Home | জাতীয় | ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাল টাকার কারবারিরা

ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাল টাকার কারবারিরা

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদকে সামনে রেখে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাল টাকার কারবারিরা।প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে এরা এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।খোদ গত শনিবার রাজধানীতে দুটি অভিযানে জালনোট তৈরি চক্রের ১০জন সদস্যেকে আটক করেন র‌্যাব এবং পুলিশ। তবে তাদের বেশিরভাগ সহযোগীই এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
ঈদে কেনাকাটার সময় ব্যস্ততার কারণে মানুষ বছরের অন্য সময়ের তুলনায় টাকা আসল কি না সে দিকে নজর দেয়ার সময় পায় না। এই সুযোগটাই নেয় জাল টাকার কারবারিরা। আবার আধুনিক প্রযুক্তি আসার পর জাল টাকা সবার পক্ষে ধরাও কঠিন। আর এই সুযোগে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে প্রতারকরা।

শনিবার রাতে ঢাকার বনশ্রী এলাকার একটি বাড়ি থেকে জাল টাকার কারবারিকে এক কোটি টাকারও বেশি নকল নোটসহ আটক করে র‌্যাব। তাদের ১০ কোটির টাকার নকল নোট তৈরির পরিকল্পনা ছিল। আটক রহিম শেখ র‌্যাবকে জানান, পিরোজপুর থেকে ঢাকা এসে পরিবহণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। পরে জাল টাকা দিয়ে প্রতারণায় যোগ দেন তিনি। আর এই প্রক্রিয়ায় কপর্দকহীন অবস্থা থেকে ছয় বছরেই কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি।

একই দিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা জালনোট তৈরি চক্রের ছয় সদস্যেকে আটক করে পুলিশ।গত সপ্তাহে সিলেট থেকে আটক হয় ১০ লাখ টাকার নকল নোটসহ বেশ কয়েকজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে রোজা ও ঈদের সময়টাতে ব্যাপক কেনাবেচা হয় আর সেই সুযোগে এই চক্রগুলো জাল নোট বাজারে ছাড়ে। প্রায়ই জাল টাকার কারবারিরা আটক হলেও জামিন পেয়ে আবারও জড়ায় একই কারবারে।

গত বছর রোজায়ও রাজধানী উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জালটাকাসহ আটক হয় ১০ জনেরও বেশি। হাতেনাতে আটকের পরও মামলাটি শেষ করা যায়নি এক বছরেও।

‌র‌্যাব পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) মুফতি মাহমুদ খান  বলেন, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে এসব চক্রগুলো সক্রিয় হয়। তাদের সে তৎপরতা রুখতে বরাবরের মতো এবারো সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা ডাটাবেজ অনুযায়ী রাজধানীতে ১৫টি জাল টাকা তৈরির চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি চক্রে ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। এ সদস্যরা আবার কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করে। এদের এক লাখ জাল টাকা বিক্রি হয় ১২ হাজার টাকায়। প্রতিটি জেলায় এদের অন্তত একজন করে এজেন্ট থাকে। সদস্যদের মাধ্যমে বাজারে ছাড়ার জন্য প্রতিটি এজেন্টকে ১০ লাখ করে জাল টাকা দেওয়া হয়।

তিনি  বলেন, জাল টাকার চক্রগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা কাজ করছে বা করার চেষ্টা করছে তাদের প্রত্যেককে ধরার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, ব্যাংকের বুথেও জাল টাকা মিলছে। বান্দরবান ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকারও বেশি জাল টাকা পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে মাস ছয়েক আগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুথেও মিলেছে নকল টাকা।
বছর দুয়েক আগে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মিরপুর শাখায়ও পঞ্চাশ হাজার টাকার বান্ডিলে দুই হাজার টাকার জালনোট পায় আবদুর রহিম নামে এক ব্যক্তি। বিষয়টি তিনি ক্যাশ কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি দাবী করেন এটা তিনি দেননি। গ্রাহক নিজেই নিয়ে এসেছেন। তিনি কর্মকর্তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, আপনি সিসি টিভি ক্যামেরায় দেখেন আমি আপনার রুম থেকে বের হয়নি। আপনার এ কাউন্টারে টাকা গুনেছি।পরে বিষয়টি তিনি শাখা ব্যবস্থাপককে জানলে তিনি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিশ্চিত হন। এবং গ্রাহকের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে বিষয়টি মিটমাট করেন।
জাল টাকার এই নৈরাজ্য নিয়ে উদ্বেগ আছে সরকারেও। জাল টাকা রুখতে করণীয় ঠিক করতে সম্প্রতি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান  বলেন, আগামী ৩০ জুন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) নিকট জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতরণ ছাড়াও ব্যবসায়ীরা চাইলে নিজ উদ্যোগে এসব মেশিন সংগ্রহ করতে পারবেন। ২০০০ টাকার মধ্যেই এ মেশিন কেনা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুক্রবার ঢাকা আসছেন ভারতের সেনাপ্রধান

স্টাফ রিপোর্টার :  সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের আমন্ত্রণে ঢাকা আসছেন ...

কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার ব্যাংক বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার :  জাতীয় সংসদের সুনামগঞ্জ-২ আসন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে ...