ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | আস্থা অর্জনের কঠিন পরীক্ষায় খোকা !

আস্থা অর্জনের কঠিন পরীক্ষায় খোকা !

sadek hossain khokaস্টাফ রিপোর্টার : চেয়ারপারসন এবং দলের বিরাগভাজন নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা !
২০১১ সালের ১৫ মে সাদেক হোসেন খোকাকে আহবায়ক, আব্দুস সালামকে সদস্যসচিব এবং ১৯ জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় থেকে ৬ মাসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি ঢাকা মহানগর বিএনপি।
গ্রহণযোগ্য সাংগঠনিক সক্ষমতা গড়ে না ওঠায় তাদের  কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য হারে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। এছাড়াও রাজনৈতিক দুর্যোগ ওয়ান ইলেভেনের সময় সাদেক হোসেন খোকার কর্মকান্ডে তাকে নিয়ে দলের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়। মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে জোরালো নেতৃত্ব না থাকা এবং অন্য প্রতিযোগী নেতাদের তৎপরতায় বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের নেতাকর্মীদের একটা অংশের কাছে তিনি আস্থাহীনতায় ভুগছেন।
ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা? ২৫ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোটের ডাকা সমাবেশে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য লগি-বৈঠার আক্রমণ ঠেকাতে দলীয় নেতাকর্মীদের দা-কুড়াল নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। আর এই বক্তব্যই এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি ।
স্বাধীন সার্বভৌমত্ব গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক নেতার এ সশস্ত্র বক্তব্য নিয়ে অনেক মহলে রয়েছে কঠোর সমালোচনা। কেন এমন বক্তব্য দিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা   দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দা-কুড়াল, লগি-বৈঠা ভদ্র লোকের ভাষা নয়।
বিএনপির দফতর সম্পাদক হুরুল কবির রিজভী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত কথা বলায় পুলিশ তল্লাশী অভিযানের নামে খোকা পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে। এটা সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
ঈদের ঠিক আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দফায় দফায় খোকার গুলশান এবং গোপীবাগের বাসায় অভিযান চালালেও তাকে আটক করতে পারেনি। তিনি কোথায় রয়েছেন কেউ তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে কোনো অভিযান হচ্ছে না। তালিকাভুক্ত আসামিদের ধরার জন্য এটি নিয়মিত অভিযানের অংশ।
সাদেক হোসেন খোকার বাসায় দফায় দফায় পুলিশি অভিযানের ফলে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে তার পরিবারেও। রাজনৈতিক পরিমন্ডলে হুমকি-ধামকি, পুলিশি হয়রানি, প্রতিপক্ষ-প্রতিদ্বন্দীর হামলা-মামলা, কারাভোগ নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের ১১ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভেঙ্গে বিরোধী দলের ১৪৮জন শীর্ষ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সাদেক হোসেন খোকাও ছিলেন। আটকের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই খোকাকে মুক্তি দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার সমালোচনায় সবর থেকেছেন খোকা। বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তুলোধুনা করেছেন। সম্প্রতি রাজধানীতে হানিফ ফ্লাইওভারের উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর কিছুক্ষণ পরই সাদেক হোসেন খোকা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিএনপির কৃতিত্ব ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলেন।
আর এর পরই দিলেন দা-কুড়াল থিওরি। খোকার এই বক্তব্য নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এমন বক্তব্য বিএনপির জন্য কতটা ইতিবাচক ? এ বক্তব্য দিয়ে সাদেক হোসেন খোকা কি তাহলে বিরাগ ভাজনদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন ? সময়ই বলে দেবে সকল প্রশ্নের আসল উত্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সোনালী ব্যাংকের ডিরেক্টরের শ্রদ্ধা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ...

দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস আজ

দিনাজপুর প্রতিনিধি : আজ ২৪ আগস্ট। দেশের ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বরোচিত ঘটনা পুলিশ ...