Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘুষের টাকা হজম করতে পারবেন ডিএডি শওকত কামাল ?

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘুষের টাকা হজম করতে পারবেন ডিএডি শওকত কামাল ?

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : শওকত কামাল। উচ্চমান সহকারী থেকে পদোন্নতি নিয়ে গত সাড়ে ১৫ মাস পূর্বে তিনি কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপ-সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরই গঠন করে দেন পাসপোর্ট লিখক সমিতি নামের উদ্ভট “কথিত দালাল” সমিতি। এধরনের পাসপোর্ট লিখক সমিতি নামের কোন সংগঠন পুরো বাংলাদেশে কোথাও না গজালেও তিনি তা এখানে দেখিয়েছেন।
বহুল আলোচিত ও বির্তকিত উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শওকত কামালের উপর পাসপোর্ট অফিসের অনেক কর্মচারী অসহায়। যার প্রভাব প্রতিপত্তির ভঁয়ে অতিষ্ট হয়েও মুখ খুলতে সাহস পান না আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অফিসার সহ অন্যরা। এমনকি গ্রাহকেরাও নিরূপায়। গত সাড়ে ৩ মাস পূর্বে হতে একের পর এক জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন ঘটনা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা অনৈতিক ভাবে আদায় করা হচ্ছে। ব্যাপক দূর্নীতির গোডাউন খ্যাত এই অফিসের দিকে দৃষ্টি নেই দুদুকের!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় তার পৈত্রিক নিবাস। তার বাবা চট্টগ্রামে রেলওয়েতে গার্ডের চাকুরীর সুবাদে তিনি শিক্ষা জীবন চট্টগ্রামে শেষ করেন। চট্টগ্রামে বেড়ে উঠা শওকত কামাল এই ২০০১ সালে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা আগারগাও পাসপোর্ট অফিসের উচ্চমান সহকারীর চাকুরী নেন। সেখানেও দালালের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে আয় করে অনেক সম্পদের মালিক বনে গেছেন। পরে একজন আমলার আর্শীবাদে কৌশলে উচ্চমান সহকারী থেকে পদোন্নতি পান উপ-সহকারী পরিচালকের।
অনেকটা তদবিরের মাধ্যমে গত ২০১৪ সালে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপ-সহকারী হিসেবে যোগদানের পরপরই তার উদ্যোগে সৃষ্টি হয় দেড় শতাধিক দালাল । এই সব দালালের মাধ্যমে শুরু করে প্রথমে প্রতি আবেদন ফরম জমা দিতে ১ হাজার থেকে ১২ শ’ টাকা আদায়ের রীতি।
অবাধ ঘুষ বাণিজ্য চলার কারণে বিভ্রত সহকারী পরিচালক। নিম্ন পদস্থ কর্মচারী হয়ে তার বসকে জিম্মি করেই নানা নাটকীয় ঘটনার জন্ম দেন সে। অবশ্য গত ২১ মাসে এই অফিস থেকে ২ জন সহকারী পরিচালক স্ব-ইচ্ছায় বদলি হয়ে গেছেন। গত ৩ মাস পূর্বে ডিএডি থেকে ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের চেয়ার পেয়ে তিনি নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে ও বিভিন্ন কায়দায় ফাঁদে ফেলে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ ও বিশেষ পাসপোর্ট করতে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে রশিদ নেন। কিন্তু শুধু মাত্র আবেদন ফরম জমা করতেই আদায় করা হয় বিনা রশিদে ১৫০০ টাকা। তিনি ইতোমধ্যে গাড়ি, বাড়িসহ অনেক সম্পদের মালিক বনে গেছে। জায়গাও কিনেছেন কক্সবাজারে। কলাতলির একটি আবাসিক হোটেলে শেয়ারও দিয়েছেন তিনি।
এই দুর্নীতিবাজ শওকতের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্য সহ নানাবিধ অপকর্মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য ভিত্তিক ,বস্তুনিষ্ঠ ও সচিত্র সংবাদ প্রকাশ পেলেও আজও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। কারণ তার হাত অনেক লম্বা। তিনি অনেক কিছুই পারেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত আসলে কর্মকর্তাদের কেনার ক্ষমতাও তার কাছে আছে বলে বুলি ছুড়েন বিভিন্ন জনকে।
জেলার ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের মনে স্বভাবতই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, শওকত কামালের দুর্নীতি নিয়ে অনেক সংবাদ মাধ্যমে সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তার পিছনের খুঁটির জোর এতই শক্ত যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস পায় না। এমনটি দুর্নীতির টাকায় অনেক পদস্থ কর্মকর্তা ধরাশায়ি হয়ে তার কাছে। কারণ তিনি অবাধে দুর্নীতি করে সেই টাকা অপকর্মে ব্যয়ও করছে। তাই ঘুষের টাকা হজম করতে পারছেন শওকত কামাল। এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শ্রীমঙ্গলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণঃ ধর্ষক ও দুই সহযোগী গ্রেফতার, পলাতক এক

পংকজ কুমার নাগ, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ শ্রীমঙ্গলে সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন ...

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ১০ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :  বকেয়া পরিশোধ না করায় ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ও বাংলাদেশের একমাত্র ...