ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | এমপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ,৪০টি দোকান ভাংচুর,অর্ধশত আহত, আটক-১৫ ,

এমপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ,৪০টি দোকান ভাংচুর,অর্ধশত আহত, আটক-১৫ ,

shariatpur pic (5)মোঃ আবুল হোসেন সরদার , শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের জাজিরায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রæপের সংঘর্ষ, দু’শতাধিক গুলি ও  বোমার বিস্ফোরন
জাজিরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দু’গ্রæপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রæপের সমর্থকরা শতাধিক ককটেল এর বিস্ফোরন ঘটায়। এ সময় একটি ক্লাবঘর,ক্লিনিকসহ বঙ্গবন্ধুর ছবি,  ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান  ভাংচুর করে। এ ঘটনায় উভয় গ্রæপের প্রায়  ৫০ জন আহত হয়। এ সময় পুরো এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।পুলিশ  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে শতাধিক রাউন্ড গুলী ছুড়ে। ঘটনাস্থল থেকে  জাজিরা থানার পুলিশ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি’র বিরুদ্ধে  নারী পুরুষ মিলে ঝাড়ু মিছিল বের করে।এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত  পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হাবিব হাওলাদার, বাবুল খা, সুকুমার  ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি মোবারক আলী সিকদার ও শরীয়তপুর-১ আসনের বর্তমান এমপি বিএম মোজাম্মেল হক  গ্রæপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র জাজিরার উপজেলার কাজিয়ার চরের শেহের আলী মুন্সিকান্দি গ্রামে আবদুর রাজ্জাক মাদবর ও সোবাহান মাদবরের সমর্থকদের  মধ্যে গত বৃস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত  দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় গ্রæপের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ২০ জন আহত হয়।  বিক্ষুদ্ধ জনতা এ সময় ১০টি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করে। এ ঘটনা জের ধরে  জাজিরা শহরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাজিরা টিএন্ডটি মোড়ে উভয় গ্রæপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র ঢাল ,শরকি,রামদা ছেনদা ,টেটা, ককটেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘন্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রæপের সমর্থকরা শতাধিক ককটেল এর বিস্ফোরন ঘটায়। এ সময় মোবারক সমর্থকরা একটি ক্লাবঘর, বঙ্গবন্ধুর ছবি ময়না ক্লিনিক, রিকসা শ্রমিক লীগের ক্লাবঘর ও  মোহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্কেটের  প্রায় ৪০টি দোকান কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভাংচুর করে। পরে এমপি মোজাম্মেল সমর্থকরা  আবু ফকিরের দোকান, জহির বেপারীর দোকান, মোতালেব মাদবরের দোকান, সিরাজ শেখের দোকান, চান্দু শেখের দোকান, সিরাজ হাওলাদারের দোকান, দানেশ বেপারীর দোকান, ছাত্তার ঢালীর দোকান, ভাংচুর করে ও শতাধিক ককটেল এর  বিস্ফোরন ঘটায় । এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে জাজিরা থানা পুলিশ শর্টগানের  শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষন করে।  সংঘর্ষের সময়  পুরো এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। পুলিশের গুলী বর্ষন ও ককটেলের আঘাতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, সাগর হাওলাদার, রুবেল ছৈয়াল, হালেম ছৈয়াল, জুয়েল বেপারী, আঃ আজিজ, ফারুক খান, সুমন ফকির, আঃ খালেক, ফাতেমা বেগম, হৃদয় মিয়া, ,বিল্লাল সিকদার, মিঠুন ফকির, বাদশা চৌকিদার, দেলোয়ার মুন্সি, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, মোবারক মুন্সি, রাজিব মিয়া ,সাফিয়া খাতুর ,পন্ডিত আলী মুন্সি, ছোরহাব মুন্সি, হাবিবুর রহমান, লিপি আকতার, রাসেল মিয়া । আহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের   মধ্যে  বাদশা চৌকিদার, আতাউর রহমান,দেলোয়ার মুন্সীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। এখনো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।  যে কোন সময় আবার সংঘর্ষে আশংকা রয়েছে। পুরো জাজিরা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে  জাজিরা থানার পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে। এরা হলেন, ওসমান,খলিল ভুইয়া, সোহেল রানা,ধলু মিয়া,মিলন, ধলু চৌকিদার, মফিদুল ঢালী,শাহ আলম,সাদদাম হোসেন,জাকির হোসেন,শাহাব উদ্দিন, ইব্রহিম শেখ,বিল্লাল,শফিক ও  মিঠুন। এ সময়  বিক্ষুদ্ধ নারী-পুরুষ জুতা ও ঝাড়– নিয়ে স্থানীয় এমপি মোজাম্মেল হক এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ  মিছিল বের করে। তারা এমপির অপসারন দাবী করেন।
জাজিরা  বিলাসপুর মুন্সি কান্দি গ্রামের আৎ রহিম সিকদার বলেন,এমপি মোজাম্মেল এর সন্ত্রাসীরা গত তিনদিন যাবত  মোবরক সিকদার সমর্থকদের দোকান পাট ও বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাংচুর করে।সন্ত্রাষীরা শতাধিক বোমা ফাটায়। এ সময় পুলিশ এসে আমাদের লোকজনের উপর গুলী করে। এতে মোবারক আলী সিকদার সমর্থক প্রায় ৩০ জন আহত হয়।
জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির  উদ্দিন বলেন, মোবারক সিকদারের সমর্থক সন্ত্রাসীরা   শুক্রবার সকালে অতর্কিত হামলা করে ক্লাবঘর, দোকানপাট,ভাংচুর করে। এ সময় তারা ব্যাপক বোমার বিস্ফোরন ঘটায়।
আওয়ামলীগ নেতা মোবারক আলী শিকদার বলেন, সাংসদ মোজাম্মেল হকের কারনে এলাকায় আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা বিভিন্ন মামলা-হামলার শিকার হচ্ছে। তাকে যারা বিগত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন তারাও এখন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তার নিজ ইউনিয়ন বিলাশপুরকে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সন্ত্রাসের এলাকায় পরিনীত করেছে। মানুষ এখন এই অবস্থা থেকে পরিত্রান চায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারমোহাম্মদ   এহসান বলেন, ১৫ জনকে আটক করে পরে ৩ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ ১২৬ রাউন্ড গুলী ছুড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আ‘লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি,এম মোজাম্মেল হক বলেন, মোবারক আলী শিকদার ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিএনপি-জামাতের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিল। তিনি এখন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার ব্যক্তিগত ও দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র বোমা তুলে দিয়ে এলাকায় সার্বক্ষনিক সন্ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সিএনজি অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মিশুক, সিএনজি, অটো রিক্সা ...

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...