকা না থাকার করণে কারখানাগুলোর বর্জ্য সরাসরি খাল, বিল, নদী, নালা ও ফসলি জমির উপর গিয়ে পড়ছে। নদী-নালা, খাল-বিলে বর্জ্য পড়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। আর নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা। খাল বিলের পানি ঘন কালো নীল বর্ণের বর্জ্য পদার্থ মিশে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় সর্বক্ষণ বিলের ফসলি জমির মাটি কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে আবৃত হয়ে ফাঁপা অবস্থায় থাকে। যার কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। কোন কোন বিলে ধান উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। নদী নালার মাছ এলাকাবাসি খেতে পারছেনা। যার ফলে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে কৃষি জমি, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ হারাচ্ছে আবাসস্থল ।

kaliakair-pic-2অপরদিকে মাছ ধরতে না পেরে অনেক জেলে তাদের পেশা পরিবর্তন করেছেছ। নদী-নালা ও খাল-বিলে মাছ না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্দিন কাটছে। অপরদিকে বংশগত ভাবে জেলে হওয়ায় অন্য পেশায়ও মনোযোগি হতে পারছে না। সবমিলিয়ে দুর্দিন কাটছে জেলে পরিবার গুলোতে। কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার মনা মাঝি নামের এক জেলে জানান, মিলের ময়লা পানি আইসা খাল-বিল আর নদীর পানি নষ্ট হইয়া গেছে, দিন যত যাচ্ছে মিলের বর্জ্য ময়লা বেশি করে পানিতে আইসা মিসতেছে। মিলের ওই দুর্গন্ধ ও কালো পানির কারনে বহু দিন ধইরা মাছ ধরতে পারিনা। মাছ ধরতে না পাইরা পোলাপাইন নিয়া কোন রকমে বাইচা আচি। আসারিয়াবাড়ী গ্রামের জেলে রনজিত জানান, একসময় আমরা বাড়ীর কাছে মকশবিলে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতাম। খুব ভালভাবেই চলতো আমাদের সংসার। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে কোন অসুবিধা হতো না। আগে যেখানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতাম এখন কল-কারখানা বিষাক্ত বর্জ্য খালে বিলে পড়ার কারণে মাছ আর বিলে পাওয়া যায় না। কোন কোন দিন দুই থেকে আড়াই’শ টাকার মাছও বিক্রি করতে পারিনা। যা দিয়ে সংসার কোন ভাবেই চলানো যায় না।

কালিয়াদহ গ্রামের গ্রামের কৃষক হযরত আলী জানান, শুধু জেলেরাই নয় এলাকাবাসীও মাছ ধরে সংসারে মাছের চাহিদা মেটাতো। কিন্ত এখন আর মাছ ধরা যায়না। যদিও কিছু মাছ ধরা পড়ে সেগুলি কারখানার ক্যমিক্যালের গন্ধের জন্য খাওয়া যায় না। মাছের চেয়ে বড় সমস্যা চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। চলতি বছরেও অনেকে কষ্ট করে অর্থ ব্যায় করে চাষাবাদ করলেও কোন লাভ হয়নি। বলতে গেলে জমিগুলো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান জানান, কল-কারখানার অপরিশোধিত কেমিক্যালযুক্ত তরল বর্জ্যে কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ১৫০ হেক্টর জমি আক্রান্ত। যার কারণে জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছেনা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যে খাল-বিল ও নদী-নালার পানি দুষিত হচ্ছে।

এর আগেও উপজেলার বিভিন্ন কল-কারখানায় ইটিপি না থাকার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন পরিমাণে জরিমানা করা হয়ে থাকে। কিছুদিন পর আবার কারখানা কর্তৃপক্ষ একইভাবে কেমিক্যালযুক্ত বর্জ্য পরিশোধন না করে ছেড়ে দেয়। যা পুনরায় নদী-নালা ও ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং নদী-নালায় মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যেসকল কারখানায় ইটিপি প্ল্যান্ট নেই অথবা থাকলেও তা ব্যবহার করছেনা এমন কারখানাগুলো সম্পর্কে জেলা প্রসাশক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ইতিমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ৮ শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন

মোঃ লিটন মিয়া, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ গত কয়েক দিনে থেমে থেমে ...

বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল

স্টাফ রিপোর্টার : নেপালের পোখারার লামজুং ও কোদানির পর এবার সিকিম, ভুটান, ...