Home | সারা দেশ | কালিয়াকৈরে জালশুকা-বাড়ই পাড়া সড়কে খানা-খন্দ জন দূর্ভোগ চরমে

কালিয়াকৈরে জালশুকা-বাড়ই পাড়া সড়কে খানা-খন্দ জন দূর্ভোগ চরমে

 

হুমায়ুন কবির,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা-বাড়ইপাড়া সড়ক।উপজেলার মধ্যে এটি অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের অন্তত প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষসহ পার্শ^বতী ধামরাই উপজেলার যাদব পুর,শিমুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এছাড়া চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যানজট এড়াতে এ সড়কটি প্রায়ই বাইপাস রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এবং সড়কের পাশদিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং পানি নিস্কাসনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তসহ খানা-খন্দের। আর এতে করে সড়কের এমন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসিসহ সড়কটি দিয়ে চলাচলরত পোষাক কারখানার শ্রমিক,পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দের ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে পোষাক কারখানার শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণ এ সড়ক ব্যবহার করছে।এলাকাবাসির দাবি সামনের বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই সড়কটি যাতে সংস্কার করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা থেকে বাড়ইপাড়া এবং জালশুকা থেকে উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম মহরাবহ পর্যন্ত সড়কটি উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের ( হিজলহাটি, পূর্ব বড়ইছুটি, পশ্চিম বড়ইছুটি, কাপাসিয়াচালা, খোলাপাড়া, কাঞ্চনপুর, জালশুকা, চেীধুরীটেক, গোসাত্রা, চান্দাবহ, উত্তর পাকুল্লা, দক্ষিন পাকুল্লা,চন্দন টেকি,কামারিয়া, মাথালিয়া, মহরাবহ,সাবাজ পুর, বলিয়াদি, জাঙ্গালিয়াপাড়া,কান্দা পাড়া,ডুবাইল,চন্ডিতলা,সেওরা তলী) সহ ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকে।এ ছাড়াও পাশ^বর্তী ধামরাই উপজেলার ধানতার,পাড়া গ্রাম,শিমুলিয়া,গোমগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল রয়েছে।
সড়কটি উপজেলা সদর ও রাজধানী ঢাকা শহরের অন্যতম প্রবেশ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সড়কটির আশেপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানা। মহরাবহ পর্যন্ত ৮ কি.মি. সড়কে রয়েছে জালশুকা,চান্দাবহ বাজারসহ ৬টি বাজার,অসংখ্য স্কুল, মাদ্রাসা ও অসংখ্য দোকানপাট। এছাড়া চন্দ্র-নবীনগর ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে সড়কটি বাইপাস সড়ক হিসেবেই এখন ব্যবহার করে থাকে। সড়কটি নিচু হওয়ায় এবং ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের জালশুকা থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত সাড়ে৩ কিলোমিটার সড়কের ২ কি.মি.জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানা খন্দের। আর গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারনে সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।ওই সড়কের বাড়ইপাড়া (পলমল ও হেসং গেইট), গুডনাইট কয়েল ফ্যাক্টরী, হিজলহাটি এলাকার (সালাম সাহেবের মাঠ এলাকা থেকে শুরুকরে হিজলহাটি (ফার্ম বাজার) ও সাউদার্ন ফ্যাক্টরী এলাকা এবং রাঙ্গামাটি এলাকায় খানা-খন্দ ও জলাবদ্ধতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সড়কের খোলাপাড়া, জালশুকা সমন আলী সুপার মার্কেট, জালশুকা বাজার, চেীধুরীটেক, গোসাত্রা হাইস্কুল মোড়ে রয়েছে ছোট-বড় খানা খন্দ।
স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম ‘বিডিটুডে টুয়েন্টিফোর’কে বলেন, সড়কের নাজেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। মালামাল আনা-নেয়ায় পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আর্থিক-ভাবে আবার সড়কে দূর্ঘটনায় পরে শারীরিক ভাবে। তিনি সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার করার দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদেও ড্রাম ট্রাক, প্রায় ১০/১২টি ইট ভাটার ট্রাক, মালবাহী ট্রাক ও শিল্প-কারখানার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ফলে অটোরিক্সা,ভ্যান, সিএনজিসহ হালকা যান চলাচলে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকসহ জনসাধারণের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।
জালশুকা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন ‘বিডিটুডে টুয়েন্টিফোর’কে বলেন, সড়কে খানা-খন্দের কারণে চরম ভোগান্তীতে রয়েছি। সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছানো যায় না। সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হলেও সড়কের বেহাল অবস্থা থাকার কারণে মাঝে মাঝে সিএনজি, রিকশা আটকে যায়। এতে করে সময় ও আর্থিক উভয় ভাবেই আমরা ক্ষতিগ্রস্থ। যত তাড়াতারি সম্ভব সড়কটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। সড়কের সাউদার্ণ এলাকার দোকানদার শাহিন আলম ‘বিডিটুডে টুয়েন্টিফোর’ কে বলেন, সড়কে খানা-খন্দ আর পানি জমে থাকায় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হয়। এছাড়া দোকানের মালামাল আনা-নেয়াতেই অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে দোকানে ক্রেতা তেমন আসে না। ফলে ব্যবসায়ীক দিক থেকে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি।
এ ছাড়া একটানা দুই-তিন ঘন্টা বৃষ্টি হলে সড়কের বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে ডুবে যায়। এমনিতেই সড়কের বেহাল অবস্থা তার উপর আবার বৃষ্টিপাত। একটু বৃষ্টি হলে সড়কে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো দেখা যায়না। ফলে অসতর্কতার কারণে ছোট যানবাহন যেমন, রিকশা ভ্যান, সিএনজিসহ নানা যানবাহন চলাচলে রাস্তায় প্রয়ই ঘটে দূর্ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়কে চলাচলরত এক সিএনজি চালক বলেন, গত দুই বছরে সড়কে কোন সংস্কার হয়নি মাঝে মধ্যে আমরা সকল সিএনজি চালক মিলে টাকা তুলে ইটভাটা থেকে অধলা কিনে এনে সড়কের খানা-খন্দে ফেলে সড়ক মেরামত করে সিএনজি চালাই। ফলে সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টিতে পানি জমে থাকার কারণে গর্তগুলো দেখা যায় না। ফলে অনেক সময় গর্তে সিএনজি আটকে যায়। এতে করে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
খোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছামাদ মিয়া জানান, সড়কে খানা-খন্দের কারণে মাত্র ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১৫-২০ মিনিট সময় লেগে যায়। এছাড়া অনেক সময় সড়কে পরিবহন পাওয়া যায় না। অথচ সড়কের এমন বেহাল দশার কারণেই আমাদের নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে গর্ত ও খানা-খন্দ মেরামত বা সংস্কার না করায় এসড়কটি এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। তাই জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। এলাকাবাসির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি যাতে সড়কটি অতিঃস্বত্তর সংস্কার করে ২৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা যাতে স্বাভাবিক ও সহজ করার লক্ষে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টুঙ্গিপাড়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত ...

নওগাঁয় ট্রাকের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু

বিডিটুডে ডেস্ক : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মগলিশপুর নামক স্থানে ট্রাকের ধাক্কায় মো. ...