ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে হস্তপে কামনা রাজারহাটে তিস্তা নদী ভাঙ্গনের এলাকায় কান্নার রোল নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে শতাধিক পরিবার

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে হস্তপে কামনা রাজারহাটে তিস্তা নদী ভাঙ্গনের এলাকায় কান্নার রোল নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে শতাধিক পরিবার

আলতাফ হোসেন সরকার, রাজারহাট সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের খবর বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও কর্তৃপরে কোন ভূমিকা না থাকায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষেরা হতাশায় দিনাতিপাত করছে। দিনের পর দিন দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশা নিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করছে। এছাড়াও তীরবর্তী মানুষদের মাঝে নদী ভাঙ্গনের আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে। ভাঙ্গন থেকে রার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে শতাধিক পরিবার। ওয়াপদা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিলেও জনসংখ্যা বেশী হওয়ার কারণে ঠাঁই মিলছেনা সেখানেও। এছাড়াও ভাঙ্গনের ভয়ে অনেকেই নদী থেকে অনেক দূরে ঠাঁই খুজে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত ৭দিনে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে শতাধিক পরিবারের ২ শতাধিক ঘর-বাড়ি। আকর্ষিকভাবে ওয়াপদা বাঁদ ভেঙ্গে আবাসন প্রকল্পের প্রায় ৪০টি পরিবারের ঘর তিস্তা নদী গর্ভে ভেঙ্গে যাওয়ার আতংকে রাত কাটাচ্ছেন আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা। বর্তমানে সেখানে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মাজহারুল ইসলামের নির্দেশে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাশেম সার্বণিক তদারকির ব্যবস্থা করছেন। তবে ভয়াবহ ভাঙ্গনের চিত্র দেখে তিনিও ওই আসনের সংসদ সদস্যের সহযোগিতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহানুভূতি কামনা করেছেন। প্রতিনিয়ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপ তদারকির জন্য আসলেও তেমন কোন বড় ধরনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ভাঙ্গন কবলিত স্থানে বর্তমানে হতাশা আর কান্নার রোল বিরাজ করছে সর্বদা। মানুষের দৌড়-ঝাঁপ যেন এক মহামারির আকার ধারণ করছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রাজারহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুনুর মোঃ আক্তারুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা ছানাউল্লা ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। নদী ভাঙ্গনের স্বীকার আব্দুল বাতেন (৫৫), জহির উদ্দিন (৫২), নূর ইসলাম (৪৮), রফিকুল ইসলাম (৪০) সহ অনেকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোন গুরুত্ব না দেয়ার কারণ প্রতি বছর এভাবেই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রায় শতাধিক পরিবার। বর্তমানে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বস্তা বালু প্যাকেটিং করে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগন্য বলে ধারণা করছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দের ৯টি মৌজাসহ নাজিমখান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের স্বীকার বেশ কিছু লোক বলেন, সরকারী নির্বাচন আসলে এই আসনের এমপি ও নেতা-কর্মীদের দৌড়-ঝাঁপ আর প্রতিশ্র“তিতে আশায় বুক ভরে যায়। কিন্তু নদী ভাঙ্গন শুরু হলে ওই সব লোকদের খোঁজ-খবরও পাওয়া যায় না। একের পর এক রাুসী তিস্তা নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, শিা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, হাট-বাজারসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমি। এভাবেই তিস্তা নদীর বিনাষী খেয়ালে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ৩টি ইউনিয়নের ঐতিহ্য ও বিস্তীর্ণ জনপদ। এ ব্যাপারে তিস্তার ভাঙ্গন রার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী এটি আবু তাহেরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এসব ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি ৩-৪টা প্রজেক্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। অনুমোদন হলে শীঘ্রই ওইসব ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় কাজ শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ৪৪তম বিজ্ঞান মেলা- ২০২২ উদযাপিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪৪তম জাতীয় ...

মদনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ- ২০২২ উদযাপন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ ‘দুর্ঘটনা দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ...