ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ার সাবেক এনডিপির প্রার্থী বাঘ সাকা’র রায় নিয়ে মাতামাতি নেই

কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ার সাবেক এনডিপির প্রার্থী বাঘ সাকা’র রায় নিয়ে মাতামাতি নেই

saka chowdhurtএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৪ অক্টোবর : মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির রায়ে দন্ডিত যুদ্ধাপরাধী  বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর সদ্য ঘোষিত রায় নিয়ে মাতামাতি নেই তাঁরই নির্বাচনী আরেক এলাকা কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ায়।
সাবেক এনডিপি প্রধান বর্তমান বিএনপির নেতা এই এলাকায় বাঘ সালাউদ্দিন হিসাবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কক্সবাজার (১) অবিভক্ত চকরিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে তার দলীয় প্রতিক ছিল বাঘ।  ওই নির্বাচনে তার অবস্থান ছিল তৃতীয়। এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক এনামুল মঞ্জু তৎকালিন ৮ দলীয় জোট তথা আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট জহিরুল ইসলামকে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তৎসময়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান মাহমুদুল করিম চৌধুরীও নির্বাচন করেছিলেন। তার অবস্থান ৪র্থ থাকলেও এলডিপির প্রার্থী সালউদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রায় ২২ হাজার ভোট পেয়ে ৩য় অবস্থানে ছিলেন। চকরিয়ার সাথে কক্সবাজার (১) আসনটির সীমানা বিন্যাস ছিল পার্শ্ববর্তী বিচিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াও। এক সময় এ আসনটি তৎকালীন মুসলিম লীগের ঘাটি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ছিল।
সাকা চৌধুরী পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক জাতীয় পরিষদের স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর পুত্র। চট্রগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারীতে ফজলুল কাদের চৌধুরীর আলাদা জনপ্রিয়তা ছিল। এর পাশাপাশি জীবিত থাকতে চকরিয়ার সাথেও তার রাজনৈতিক নৈপুন্য ছড়িয়ে পড়ে বেশি। ৯০ এর দশকে পিতার এই সম্পর্কে কাজে লাগিয়ে সাকা চৌধুরী সাংসদ নির্বাচন করে বিপুল ভোট আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বাঘ মার্কা প্রতিক নিয়ে সে বার তিনি চট্রগ্রামের ২টিসহ ৩টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্ধিতা করেছিলেন। চট্রগ্রাম (৭) রাঙ্গুনিয়া আসনে তাকে পরাজিত করে নৌকা প্রতিক নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সিপিবির অধ্যাপক ইউসুফ চৌধুরী। চট্রগ্রাম (৬) রাউজান আসনে বাঘ প্রতিক নিয়ে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি ছিলেন ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল­াহ আল হারুন। তবে চকরিয়া আসনে তিনি নিজেই ৩য় অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। জাতীয় পার্টি সরকারের সময় তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। এরশাদের মন্ত্রী পরিষদ সদস্য থাকার সময় তিনি চকরিয়াতে নিজস্ব একটি রাজনৈতিক বেল্ট তৈরি করেছিলেন।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতনের পরবর্তী নির্বাচনে তিনি এলডিপি ব্যানারে এ আসনের প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামীলীগ বিএনপি ছাড়াও জাসদ জাতীয় পার্টির কিছু প্রভাবশালী নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তার প্রতিক বাঘ মার্কা নিয়ে মূলত নির্বাচন করেছিলেন। আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন কিছু নেতা তার পিছনে নির্বাচন প্রচারে অংশ নিয়েছিল। যার ফলে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নিশ্চিত বিজয় হয়ে যায় হাত ছাড়া।
১৯৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধ ও গনহত্যার অপরাধে গত ১ অক্টোবর আন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেন। এ রায় নিয়ে চট্রগ্রামসহ সর্বত্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে কম বেশি। তবে তার এক সময়ের নির্বাচনী আসন কক্সবাজার (১) চকরিয়া-পেকুয়ার কোথাও এ নিয়ে সবর প্রতিক্রিয়া নেই। চট্রগ্রামে হরতাল পালন করলেও চকরিয়া-পেকুয়ায় ছিল স্বাভাবিক। এখন সবার প্রশ্ন বাঘ সালাউদ্দিন ভক্তরা  এখনকি এখানে নেই। নাকি স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী বলে সাধারণ জনগন ও সমর্থকের মাঝে প্রতিক্রিয়া জানাতে ঘৃনার জন্ম হচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক বিএনপি সরকারের চেয়ার পারসনের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টার দন্ডিত রায় নিয়ে বিএনপির নেতাকর্র্মীরাও রয়েছে সম্পূর্ন নিরব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হারের তিন কারণ জানালেন মাশরাফি

স্পোর্টস ডেস্ক : তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০৪ ...

শীত আসার আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী সবজি

স্টাফ রিপোর্টার :  শীত আসার আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমী সবজি। ...