ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | এবার লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সংঘর্ষ

এবার লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সংঘর্ষ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  পূর্ব হিমালয়ের দোকলাম ইস্যুতে ক্রমেই যখন ভারত-চীন সম্পর্ক জটিল হচ্ছে তখন উত্তেজনা থেকে রেহায় মিলছে না পশ্চিম সীমন্তেরও। মঙ্গলবার লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ি ও বাকবিতণ্ডার খবর দিয়েছে চীন এবং ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। রীতি মেনে প্রতিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চীনা সীমান্তবাহিনী শুভেচ্ছা জানায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এবার তা হয়নি।

ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলে প্যাঙ্গোং লেক এলাকায় লাদাখে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। মারাত্মক বাকবিতণ্ডা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। এমনকি তা হাতাহাতিতেও রূপ নিয়ে থাকতে পারে বলে জানানো হয় রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, চীনা গণমুক্তি ফৌজ নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি নামে পরিচিত অভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে এ হাতাহাতি বা সংঘর্ষের সূচনা হয়। তাদের খবর অনুযায়ী এক পর্যায়ে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে চীনের সেনাবাহিনী৷ পাল্টা জবাব হামলা চালায় ভারতও৷ এরপরে বেশ কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে৷ ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের ৭০তম বার্ষিকীর দিনেই লাদাখ সীমান্তে এ সংঘাত ঘটল।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়া দিল্লির এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে,  ভারতের স্বাধীনতা দিবসে চিনা সেনা সীমান্ত লঙ্ঘন করে প্যাংগং লেকের তট ধরে ভারতীয় এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছিল লোহার রড ও পাথর নিয়ে চীনের সেনাবাহিনী লাদাখে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাদেরকে প্রতিহত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এনডিটিভি খবর দিয়েছে চীনা সীমান্তবাহিনীর অন্তত ১৫ জন ভারতীয় এলাকায় ঢুকেছিল। সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় বাহিনী ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) তাদের পথরোধ করে। তাদের খবর অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৬টা-৯টার মধ্যে লাদাখের ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ এলাকা দিয়ে দুইবার সীমান্ত ডিঙানোর চেষ্টা করে চীনের সীমান্তরক্ষীরা।

এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করে নি। আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায় নি ভারতীয় সেনাবাহিনীরও।

উল্লেখ্য, এমনিতেই দোকলাম নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে যুদ্ধংদেহী অবস্থান। সেখানে চীনা সেনাবাহিনীর একটি রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয় ভারতীয় সেনারা। এ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সেখানে দু’দেশের সেনারা। চীন বার বার বলছে, দোকলাম থেকে একতরফাভাবে নিজ দেশের সেনাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে ভারতকে। যদি তা করা না হয় তাহলে উত্তেজনা আরো বাড়বে। ওদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, সীমান্ত ইস্যুতে ১৯৬২ সালে যে যুদ্ধ হয়েছিল তার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে ভারতকে।

লাদাখের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা। ওই এলাকার মালিকানা দাবি করে আসছে ভারত ও চীন উভয়েই। ফিঙ্গার ফোরে চীন একটি সড়ক নির্মাণ করেছে, যা দুই দেশের সীমারেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। পানগং হৃদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড় টহলের জন্য ব্যবহার করে থাকে চীন। এই হৃদের ৪৫ কিলোমিটার পাড় ভারতের এবং ৯০ কিলোমিটার পাড় চীনের মধ্যে পড়েছে। এই হৃদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আজ দুই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক দুই দলের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ...

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে অভিনেতা ডিপজলকে

বিনোদন ডেস্ক : উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের খল ...