Home | ব্রেকিং নিউজ | ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারকে বললেন এমপি একরামুল

ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারকে বললেন এমপি একরামুল

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী এমপি।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগতরাত ১২টা ১০ মিনিটের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ফেসবুক লাইভে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন।

রাতে আপলোড হওয়া ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি রাতেই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সাংসদ একরামুল করিমের বেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে এবং আজ শুক্রবার সকালে জেলা শহরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলে তাঁরা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

ভিডিও বার্তায় একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, দেশীমানুষ, স্লামালাইকুম। ‘আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার পরিবারের লোক এই পর্যায়ে এসেছে, তাঁর ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বলেছি মির্জা কাদেরের পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী। আর কাদের ভাই হলো বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকার বংশের কাদের মির্জা গত এক মাস ধরে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এর কোনো বিচার হয় না।’

একরামুল করিম চৌধুরী আরো বলেন, মির্জা কাদেরের আপন চাচা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তাঁকে কাদের ভাইয়ের বাহিনী গুলি করে মেরেছে। তাঁর বাবা ছিলেন মুসলিম লীগার। মির্জা কাদেরের নানা ছিলেন শান্তি বাহিনীর কমান্ডার। মামা ছিলেন রাজাকার। তাঁদের পুরো বংশই ছিল রাজাকার।

এই ভিডিওতে ওবায়দুল কাদেরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এক প্রশ্নের জবাবে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি আসলে কাদের ভাইকে নিয়ে কিছু বলিনি। গত এক মাস ধরে ধৈর্য ধরেছি। আমি মির্জা কাদেরকে উদ্দেশ করেই কথাগুলো বলেছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে জটিলতা কী? জানতে চাইলে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, কমিটি নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই কমিটি এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় ওবায়দুল কাদের মারা গেছেন বলে তাঁরা শুনেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর তিনিই প্রথম ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৩৬ মাস কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

আবদুল কাদের মির্জা মুঠোফোনে বলেন, রাজাকার কে আমাদের পরিবারে? আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন । কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। আমাদের পরিবার নিয়ে কথা বলা দুঃখজনক।

আবদুল কাদের মির্জা সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এত বড় ঔদ্ধত্য তাঁর। আমরা জাতির কাছে বিচার চাই। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। তাঁকে বহিষ্কার করা ছাড়া আমরা রুপালি চত্ত্বর ছাড়বো না’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সোস্যাল ওয়ার্ক

জহির খান রাত আর কতোই মমতা দেয় জড়িয়ে নেয় ঘুম তবুও খুব ...

চরকগাছিয়া টি-১০ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট : পচাঁকোড়ালিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্ডেফ

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া নতুন বাজার ও চরকগাছিয়া সমাজ কল্যাণ ...