Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কসবায় ইউপি সদস্য হত্যা : আধিপত্য বিস্তারের জেরেই খুন, গ্রেফতার ১

কসবায় ইউপি সদস্য হত্যা : আধিপত্য বিস্তারের জেরেই খুন, গ্রেফতার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত হোসেন প্রকাশ জসিম (৩৮) হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মোঃ আলাউদ্দিন বাদী হয়ে গত শনিবার গভীর রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৮জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো
১২/১২জনকে আসামী করা হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ মামলার এফআইভুক্ত আসামী ইয়ানুর-(৩৫) কে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ইয়ানুর যমুনা সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী।

মামলার আসামীরা হলেন, মোঃ জাকির হোসেন, মোশারফ হোসেন মুর্শেদ, ফরহাদ মিয়া, মঈন উদ্দিন, মোবারক মিয়া, জসিম মিয়া, মিলন মিয়া, গোলাম সামদানি, আল-ই-ইমরান, ইয়ানুর, রুহুল আমীন, আবদুল গনি, আল-আমিন, শুক্কুর মিয়া, রাসেল মিয়া, সাঈদী, হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২জন। মামলার ২নং আসামী মোশারফ হোসেন মুর্শেদ মেহারী ইউনিয়ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নিহত জসিমের পরিবারের লোকদের অভিযোগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও একটি পুকুর নিয়ে বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শেদের পরিকল্পনাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শেদের সাথে ইউনিয়নের
১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শওকত হোসেন জসিমের বিরোধ চলে আসছিল। জসিম মেহারী ইউনিয়নের যমুনা গ্রামের গোলাম মোস্তফার  ছেলে। জসিম এলাকায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। তা কোনভাবে মেনে নিতে পারেনি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুর্শেদ।

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জসিম বিপুল ভোটের ব্যবধানে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জসিমের সাথে মুর্শেদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত শুক্রবার দুপুরে দুর্বৃত্তরা জসিমকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে জসিমের স্ত্রী তাকে ফোন দিলে জসিম জানান তিনি বাড়িতে আসছেন। পরে বাড়িতে খবর আসে জসিমকে মেরে যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ফেলে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটায় জসিম মারা যান।

মারা যাওয়ার আগে জসিম হাসপাতালে মোশারফ হোসেন মুর্শেদসহ যারা তাকে মেরেছে তাদের কয়েকজনের নাম বলে যান। তার জবানবন্দিমূলক একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার আসামী জাকির ও মোশারফ হোসেন মুর্শেদ আপন ভাই। তারা এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। মোশরাফ হোসেনের বাবা মরহুম
ছিদ্দিকুর রহমান মেহারী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ভাই জাকির হোসেন উপজেলা বিএনপির সদস্য। গত কয়েক বছর আগে মোশারফ হোসেন মুর্শেদ
বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করে বর্তমানে মেহারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী একজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে
মুর্শেদ এখন বেপরোয়া।

নিহত জসিমের স্ত্রী শিউলি আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুরে আসামী জাকির হোসেন ফোন করে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাতে এশার নামাজের পর তিনি তার স্বামীকে ভাত খাওয়ার জন্য ফোন দিলে জসিম জানান তিনি বাড়িতে আসছেন। পরে বাড়িতে খবর আসে জসিমকে মেরে যমুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ফেলে রাখা হয়েছে।

শিউলী আক্তার অভিযোগ বলেন, টাকা দিয়ে আমার স্বামীকে কিনতে চেয়েছিল মুর্শেদ। কিন্তু আমার স্বামী টাকার কাছে বিক্রি হয়নি। মুর্শেদের কথা মতো না চলার কারণে সে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে অনেক মামলাও দিয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই না পেরে তাকে হত্যা করে।

নিহত জসিমের কন্যা জিদনী আক্তার জানান, আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল মোশারফ হোসেন মুর্শেদ। হত্যাকারীরা আমার বাবার পায়ের
হাড় টুকরো করে কেটে ফেলেছে। আমি বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। জিদনী জানায়, আসামীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে মেহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলম মিয়া জানান, আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই মেম্বার জসিমকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ ব্যাপারে কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভুইয়া জীবন বলেন, তিনি হত্যাকান্ডের বিচার
চান। তিনি বলেন, তদন্তে যদি কোন আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমান মেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, জসিম  মেম্বার হত্যা ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইয়ানুরের
কাছ থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার ৭দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে ইয়ানুরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,
অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকান্ড হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে সহকারি পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মোঃ আবদুল করিম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ইয়ানুরের কাছ থেকে হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করে রোববার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ডেস্ক রির্পোট : উজানের ঢল আর সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে দেশের উত্তর ও ...

রূপপুর দুর্নীতি তদন্তে অনিয়মের সত্যতা, ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

স্টাফ রির্পোটার : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি প্রকল্পে সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটায় দুর্নীতি ...