Home | বিবিধ | পরিবেশ | কালিগঞ্জে ঝাপঝাপিয়া নদীর দু’পাশ অবৈধ দখলদার’দের দখলে

কালিগঞ্জে ঝাপঝাপিয়া নদীর দু’পাশ অবৈধ দখলদার’দের দখলে

আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা : কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য একটি নদীর নাম ঝাপঝাপিয়া। নদীটি কালিগঞ্জের কাঁকশিয়ালী নদীর উপশাখা হিসেবে দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিক থেকে দীর্ঘপথ। এ নদীটির রয়েছে বহু প্রাচীন ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল একটি প্রধান সমস্যা। তখন কোন যানবহন না থাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হতো জনসাধারণকে। নদী পথই ছিল তখন যাতয়াতের একমাত্রা মাধ্যম।

অত্র এলাকার কয়েকজন বয়স্ক মানুষের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিবেদককে বলেন তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে তারালীর এ ঝাপঝাপিয়া নদীটিই যাতায়াতের এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য ভুমিকা রেখেছিল। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সে সময় নদীটি দিয়ে নৌকাযোগে সরাসরি কালিগঞ্জ কাঁকশিয়ালী নদী হয়ে কালিগঞ্জ সুদরে এবং নাজিমগঞ্জ বাজারে যাওয়া যেত। এচাড়াও ইছামতি নদী হয়ে ভারতে হেঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত যাওয়া যেত। পাশাপাশি উজিরপুর বাজার হয়ে আশাশুনি মরিচ্চাপ নদী দিয়ে বড়দল বাজারে যাওয়া যেত।

অন্যদিকে, এ নদীটি দিয়ে তখন মানুষ নৌকাযোগে নলতা ইউনিয়নের বেলেডাঙ্গা হাওড়া নদী হয়ে বাঁশবেড়ে হয়ে কাটাখালী নদীর মধ্য দিয়ে এল্লাচর পর্যন্ত যাওয়া যেত। সেখান থেকে সরাসরি সাতক্ষীরা জেলা শহরে যাওয়া যেত।

আরও জানা যায় তৎকালীন সময়ে ঝাপঝাপিয়া নদীটিতে ব্যাপক জোয়ার-ভাটা হত এবং কুমির, ষুষক ইত্যাদি প্রাণীর অবাধ বিচরণ যাতায়াত ব্যবস্থার পাশাপাশি এ নদী মৎস্যজীবিদের প্রচুর মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিত। ১৯৬৫ সালের মার্চ মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে তারালী গোলখালী ওয়াপদা বেড়িবাঁধ দিয়ে এবং পানি ওঠা-নামার জন্য একটি পাকা গেইট নির্মাণ করে। তখন থেকে এ নদীটির পূর্বের ঐতিহ্য আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকে। ঠিক তখনই দীর্ঘদিন ধরে সময়ে ব্যবধানে আস্তে আস্তে ছোট এ নদীটির দুপাশে গড়ে উঠে অসংখ্যা ঘর বাড়ি। আর তখন থেকেই কিছু অসাধু দখলদাররা জোর যার মুল্লুক তার নদীতিতে সম্পুর্ণ গায়ের জোরে নদীর দু পাশে সরকারি খাস জমিকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মত বেড়ি বাঁধ দিয়ে অবৈধাবে দখল করে নেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উক্ত নদীটির দুপাশে গড়ে ওঠে প্রায় প্রতিটি পরিবার কেউ ৩ শতক, কেউ ৫শতক, কেউ ১০ শতক, কেউ বেশি জমি দখল করে নিয়েছে। এ কারণে নদী পূর্বে যে পানি ধারণ ক্ষমতা ছিল তা এখন একেবারেই কমে এসেছে। এলাকার অভিজ্ঞ মহলের ধারনা এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১-২ বছরের মধ্যেই উক্ত নদীটির অর্ধেক দখলদারদের দখল চলে যাবে। এ সমস্ত দখলকৃত খাসজমির বৈধ কোন কাগজ পত্র দখলদারদের কাছে নেই। কিছু সাধু দখলদাররা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ কে ম্যানেজ করে ডিসিআর কেটে রাতারাতি নদীটির দুপাশ সরকারী খাস জমি জবর দখল করে নিয়েছে।

একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, অত্র এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জাল দলিল করে দীর্ঘদিন ভোগ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসমস্ত দখলদাররা আবার নদীটির দুপাশে দখলকৃত জমি বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিকট ৫০ হাজার, ৬০ হাজার, ৭০ হাজার, ৯০ হাজার এবং ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রির গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। নদীটির দুপাশে গড়ে ওঠা এসমস্ত দখলদারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকার সচেতন মহল ইতি মধ্যে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একই সাথে নদী খনন ও সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ গুলো তড়িত ব্যবস্থ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ড. কামাল কর ফাঁকি দিয়েছেন কিনা খতিয়ে দেখছে এনবিআর

স্টাফ রির্পোটার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...

মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েদের সব ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে। ...