ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | এমপিওভুক্তি: ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দিলেন শিক্ষকরা

এমপিওভুক্তি: ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দিলেন শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি, বিডিটুডে ২৪ডটকম ॥ আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এরাশত আলী এই সময়সীমা বেঁধে দেন।

তিনি বলেন, আমরা আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে এমপিওভুক্তির ঘোষণা না এলে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে।

আগামী ২২ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ওই বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই।

এমপিওর সমাধান না হলে কোনো শিক্ষকই ঢাকা ছেড়ে যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলেই আমরা কর্মসূচি স্থগিত করব।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে অনশন শেষে মৌনমিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়া হবে বলেও জানান এশারত।

তিনি বলেন, প্রতি দিনের কর্মসূচি শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান শিক্ষকদের দাবির নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার কথা দিয়েছেন বলে জানান এই শিক্ষক নেতা।

গত ৭ জানুয়ারি থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনে পুলিশের হামলায় দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন এশারত।

তিনি বলেন, পিপার স্প্রের বিষক্রিয়াজনিত কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অভাব অনটনে গত ৪ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করেছেন ঠাকুরগাঁয়ের শিক্ষক দিলীপ কুমার।

এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেয়া রাজশাহীর পবা উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম স্ট্রোক করেছেন এবং রংপুরের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মেজবাউল হোসেন আন্দোলনে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ধারাবাহিক আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অচিরেই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হলে দুঃখ-কষ্টে দিশেহারা শিক্ষক-কর্মচারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকবে।

এমপিওর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বেশ কয়েক দিন ধরেই বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যেও শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চ এবং সংসদ ভবনের সামনে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালন করছেন।

এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ৭ জানুয়ারি থেকে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকশ শিক্ষক-কর্মচারী।

দাবি আদায়ে শিক্ষা ভবন ঘেরাও করতে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার সময় শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর শিক্ষকরা আমরণ অনশনের কর্সসূচি ঘোষণা করেন। শহীদ মিনারে অনশনে বসতে গেলেও শিক্ষকদের ওপর পিপার স্প্রে করে পুলিশ।

এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সামনে শিক্ষকদের অনশনে মরিচের গুঁড়ো স্প্রে করে পুলিশ। সংসদ ভবনের সামনেও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষকদের হটিয়ে দেয়া হয়।

শিক্ষকরা জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রায় সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর অপেক্ষায় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এক লাখের মতো শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওর দাবিতে দীর্ঘ দিন থেকেই আন্দোলন করছিলেন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত শিক্ষকরা। গত মে মাসে এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বৈঠকও হয়।

পরবর্তীতে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা। ১ সেপ্টেম্বর তাদের আন্দোলনে কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন বলে আশ্বাস দেয়ার পর কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষকরা। যদিও ওই বৈঠক পরে স্থগিত করা হয়।

x

Check Also

নিজের পরিবারের ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে ১৪ বছরের কিশোর

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নিজের পরিবারের ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে ১৪ ...

পরমাণু সমঝোতার ধারাগুলোতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা যাবে না:রুহানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার ফরাসি সমকক্ষ ইমানুয়েল ম্যাকরোঁর ...