Home | ব্রেকিং নিউজ | একজন বকুল চেয়ারম্যান ও কিছু কথা

একজন বকুল চেয়ারম্যান ও কিছু কথা

এইচ এস সারওয়ার

বলছি জল-জোৎস্না, হাওড়-বাওড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুনামগঞ্জের জেলার শিল্পনগরী খ্যাত ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল চৌধুরীর কথা৷ এ উপজেলায় অনেক তৃণমূলের জনসাধারণকে যখন বলা হয় দল-মত নির্বিশেষে তোমার প্রিয় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাকে পছন্দ কর ?

প্রতিত্তোরে দল-মত নির্বিশেষে নির্দ্বিধায় বলে ওঠে– বকুল চেয়ারম্যান৷

এটা এই উপজেলার একটা নির্দিষ্ট মহলের মানুষকে ভাবিয়ে তুলে, হাপিয়ে তুলে কিংবা এটা তাদের জন্য একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷
কিন্তু কেন, তাঁর উত্তর তেমন সহজ নয়, কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ প্রথমেই জেনে নেয়া যাক কে এই বকুল চেয়ারম্যান! কি তাঁর পরিচয় ?

কালের চিরন্তন গতিধারায় স্রষ্টার শুভাশীষ নিয়ে নশ্বর এ ধরাধামে এমন কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে যাদের মধ্যে মেধা এবং সৃজনশীল কর্মে সমাজ আলোকিত হয়, পায় আধুনিকতার ছোঁয়া৷ উন্নয়নের পথ হয় মসৃণ৷ ঠিক তেমনি একজন ব্যক্তি হলেন বকুল চৌধুরী৷ পুরে নাম অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল৷ পারিবারিক পদমর্যাদা, বংশগত আভিজাত্য ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও রয়েছে বংশ পরম্পরার এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য৷ পারিবারিকভাবে দেশ-বিদেশে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠান৷ এ হিসেবে দাপুটে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিও বলা যেতে পারে৷ পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে যুক্তরাজ্যে কিছুদিন অবস্থান করলেও সুখ-স্বাচ্ছন্দ সবকিছু ত্যাগ করে দেশপ্রেমে ফিরে এসেছিলেন চিরচেনা এ মাটির বুকে৷ বিদেশ মোহে  হারিয়ে যেতে দেননি নিজেকে৷ স্বদেশের প্রতি অগাধ ভালেবাসা ও গভীর টানের দরুন সমাজসেবার মহান লক্ষ্যে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে, সাধারণের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় অল্প বয়সে নির্বাচিত হয়েছিলেন জনপ্রতিনিধি৷ দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে৷ সেই থেকে আজ অবধি অপ্রতিরোধ্য পথ চলায় হয়ে যান বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী৷

এবার আসি তাঁর এই বিশালতা ও ব্যাপকতা এক মহলের জন্য কেন খুবই পীড়াদায়ক ?

একজন মানুষ তাঁর জীবনে কতটুকু সফল সেটা তাঁর নিন্দুক/শত্রু সংখ্যা দেখলে অনুধাবন করা যায়৷ তেমনি অলিউর রহমান চৌঃ বকুলেরও নিন্দুকের সংখ্যা নেহাতই কম নয়৷ এরা এই মানুষটিকে বিতর্কিত করতে অপমানিত করতে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে সর্বদা তৎপর৷ কিন্তু কেন !  তাঁর কারণ আরও জটিল৷

লেখার প্রথমার্ধের অংশ পড়ে অনেকেই হয়তো কমেন্ট বক্সে অনেক আক্রমনাত্মক ও নেতিবাচক মন্তব্য করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ হ্যাঁ, দুঃজনকভাবে এটাই স্বাভাবিক৷ একটু পরে হয়তো তা বাস্তবেই দেখতে পাব৷ আর তাদের উদ্দেশ্যে বলছি যে, একজন সম্মানিত জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে কোন নেতিবাচক মন্তব্য করার পূর্বে নিজের অনুন্নত-অসুস্থ অবস্থান নিয়ে নূন্যতম সময় নিয়ে একবার ভাবুন তাহলেই নিজেকে নিজে অনুধাবন করতে পারবেন ৷ তাঁরপর মন্তব্য করুন৷

এবার জেনে নেয়া যাক তাঁর প্রতি এই ঘোর বিরোধিতার নানাবিধ কারণসমূহঃ
এ উপজেলার আমাদের মতো তরুণ প্রজন্মের চিন্তাধারা যেমন- শিক্ষা,ক্রীড়া, কৃষি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে  তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়াসে ওতপ্রোতভাবে জড়ানোই এর প্রধান ও প্রথম কারণ৷ কেননা, অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে  দল-মতের উর্ধ্বে ওঠে কতিপয় মহলের চলমান অন্যায়, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে আপোসহীনভাবে নির্ভীকতার সাথে প্রতিবাদপরায়ন হয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্য, নির্দলীয় জনমত গঠন এবং  সামাজিক ঐক্যের ভিত্তিতে একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন৷ দল-মত নির্বিশেষে  তাঁর এই নিরপেক্ষ কর্মকান্ড একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইতিবাচকভাবে নেয় না৷

