ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | ঈদের পরপরই মহাজোট ছাড়ছেন এরশাদ

ঈদের পরপরই মহাজোট ছাড়ছেন এরশাদ

jiboner somosto shokti diye rinh shudh korbu -ershad 04.10 (2)স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের পরপরই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ শিগগিরই আওয়ামী লীগের নের্তৃত্বাধীন মহাজোট ছাড়ছেন বলে দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

তবে এই জোটের নের্তৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মহাজোট ছাড়ছেন এমন বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি মহাজোটের শরিক দল বাম নেতারাও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন।

মহাজোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিভিন্ন সভা, সেমিনারে জোট থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে ঈদের পরপরই যে কোনো দিন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা দিবেন বলে দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মহাজোট সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অমিল দেখা দেয়। মন্ত্রীত্ব ভাগাভাগি, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে সরকারের কোনো গুরত্বপূর্ণ পদ না দেয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতেই অর্ন্তদ্বন্দ্ব বড়াতে শুরু করে।

এদিকে গত সাড়ে চার বছরে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবমূল্যায়ণসহ সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা না রাখা নিয়ে চলে দর কষাকষি। এছাড়াও সরকারের কোনো গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পার্টিকে না জানিয়ে একক সিদ্ধান্ত নেয়াতো রয়েছেই।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও দলটির সিনিয়র নেতাদের মহাজোট গঠনের সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে জাতীয় পার্টির পানি খাওয়ানোয় সরকারের মধ্যে একধরনের চাপা ক্ষোভও রয়েছে।

অপরদিকে হেফাজতে ইস্যুতেও খোদ প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিরক্ত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এছাড়াও আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে কোনো ব্যাপারে পরামর্শ বা প্রচারণায় অংশগ্রহণে সুযোগ না দেয়ায় দলের সিনিয়র নেতারাও অনেকটা বিরক্ত।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আর থাকা সম্ভব নয়। কারণ ইতোমধ্যে ওই দলটি আমদের সঙ্গে বেঈমানী করেছে। মহাজোট ক্ষমতায় গিয়ে আমাদের যেসব সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা ছিল, তার কিছুই করেনি। বরং তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেছে।

এদিকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আবারও পূর্নজীবিত করা হয়েছে। এসব নিয়ে আমাদের দলের মধ্যেও নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে। ফলে এখন আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

মহাজোটের নের্তৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, মহাজোট আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও মহাজোটের নের্তৃত্বেই হবে। মহজোটে বেশ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত। ফলে এখানে নানা ধরনের সমস্যা থাকতেই পারে। এই জোটে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগি নেতা রয়েছেন। এসব নেতারা চাহিদামত সব সুযোগ-সুবিধা নাও পেতে পারেন। তার মানে মহাজোট ভেঙ্গে যাবে এমনটা নয়।

মহাজোটের শরিক বামদলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টি ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মহাজোটে আছেন। জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাবেন এমন ঘোষণা সম্পর্কে তারা বলেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তিনি এ ঘোষণা দিতে পারেন। তার মানে এই নয়, জাতীয় পার্টি মহাজোটে নেই।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘খুব শিগগিরই জাতীয় পার্টি মহাজোট ছেড়ে দেবে। এই দায়িত্ব পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ওপর রয়েছে। তিনি খুব শিগগিরই ঘোষণা দিবেন। জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩০০ আসনে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।’

মহাজোট ছেড়ে দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মহাজোট ছেড়ে দেয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। মহাজোট গঠনের সময় জাতীয় পার্টির তাদের কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা ছিল। তার কিছুই পূরণ হয়নি। তাদের সঙ্গে আসন ও মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির একটা বিষয় ছিল। এ বিষয়টিও আওয়ামী লীগ পূরণ করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে গিয়ে দেখবে, কত ভোট কাস্টিং হয়। আমাদের পক্ষে দেশের কত ভাগ মানুষ রয়েছে সেটা জানা দরকার। এতে দলটিও পাকাপোক্ত হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যেহেতু ঘোষণা দিয়ে আসছেন তাই এ ব্যাপারে আমার বলার কিছুই নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফরউল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলে।’

তিনি এরশাদ সম্পর্কে বলেন, ‘বক্তব্য দিয়ে দর কষাকষি করে যুতটুকু পাওয়া যায়, সেই চেষ্টাই পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ করছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি মহাজোটে থেকেই নির্বাচন করবেন।’

জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে কিছুই পায়নি এমন অভিযোগের কথা উড়িয়ে দিয়ে জাফরউল্লাহ বলেন, ‘তাদের মহজোট থেকে যা পাওয়ার কথা ছিল তার চেয়েও বেশি পেয়েছে। তাদেরকে ৪০০ কোটি টাকার একটি ব্যাংক দেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন,  ‘হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা এটা শেষ কথা নয়। নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পরই তার আসল চেহারা দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘১৪ দল থেকে মহাজোট গঠনের সময় এরশাদের সঙ্গে সিট ভাগাভাগি করেছিল আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচনে নামলে জোটের কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে এরশাদের কি আলোচনা হয়েছিল তা আমাদের জানা নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ বিএনপির

স্টাফ রির্পোটার : দুর্নীতি মামলায় দণ্ড পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ...

দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রির্পোটার : দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয় বলে মন্তব্য করেছেন ...