ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | কক্সবাজার শহরে ভেজাল আচার কারখানা মালিককে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কক্সবাজার শহরে ভেজাল আচার কারখানা মালিককে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৮ সেপ্টেম্বর ॥
পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটকের আগমনকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে দুই ডজনের অধিক ভেজাল আচার তৈরির কারখানা। ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার এর নেতৃত্বে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকা একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল আচার ও আচার তৈরির উপকরণসহ কারখানার মালিক নুরুচ্ছফাকে (২৭)  প্রকাশ আমিনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে একটির সন্ধান পেলেও অক্ষত রয়েছে আরো অনন্তত ২৩টি ভেজাল আচার তৈরীর কারখানা।
এসব কারখানায় খাওয়ার অযোগ্য পচা বরই (কুল), মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল, গুড়, চিনি, রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে আচার তৈরি করা হয়ে থাকে। তাও তৈরি করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। সম্পূর্ণ অবৈধ কারখানাগুলোতে তৈরি ভেজাল আচার প্যাকেটজাত করা হয় মিয়ানমার ভাষায় ছাপানো নকল প্যাকেটে। পুলিশ সহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের মাসোহারা দিয়েই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে ভেজাল কারখানায় তৈরী আচার ব্যবসা।
আটককৃত কারখানা মালিক কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আচার কারখানার মালিককে ৬ মাসের কারাদ- এবং ১০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদ- দেন। আটকভেজাল আচার কারখানা মালিক নুরুচ্ছফা প্রকাশ আমিন চট্টগ্রামের লোহাগড়ার কবির আহমদের ছেলে।সে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বাহারছড়ায় বসবাস করে ভেজাল আচার তৈরি ও বিক্রি করে আসছিল।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, সামনে পর্যটক আগমনকে টার্গেট করে কক্সবাজার শহরে একটি চক্র ভেজাল কারখানায় আচার তৈরি করে তা বাজারজাত করে আসছে।
তিনি বলেন,অস্বাস্থ্যকর এসব আচার তৈরির খবর পেয়ে উত্তর বাহারছড়া এলাকার হারুনের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল আচার ও আচার তৈরির উপকরণসহ মালিককে আটক করার পর ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করার পর তা সাজা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারে পর্যটকের আগমনকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছে দুই ডজনের অধিক ভেজাল আচার তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় খাওয়ার অযোগ্য পচা বরই (কুল), মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল, গুড়, চিনি, রংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে আচার তৈরি করা হয়ে থাকে। তাও তৈরি করা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। সম্পূর্ণ অবৈধ কারখানাগুলোতে তৈরি ভেজাল আচার প্যাকেটজাত করা হয় মিয়ানমার ভাষায় ছাপানো নকল প্যাকেটে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব ভেজাল আচারের প্যাকেটে লাগানো হয় উৎপাদনের মেয়াদ সংবলিত ভুঁয়া টিকিটও। এ ছাড়া লাগানো হয় মিয়ানমারের নকল লেবেল। সব প্রক্রিয়া শেষ করেই প্রতিদিন শহরের দুই ডজনের অধিক অবৈধ আচার তৈরির কারখানা থেকে বাজারজাত করা হচ্ছে লাখ লাখ প্যাকেট ভেজাল আচার।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের সৈকতপাড়া (কবরস্থান পাড়া) হাফেজ, বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় মনু, বউ করিম, এনাম, ডিককুল এলাকায় আলী হোসেন, নেজাম, বাহারছড়া এলাকায় আমিন, জাহাঙ্গীর, চরপাড়ার ফদনার ডেইল এলাকায় জসিম, বায়তুশ শরফ রোডের শরীফ, খুরুশকুল কুলিয়াপাড়ায় ছুরত আলম, লারপাড়া এলাকায় ফরহাদ, নাজিম, ইউনুছ, আজিম, পেশকার পাড়ায় জালাল, বাংলাবাজার এলাকায় নবী, রামু উপজেলার ফকিরা বাজারে সালাউদ্দিন, সজীত সহ পাহাড়তলি, বৈদ্যঘোনা ও কলাতলিসহ আশ পাশ এলাকায় দুই ডজনের বেশি কারখানায় তৈরি হচ্ছে ভেজাল আচার। আর ভেজাল আচার বাজারজাত ও গুদামজাত করছে দুটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন শহরের বাজারঘাটা এলাকার আচার ব্যবসায়ী ছুরত আলম, সালাহ উদ্দিন, ফরহাদ, ইউনুছ ,মাহবুব, শহিদ, আল কালাম, জালাল ও আমিন। অপর সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করেন বাজারঘাটার মসজিদ রোডের আচার ব্যবসায়ী সজীব, আলী, নেজাম, আনোয়ার, হাফেজ, উজ্জ¦ল, এনাম, আজিম ও ছুরত আলম।
কক্সবাজারে তৈরি এসব মিয়ানমারের আচার কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন পর্যটকরা। এসব ভেজাল আচার খেয়ে অনেকের ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অহরহ। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বৈধ পথে সরকারি রাজস্ব দিয়ে মিয়ানমারের যেসব আচার দেশে আসছে, সেই বৈধ ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ে যাচ্ছে ভেজাল আচারের কারণে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব আচার তৈরি, বাজারজাতকারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা পাচ্ছে , কিছু সংবাদকর্মী, কক্সবাজার সদর মডেল থানা, ডিবি, ডিএসবি, শহর ফাঁড়ি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সেনেটারী ইন্সপেক্টর সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য। নেপথ্যে থেকে তারা এসব ভেজাল কারখানা চালু রাখতে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারে হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন। আর পর্যটকরা কক্সবাজার এলেই মিয়ানমারের আচার ও এখানকার উৎপাদিত শুঁটকি কিনে নিয়ে যান। এ সুযোগকে কাজে লগিয়ে আসছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল আচার তৈরি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে কোনো অবস্থায়ই ভেজাল আচারসহ কোনো ভেজাল খাদ্য বিক্রি ও তৈরি করতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে পুলিশ সবসময় সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ সোলতান আহম্মদ সিরাজী জানান, বিভিন্ন কেমিক্যাল ও রং দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব আচার খাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে। এ ছাড়া ধীরে ধীরে ক্যান্সারের মতো রোগও মানবদেহে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...