বর্তমান আওয়ামী নামধারী কিছু সুবিধাভোগী মহল স্বার্থ-সিদ্ধি উদ্ধারে তাদের পথের কাটা হিসেবে মনে করে তাকে৷  তারা তাকে সুযোগ পেলেই নানাভাবে নিন্দামন্দ করছে, অকত্য ভাষায় কটুক্তি ও বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্ত করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠছে৷ যেমন- আজকাল হয়তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে একটি কুচক্রী মহল তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর সম্বন্ধে নানা অপপ্রচার, গুজব ও কুৎসা রটানোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে৷ তাঁর কারণ একটাই যে তিনি, এ উপজেলার দল-মতের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেকে তৃণমূলের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ও ঈর্ষন্বীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছেন৷

আসল কথা হল লোকসমাজে আমরা নিজেকে একটি সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করলেও দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এখনও উন্নত মন-মানসিকতার চর্চা গড়ে ওঠেনি৷ আর তাই নির্বাচনকালীন এই উত্তপ্ত সময়ে নির্দিষ্ঠ দলের প্রশ্নে এখনও তাকে সংকটময় মূহূর্ত্ব পাড়ি দিতে হচ্ছে৷ এর মাশুল গুণতে হচ্ছে আজও৷ নিরপেক্ষতার এ হীন-ঘৃন্য-ভিত্তিহীন একটি অপবাদ তাকে বইতে হবে অনেককাল৷ এটাই আমাদের নীচু-অনুন্নত মানসিকতার সমাজব্যবস্থার তথাকথিত চিত্র৷ এটা তাঁর মতার্দশের বিপরীত গোত্রে থাকা শত্রু মহলের চক্রান্তকে বর্ধিত করছে বারবার৷
কিন্তু অলিউর রহমান চৌঃ বকুল তাঁর স্বীয় অবস্থানে অটল-অপ্রতিরোধ্য-দুর্বার ৷ শত বাধা-বিপত্তি, ঝড়-ঝাঞ্জা উপেক্ষা করে চলছেন অবিরামভাবে৷

অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, ছাতক উপজেলার একটা প্রজন্মকে তাঁর ক্রীড়াপ্রেমী মনোভাব ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞতার মাধ্যমে মন জয় করেছেন৷  উপজেলা চেয়ারম্যানের মত গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি হিসেবে৷

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলার এমন কোন বিদ্যাপীঠ নেই যে তাঁর পরিদর্শনে বাদ পড়েছে৷ খোঁজ-খবর নিয়েছেন বিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পড়াশুনার৷ সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, সমস্যা সমাধানে সামর্থ অনুযায়ী সরকারীভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন৷  যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বরূপ তিনি একাধারে নির্বাচিত হয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ ও বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান৷ পেয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পদক, ভূষিত হয়েছেন নানা গৌরবজনক সম্মাননায়৷

এ উপজেলার কৃষির ভিত মজবুত করতে গ্রহন করেছেন নানামুখী সৃজনশীল পদক্ষেপ৷ যেমন- কৃষিক্লাব গঠন, বৃক্ষ বিতরণ, কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, ফলন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের উন্নত ও সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করতে গ্রহন করেছেন কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম৷ প্রাকৃতিক প্রতিকূকতার সাথে লড়াই করে অধিক উৎপাদন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও উদ্বৃত্ত খাদ্য বাজারজাতকরণের উদ্যোগে এবার ছাতকের কৃষির ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক বাম্পার ফলন করাতে সক্ষম হয়েছেন৷ যা তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল৷ মাদক বিরোধী ও এর অপকারিতা তুলে ধরে, কৃষি ও শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও প্রসার প্রদানে ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিলি করেছেন হাজার হাজার পোস্টার, লিফলেট ও স্টিকার৷

সর্বোপরি, অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, অনুসারী অপরদিকে শত্রু-নিন্দকদের প্রতি বলতে চাই যে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাঁর দলীয় অবস্থান নিয়ে যে ধোঁয়াশা কিংবা টানাহ্যাচড়ার সৃষ্টি করছেন তা নিঃস্বন্দেহে সম্পূর্ণরূপে নিরর্থক৷

কেননা, এমন ব্যক্তিদের আসলে কোন বিশেষ দলে বৃত্তবন্দি করে লাভ নেই৷ একটি নির্দিষ্ঠ দলের সংকীর্ণতার মধ্যে এরা নিজেকে তেমন একটা জ্বালিয়ে নিতে পারেন না৷ আমার মতে তারা এক ধরণের সর্বদলীয়, নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ অবদানে এ অঞ্চলের উন্নয়ন অগযাত্রাকে তরান্বিত করতে বদ্ধ পরিকর৷

তাই আমাদের উচিৎ, এমন ব্যক্তিকে দল-মতের বাইরে রেখে উন্নয়নের কথা ভেবে দেশ-বিদেশের দুর্লভ অভিজ্ঞতা ও বিরল কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করা৷

শিল্পনগরী ছাতক নিয়ে অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের সৃজনশীল ভাবনা, পদক্ষেপ এবং প্রচেষ্টা ছাতকবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে৷
নিশ্চয়ই তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের মানচিত্রে ছাতককে একটি আদর্শ, আলোকিত ও আধুনিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এবং স্বপ্ন দেখান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত

স্টাফ রির্পোটার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অপারেশনের পর ...

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দুই সপ্তাহ সময় দিল ইইউ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ব্রেক্সিট সমস্যা সমাধানে ও চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা ...