Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | ইবোলার প্রথম কার্যকর ওষুধ তৈরি করছে চীন

ইবোলার প্রথম কার্যকর ওষুধ তৈরি করছে চীন

স্বাস্থ্য ডেস্ক : ইবোলার প্রথম কার্যকর ওষুধ আসতে পারে চীন থেকে। নিরাময়ের জন্য হলেও এই ওষুধ উদ্ভাবনের ঘটনা, আফ্রিকা বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, তা দূর করতে পারে বলে মনে করেন ডিডাব্লিউ কলামনিস্ট ফ্রাঙ্ক সিয়েরেন।

পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্তদের জন্য এটা টানেলের শেষপ্রান্তে আলোর দেখা পাওয়ার মতো ঘটনা হতে পারে। নতুন এক ওষুধের খবর আসছে, আর সেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ থেকে নয়, চীন থেকে। চীনের তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ কোম্পানি সিহুয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস সম্প্রতি জেকে-০৫ নামের একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের কয়েক হাজার ডোজ আফ্রিকায় পাঠিয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা চীনা সাহায্য কর্মীরা যদি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাদের জন্যই এই ওষুধ পাঠানো হয়েছে। তবে চীনের ‘অ্যাকাডেমি অফ মিলিটারি মেডিক্যাল সায়েন্স’ এর সঙ্গে মিলে ওষুধ কোম্পানিটি আরো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে যেন চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই আফ্রিকার রোগীরা ওষুধটি ব্যবহার করতে পারেন।
গবেষণাগারে জেকে-০৫ উৎসাহমূলক কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে মানবদেহে এখনো এই ওষুধের কোনো পরীক্ষা চালানো হয়নি। সে কারণে এখন পর্যন্ত শুধু জরুরি সামরিক প্রয়োজনে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মানবদেহে পরীক্ষা সফল হলে চীনা এই ওষুধটি ইবোলা চিকিৎসায় বড় পরিসরে ব্যবহার করতে পারা প্রথম ওষুধ হতে পারে। কারণ সাধারণ রাসায়নিক কাঠামোর কারণে ওষুধটি সহজেই ব্যাপক হারে উৎপাদন করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষামূলক ইবোলা ওষুধ জিম্যাপ এর চেয়ে এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে জেকে-০৫, কারণ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকার পরও জিম্যাপ এর মজুদ কমে আসছে।
ভাবমূর্তি বাড়ানো ওষুধ
এক দশক আগে যখন সার্স ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল তখন চীনা সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তখন তারা খুব দ্রুত সার্সের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছিল। এতে করে মহামারী নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এবারও দ্রুত ফল পেতে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এটা সম্ভব হলে বেশ ভালো হবে এবং সেটা শুধু পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত এলাকায় থাকা হাজার হাজার চীনা নাগরিকের জন্য নয়।
বেইজিং মনে করছে, তাদের উদ্ভাবিত ওষুধটা রাজনৈতিকভাবেও বেশ কাজের হবে। এর ফলে পশ্চিমে ও আফ্রিকায় চীনের সমালোচকদের কাছে চীনের ভাবমূর্তি বাড়তে পারে। এ কারণে সরকার এমন এক খাতে অর্থ, সময় ও সম্পদ বিনিয়োগ করছে, যেটা চীনের নিজের জন্য অতটা জরুরি নয়। এছাড়া ওষুধ উদ্ভাবনের ব্যাপারটি দেশের ভিতরে ভাবমূর্তি বাড়াতে কাজে লাগাতে পারে সরকার। এক্ষেত্রে সরকার বলতে পারে, ইবোলার ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের চেয়ে চীনই বেশি সফলতা দেখিয়েছে।
এখন পর্যন্ত সীমিত আর্থিক সহায়তা
আফ্রিকার জনগণের মানবাধিকার আর প্রয়োজনের দিকে নজর না দিয়ে ওই মহাদেশ থেকে চীন শুধু মুনাফা বা লাভ খুঁজে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের। ইবোলার ক্ষেত্রেও চীন এখনও সেই পর্যায়েই আছে- অন্তত পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে। ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না দেয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে বেইজিং।
পরিসংখ্যান বলছে, ইবোলা মোকাবিলায় ইউরোপ ৫৭০ মিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্র দেড় শ’ মিলিয়ন ডলার অঙ্গীকার করেছে। সেখানে চীন করেছে ৪০ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান দেখে সবাই ধারণা করতে পারে, আফ্রিকার এই দুঃসময় নিয়ে চীন ততটা পরোয়া করছে না। ব্যক্তিগতভাবে বিল গেটস তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৫০ মিলিয়ন ডলার ও ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক সাকারবার্গ ২৫ মিলিয়ন ডলার অঙ্গীকার করেছেন।
তবে বেইজিং যে ওষুধ বের করতে অর্থ বিনিয়োগ করছে সেটা এই হিসাবের মধ্যে নেই। বেইজিং অবশ্য এটা বলতে পছন্দ করে, তারা আফ্রিকার অবকাঠামো উন্নয়নে অন্যদের চেয়ে বেশিই বিনিয়োগ করেছে। সড়ক, বিদ্যুৎ, টেলিকম নেটওয়ার্ক সবকিছুই ইবোলার বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে। ফলে নিজের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো অভিযোগ খণ্ডাতে পারে চীন। সম্প্রতি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোরঁ ফাবিয়ুস ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ইবোলার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়বেন।
যৌথ গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো হবে এবং মহামারি প্রতিরোধের মতো বিষয়ে নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে। এই দুই দেশ পশ্চিম আফ্রিকার সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়াতে চায়। ফ্রান্স চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে চাইছে যেন নিজেদের দুর্বল অর্থনীতি বাঁচাতে ফ্রান্স কিছু চুক্তি পেতে পারে। ইবোলাকে বিভিন্ন দেশের প্রতিদিনকার রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ করাটা হয়ত নৈরাশ্যজনক মনে হতে পারে। তবে ভুক্তভোগীদের জন্য হয়ত সুবিধাই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৪.৬ ভাগ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার :  দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর শতকরা ৪.৬ ভাগ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। যে ...

পুনঃনিয়োগ পেলেন বিএসএমএমইউ’র প্রো-ভিসি ডা. শহীদুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার :  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ...