Home | ফটো সংবাদ | কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার সংবিধানসম্মত না:ড. কামাল

কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার সংবিধানসম্মত না:ড. কামাল

স্টাফ রির্পোটার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনায় কারাগারে আদালত বসানোর সমালোচনা করেছেন ড. কামাল হোসেন। বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের চেষ্টায় আলোচনা চালানো এই নেতা বলেছেন, ‘কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের সঙ্গে কর্নেল তাহেরের বিচার মেলানো হয়েছে।  এভাবে খালেদার বিচার করা অযৌক্তিক।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই মত তুলে ধরেন প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজীবী। এসব কথা বলেন। তার দল গণফোরাম সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে।

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা পরিচালনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালত বসে নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে এখানেই বন্দী তিনি।

আর এই মামলায় রায় হওয়ার এক সপ্তাহ আগে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলয় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন হয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিক ঠিক হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলেই মামলাটিতে রায়ের তারিখ আসবে।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়া আর আদালতে হাজিরা দেননি আর এ কারণে মামলাটির বিচারও শেষ হচ্ছে না। এই অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে গত ৪ সেপ্টেম্বর কারাগারেই আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

কারাগারে আদালত এর আগেও বসেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকাকালে জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহেরের বিচারের আদালত বসেছিল কারগারেই। আর প্রধানমন্ত্রী সেই উদাহরণ টেনে বলেছেন, কারাগারে আদালত কেন বসানো যাবে না।

তবে ড. কামাল বলেন, ‘কারাগারে আদালত বসিয়ে খালেদার বিচারের সঙ্গে কর্নেল তাহেরের বিচার মেলানো হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। এভাবে কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার সংবিধানসম্মত না। এটা আমরা উচ্চ আদালতে বলব।’

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে মন্তব্য করে গণফোরাম নেতা বলেন, ‘দেশে যে অবস্থা চলছে তা সভ্য দেশে চলতে পারে না। এখানে অসভ্য কোনো কিছু করা হলে তা দেশের জনগণ মেনেও নেবে না।’

দেশ সাংবিধানিক শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছে

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধান অমান্য করে দেশ চালাচ্ছে দাবি করে ড কামাল একে ‘গুরুতর সংকট’ আখ্যা দেন। বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। আমরা এসব বিষয়ে আদালতে যাব। উচ্চ আদালতের কাছে আমরা আদেশ চাইব।’

‘মৃত ব্যক্তিকে পুলিশ ককটেল ছুড়তে দেখেছে, আসামিকে বাদী চেনেন না। কিন্তু মামলা হচ্ছে এগুলো আজব দেশেই ঘটতে পারে।’

‘পুলিশ যদি সরকারের অনুমতি ছাড়া এগুলো করে তাহলে সেটা গুরুতর অপরাধ। আর যদি সরকারের অনুমতি নিয়ে করে তাহলে সরকার সংবিধান অমান্য করছে।’

‘অনেক মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে, নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো কারা করছে তা তদন্ত করে দেখা দরকার। গুম-নিখোঁজ শেষে যারা ফিরে আসছে তারাও মুখ খুলছে না। কেন খুলছে না? এভাবে গুম-নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবিধান সমর্থন করে না। এগুলোর বিষয়ে আদালতে তদন্ত হওয়া দরকার।’

গণফোরাম নেতা বলেন, ‘সাদা পোশাকে ধর-পাকড় চলছে। সাদা পোশাকে যারা আটক করছে তারা কারা? সাদা পোশাকধারীদের ছিনতাইকারী ভেবে জনগণ যদি ব্যবস্থা নেয় তখন কী হবে? সংবিধানে রয়েছে কাউকে আটক করতে হলে ইউনিফর্ম পরে আটক করতে হবে। দেশ সাংবিধানিক শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছে।’

নির্বাচনে অংশ নিতে চান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘নির্বাচন হোক সেটা চাই। তবে সে জন্য দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার। সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি

কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে তার অনুমতি এখনও মেলেনি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কামাল হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। তারা করতে পারলে অন্যরা করতে পারবে না কেন? আওয়ামী লীগকে এই জমিদারি ভাব পরিহার করতে হবে।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি না পাওয়ায় মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সমাবেশ হবে বলেও জানান কামাল হোসেন।

১২ ছাত্রকে কেন আটক করা হয়েছে?

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থীকে আটকেরও সমালোচনা করেন কামাল হোসেন। বলেন, ‘এভাবে কেন ছাত্রদের আটক করা হচ্ছে? ছাত্ররা কোটা সংস্কার চেয়েছে, বাতিল চায়নি।’

 

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সরকারের মন্ত্রী বলেন, ‘৪৬ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটার কথা বলা হয়েছিল; সেটা একটা বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। এত বছর পর কোটার দরকার আছে কি-না সেটা তো ভাবতে হবে।’

‘সংবিধানে বলা আছে- যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে। সংবিধানে সকলের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।’

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গণফোরাম কখনও ঐক্য করবে না বলে আবার জানিয়ে দেন ড. কামাল। ২০ দলীয় জোটে জামায়াত থাকা অবস্থায় সেই জোটে গণফোরাম থাকবে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলনে জোটবদ্ধ হব না। আমাদের এ অবস্থানের বিষয়টি আমরা পরবর্তীতে আরও স্পষ্ট করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইজিএমের ভেন্যু জানালো গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন

স্টাফ রির্পোটার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) ভেন্যু জানিয়েছে। ...

কোটালীপাড়ায় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে জমি ও দোকান ঘর দখলের অভিযোগ

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:‘তরুর বাজারে আমাদের একটি দোকান ঘর ছিল। এই দোকান ঘরটিতে ...