Home | সারা দেশ | আড়াই বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ১৭জনের মৃত্যু কুষ্টিয়ায় ট্রেনেকেটে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে

আড়াই বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ১৭জনের মৃত্যু কুষ্টিয়ায় ট্রেনেকেটে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কখনো রেললাইন পার হাওয়ার সময় আবার কখনো স্বেচ্ছায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আতœহত্যা করছে মানুষ। আবার রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় ফোনে কথা বলা, গান শোনা, রেললাইনের পাশে কাঁচা বাজার, বস্তি থাকার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা লাফিয়ে বাড়ছে। তবে ঘটনা যায় হোক এসব দুর্ঘটনার পর লাশ উদ্ধার আর দায়সারা তদন্তেই শেষ হয় সবকিছু। বেশির ভাগ তদন্ত আলোর মুখ না দেখায় স্বজন হারা পরিবারগুলো কোন ক্ষতিপূরন পায় না। সুত্র জানায়, গত আড়াই বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ১৭জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চলতি বছরে ৬জন, ২০১৫সালে ৬জন এবং ২০১৪ সালে ৫জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ২৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন কিশোর (২৭) নিহত হয়। শহরের বাবর আলী গেট লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গত ১১ এপ্রিল সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে জলি (২২) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়। মিরপুর রেলস্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জলি পাশ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জলি সকালে রেললাইন পার হওয়ার সময় মোবাইলে কথা বলছিলো। এসময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে সে ট্রেনে নিচে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। গত ১৮ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধায় কুষ্টিয়ার খোকসায় ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে অজ্ঞাত (২৬) এক যুবক আতœহত্যা করে। খোকসা রেল স্টেশনের পূর্ব দিকের পদ্মবিলা গ্রামের মধ্যে পোড়াদহগামী সাটেল ট্রেনের নিচে ঝাপ আতœহত্যা করে। গত ২৬ মার্চ শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে অজ্ঞাত (২৫) এক যুবক আতœহত্যা করে। পৌড়াদহ রেল ষ্টেশনের উত্তর দিকে ষ্টেশন থেকে মাত্র ২শ গজ দুরে এ আতœ হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় মহানন্দা আপ খুলনা হতে রাজশাহীগামী ট্রেনটি পোড়াদহ ষ্টেশন ত্যাগ করে। এক নং প্লাটফরমের অদূরেই পোড়াদহ ফুটবল মাঠের বিপরীতে ময়নাগাড়ী রেলগেট এর আগেই এক অজ্ঞাত পরিচয়হীন যুবক ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আতœহত্যা করে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনে কেটে সোহেল রানা (২৪) এবং জাবেদ আলী (৩২) নামের দুই শ্রমিক নিহত হয়। মিরপুর স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন দুপুরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মিরপুর স্টেশনের কাছে সোহেল রানা ও জাবেদ আলীকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহেল রানা মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাবেদ নামে আরো এক শ্রমিক মারা যান। নিহত সোহেল রানা মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে ও জাবেদ আলী একই এলাকার বাদশা আলমের ছেলে। এদিকে ২০১৫ সালের কুষ্টিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে গত ২ নভেম্বর কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আজমুল হোসেন (২০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। উপজেলাধীন ফুলবাড়ীয়া রেলগেট সন্নিকটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া মোল্লাপাড়া মহল্লার আব্দুর রহমানের ছেলে। গত ২৬ এপ্রিল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা শহরের দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়। গত ১৯ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) এক নারীর মৃত্যু হয়। মিরপুর ষ্টেশন সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। গত ২৬ এপ্রিল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা শহরের দক্ষিণ রেল গেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়। গত মার্চ ২ কুষ্টিয়ার মিরপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে শান্তি সাহা (৭২) নামের এক বৃদ্ধা আতœহত্যা করে। সে মিরপুর পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ড হলপাড়া গ্রামের মৃত রামপদ সাহার স্ত্রী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জগতি ইউনিয়নে ট্রেনে কাটা পড়ে পিন্টু হোসেন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া-পোড়াদহ ট্রেন লাইনের জগতি কলাবাড়িয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অপরদিকে ২০১৪ সালের কুষ্টিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়। গত ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত (৪৫) এক মহিলার মৃত্যু হয়। গত ৩ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ট্রেনে কাটা পড়ে তন্ময় (২০) নামের ১ যুবক নিহত হয়। সে ভেড়ামারা পৌরসভার পোষ্ট অফিস পাড়ার মিজানুর রহমান বকুলের ছেলে। গত ৩ অক্টোবর একই কুষ্টিয়ার পোড়াদহে ট্রেনে কাটা পড়ে সুমাইয়া খাতুন (২০) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। নিহত সুমাইয়া পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী। গত ১২ মে কুষ্টিয়ার খোকসায় ট্রেনে কাটা পড়ে শান্টু শেখ (২৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়। তিনি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার বরাত মাজাইল গ্রামের ইদ্রিস শেখের ছেলে। গত ১২ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৪৫) এক ব্যাক্তির নিহত হয়। কুষ্টিয়ার পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী সুনিল কুমার ঘোষ জানায়, কুষ্টিয়া জেলার ১০টি স্টেশনের মোট ৪২.৫ কিলমিটার রেল পথ রয়েছে। এসব রেল পথে মানুষের নিরাপত্তা দিতে লোক বলের প্রয়োজন। লোক বল বাড়াতে বেশ কয়েকবার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হলেও কাজ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি সারাদেশে পাথর বাজারজাত করতে ৮ রেল স্টেশনে নির্মাণ করা হবে স্টক ইয়ার্ড

মুসলিমুর রহমান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত মধ্যপাড়া পাথর খনির উন্নতমানের ...

অন্তির শুভ জন্মদিন পালিত

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ দৈনিক অজানা বার্তার সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক দেশ জনপদ, সময়ের ...