ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৪

sunamসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর ও দিরাই উপজেলায় বিজয়ী হতে বিএনপি-আওয়ামীলীগ দু’দলই মড়িয়া হয়ে মাঠে নেমেছেসুনামগঞ্জ সদর ও দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ভোটের উৎসব। দ্বিতীয় দফায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদর ও দিরাই উপজেলায় ২৭ ফেব্রƒয়ারী ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ দ’ুটি উপজেলায় ভোটারদের মধ্যে ভোটের  উৎসব বিরাজ করার পাশাপাশী চলছে প্রার্থীদের নিয়ে চলছে শেষ মুহুর্তের হিসেব নিকেশ। এ দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্জিয়ী হতে বিএনপি-আওয়ামীলীগ দু’দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মড়িয়া হয়ে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচনী এলাকার সাধারন ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ব্যাক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটাররা তাদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে  ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এদিকে নিজেদের পক্ষ্যে ভোট সংগ্রহ করতে  বিএনপি ও আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পৌর শহর, পাড়া মহল­া , গ্রাম থেকে গ্রামে এমনকি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং উঠান বৈঠক করে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও গুটিয়ে এনেছেন।  নির্বাচনী এলাকার অলিগলি, হাট বাজার পাড়া মহল­ায় এখন শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোষ্টার ব্যানার একই সঙ্গে বিলি করা হয়েছে লিফলেট। ১ম দফায় ১৯ ফেব্রƒয়ারীর নির্বাচনে জেলার ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার পর অবশিষ্ট ৮ উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্ধরা সব কোন্দল ভূলে গিয়ে একাট্রা হয়েছেন। দলের একক প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে সদর উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী দু’প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়িয়েছেন। জেলার অন্য ৩ উপজেলার ন্যায় আ’লীগ প্রার্থীদের  জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে জেলা ও উপজেলা আ’লীগের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন হার্ডলাইনে। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে জেলা আ’লীগ থেকে  ২ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিস্কারও করা হয়েছে। এক্ষেত্রে  সদর উপজেয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকলেও আ’লীগের একক প্রার্থীর বিপরীতে রয়েছেন আওয়ামীলীগের অপর দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। এ কারনে আ’লীগের একক প্রার্থীর জয়ের পথে অপর দুই বিদ্রোহী প্রার্থী অনেকটা ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেয়ায় ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৮ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৭টি। দ্বিতীয় দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৯ জন , ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (কাপ-পিরিচ) প্রতীকে, আ’লীগের একক প্রার্থী হিসাবে মো.জুনেদ আহমদ (মোটর সাইকেল) প্রতীকে , আ’লীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান (হেলিকপ্টার) প্রতীকে, যুবলীগ নেতা মনিষ কান্তি দে মিন্টু (ঘোড়া) প্রতীকে, জাতীয় পার্টির রশিদ আহমেদ (আনারস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ধদ্ধিতা করছেন। সুনামগঞ্জের মরমী কবি ও সাধক পুরুষ হাসন রাজার দৌহিত্র এবং প্রয়াত সাবেক পৌর চেয়ারম্যান দেওয়ান মমিনুল মউজদীনের বড় ভাই হিসাবে ক্লীন ইমেজের অধিকারী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও রয়েছেন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। এ ছাড়াও বিএনপি’র দলীয় গ্রুপিং ও কোন্দল মিটিয়ে ফেলার পর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাব্ েমাঠে রয়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত ঐক্য ঠিকে থাকে তাহলে বিএনপি’র প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়াত জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস জহুরের পুত্র হিসাবে আ’লীগের মনোনিত প্রার্থী মো. জুনেদ আহমদের পক্ষ্যে জেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মতিউর রহমান, সাধারন সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট সহ দলের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন। সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদের সন্তান হিসাবে এবং দলীয়  ও পিতার ইমেজকে কাজে লাগিয়ে  যদি বিদ্রোহী প্রার্থীদের  ভোটের কোন প্রভাব না পড়ে তবে জুনেদ আহমেদেরও বিজয়ী হওয়ার  সম্ভাবনা রয়েছে। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান  সুফিয়ানও নির্বাচনী প্রচারনায় পিছিয়ে নেই। অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতা ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইতি মধ্যে পৌর শহর এমনকি পৌর শহরের বাহিরে মফস্বল এলাকাগুলোতে একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে জয়ের ব্যাপারে পিছিয়ে আ’লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা ও  পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট  মনিষ কান্দি দে মিন্টু । জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসাবে মাঠে সরব অবস্থান রয়েছে রশিদ আহমদের। পৌর শহরের বাহিরে সুরমার উওর পাড়ের ৩টি ইউনিয়নের ভোটের হিসাব রশিদের অনুকুলে এলে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সেক্ষেত্রে কে বিজয়ী হচ্ছেন তাই এখন দেখার জন্য প্রহর গুনছেন সাধারন ভোটাররা।  সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান  পদে একক প্রার্থী হিসাবে আওয়ামীলীগ থেকে রাশেদ বখ্ত নজরুল (বই) , ১৯ দলীয় জোঠ (জামায়াত) থেকে বদরুল কাদির মো.শিহাব (তালা) এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সাবেক পৌর কাউন্সিলর শামীমুর রশীদ চৌধুরী সামু (উড়োজাহাজ) , মো. মমিন মিয়া (টিউবওয়েল) শাহ আলম সেরুল (জাহাজ) ,মো. কামাল হোসেন (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মো. ফেদাউর রহমান (চশমা), সৈয়দ শামছুল ইসলাম (টিয়া পাখি), মাসুক আহমদ (মাইক) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হিসাবে নিগার সুলতানা কেয়া (বৈদ্যুতিক পাখা) , বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে হেলেনা বেগম (প্রজাপতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী সিদ্দিকা (হাঁস), সৈয়দা জাহানারা বেগম (ফুটবল), সামিনা চৌধুরী (পদ্মফুল) ও সাবিনা বেগম (কলস) প্রতীকে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন।দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন করা হবে ২৭ ফেব্রƒয়ারী।  দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৩ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৩ জন সহ মোট ৮ জন প্রার্থী পইদ্ধন্ধিতা করছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ উভয় দল থেকেই একক প্রার্থী দেয়ায় এ উপজেলায় বিদ্রোহী মুক্ত পরিবেশেই উপজেলা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারনা গুটিয়ে এনেছেন প্রার্থীরা। আওয়ামীলীগ থেকে আলতাব উদ্দিন (আনারস) ও বিএনপি থেকে হাফিজুর রহমান তালুকদার (মোটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। মূলত এরা দু’জন দু’দল থেকে দলীয় প্রার্থী হলেও এ উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপির সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে আলতাব উদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে হাফিজুর রহমান তালুকদার ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার পেছনে দু’দলের দু’ নেতার প্রেষ্ট্রিজ ইস্যু হয়ে দাড়িয়েছে। দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) বিএনপি থেকে  গোলাপ মিয়া (উড়োজাহাজ), আ’লীগ থেকে রঞ্জন কুমার রায় (টিউবওয়েল), স্বতন্ত্র প্রার্থী অজিত বরুণ তালুকদার (তালা) প্রতীকে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন।ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে বিএনপি থেকে ছবি চৌধুরী (হাঁস) , আ’লীগ থেকে বীনা জয়নাল (সেলাই) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে রিনা বেগম (কলস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর মধ্যে ভেড়া ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ

সুদর্শন আচার্য্য, মদন, নেত্রকোণা ঃ সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর মাঝে ...

What Is Cmmi? A Model For Optimizing Development Processes

Содержание Managed Processes Maturity Model Structure Do You Want To Implement The ...