ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | আসাম-ভুটান সীমান্তে ডাইনোসর আতঙ্ক!

আসাম-ভুটান সীমান্তে ডাইনোসর আতঙ্ক!

স্টাফ রিপোর্টার, ২৪ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : পৃথিবী থেকে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ডাইনোসর বিদায় নিয়েছে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে। এখন কেবল পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাদের দেহাবশেষ বা ফসিল। এখন এসব ফসিল মাটির গভীর থেকে তুলে আনছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে তাই বলে এই একবিংশ শতাব্দীতেও যে কোথাও ডাইনোসর ভীতি দেখা দিতে পারে তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু তাই ঘটেছে ভারতের আসাম-ভূটান সীমান্তবর্তী চিরাঙে।

প্রাগৈতিহাসিক ভয়ঙ্কর মাংশাসী ডাইনোসর টিরানোসোরাস রেক্সের ভয়ে নাকি রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে চিরাঙের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। আশপাশের গ্রামে যারা ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিটি দেখেছেন তারা আরও রং চড়িয়ে বাকিদের বলছেন, ‘টিরানোসোরাস রেক্স’ গ্রামে হানা দিলে কেমন কাণ্ড হতে পারে।

এই ভিতীর উৎস এক তাজা ডাইনো-সদৃশ কঙ্কাল! এমনই এক কঙ্কালকে ঘিরে স্থানীয় বনকর্তা, শিক্ষক, গ্রামবাসীসহ সকলেই চিন্তিত। বনকর্তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের সঙ্গে প্রাগৈতিহাসির প্রাণীটির মিল রয়েছে। চেনা কোনও প্রাণীর কঙ্কাল এমনটা হতেই পারে না।

ঘটনার শুরু মাসখানেক আগে। আসাম-ভুটান সীমান্তে, কুকলুংয়ের জঙ্গলের ভিতরে ভাঙাপাহাড়ের মাথায় রয়েছে বাথৌ মন্দির। স্থানীয় মাটকা পাটকিগুড়ি গ্রামের মানুষ মাঝেমধ্যে মন্দিরে পূজা দিতে আসেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি এমনই একদল পুণ্যার্থী পাহাড়ের গা ঘেঁষে যাওয়া কুকলুং নদীর পাশে এক অদ্ভুত দর্শন কঙ্কালের দেখা পান।

প্রথমে তারা এটি গরুর কঙ্কাল মনে করলেও, পরে কাছে গিয়ে দেখা যায় বালিতে অর্ধেক ঢুকে থাকা কঙ্কালটির আকৃতি ডাইনোসরের মতো। সামনে ঝোঁকা মেরুদণ্ড, পিছনের লম্বা পা। সামনে পা নেই। পিঠের দিকে কাঁটা থাকার চিহ্নও স্পষ্ট। সাবধানে বালি ও পাথর সরিয়ে কঙ্কালটি বের করা হয়। বাকি শরীর তোলা সম্ভব হলেও মাথাটি ভেঙে গিয়েছিল।

এর পরে কথা ওঠে কঙ্কালটি কে নেবে। কিন্তু এমন অশুভ কঙ্কাল ঘরে নিয়ে যেতে কেউ রাজি নন। আবার এমন জিনিস সকলকে না দেখিয়ে পারাও যায় না। মাটকা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ফণীন্দ্র নার্জারি কঙ্কালটি নিয়ে বাড়ি আসেন। সেদিন থেকেই তার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে রয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয় বন বিভাগের কানে পৌঁছালে চিরাংয়ের ফরেস্টার ও রক্ষীরা স্থানীয় একটি পশুপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ফণীন্দ্রের বাড়িতে হাজির হন। তাকে বুঝিয়ে কঙ্কালটি কাজলগাঁও দফতরে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় বিজনি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপিকা অনিন্দিতা চক্রবর্তী ফনীন্দ্রের বাড়িতেই কঙ্কালটি দেখেন। তার মতে, এখনই এটিকে ‘ডাইনোসর’ বলা যাবে না। পরিচিত সব প্রাণীর চেয়ে এটি চরিত্রে অন্যরকম। তবে সম্ভবত এটি স্তন্যপায়ী শ্রেণির। চিরাংয়ের ডিএফও ব্রহ্মানন্দ পাতিরি বলেন, ‘এমন প্রাণী কখনও দেখিনি। আদলে ডাইনোসর জাতীয় প্রাণীর ছাপ স্পষ্ট। পিছনের শক্তিশালী পা দেখা যাচ্ছে। সামনের দিকে ছোট্ট পা ছিল। মুখের সামনের অংশটি ভেঙে গিয়েছে। পিঠের দিকে শিরদাঁড়া বরাবর কাঁটার সারি স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে প্রাণীটিকে শনাক্ত করবেন।’

তবে গ্রামবাসীরা বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য থোড়াই অপেক্ষা করছেন? তারা নিশ্চিত, ভারত-ভুটান সীমান্তের জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে এমন আরও ডাইনোর পাল। তারা বলছেন, বাচ্চা যদি থাকে, তবে বাবা-মা নিশ্চয়ই থাকবে। আর ডাইনোসরের বাচ্চা যদি ছয় ফুট উঁচু হয়, তবে বাবা ডাইনো ও মা ডাইনো না জানি কত বড় হতে পারে! রোজ একটা মানুষে কী তাদের পেট ভরবে? সকলেই মত দিচ্ছেন, ডাইনোসরের দল কোথায় লুকিয়ে বাসা করেছে সন্ধান করা দরকার? তারা নিশ্চিত, ভারত-ভুটান সীমান্তের জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে এমন আরও ডাইনোর পাল। আপাতত দিন গোনা কবে পৃথিবী কাঁপিয়ে কখন বিরাট তিন আঙুলের থাবা ঘাড়ে এসে পড়ে।

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...