ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর শোরুম ও অস্থায়ী দোকান করার হিড়িক

আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর শোরুম ও অস্থায়ী দোকান করার হিড়িক

একে.এম নাজিম, হাটহাজারী চট্টগ্রাম প্রাতিনিধি : হাটহাজারী বিভিন্ন স্থানে গবাদি পশুর শোরুম ও দোকার করার হিড়িক পড়েছে । আসন্ন পবিত্র কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এই ব্যবসায় নেমেছে একটি চক্র । এতে করে সরকারের তালিকাভুক্ত সাপ্তাহিক গবাদি পশুর বাজারে মন্দাভাব দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে । এসব বিষয়ে দায়িত্বশীল কতৃপরে তদারকি না থাকায় এই অবস্থা হয়েছে বলে  জানা গেছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।
সূত্রে জানা যায় ,এই উপজেলায় হাটহাজারী সদরের হাটহাজারী বাজার ও কাটিরহাট বাজার সরকারী তালিকাভূক্ত গবাদি পশুর বাজার ছিল এক সময় । গবাদি পশুর বাজার বসানোর জন্য হাটহাজারী বাজারে বিশাল জায়গাও ছিল । এ জায়গায় আশির দশকে উপজেলা মার্কেট নির্মিত হলে বাজারটি অন্যত্র সড়িয়ে নেওয়া হয় । নব্বই এর দশকে সরানো এই বাজারে জায়গা ও সরকার একটি প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে ইজারা দিয়ে দেয় । এ প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে জায়গা ইজারা নিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মান করলে গবাদি পশুর বাজার বসাতে সমস্যা দেখা দেয় । সেই থেকে হাটহাজারীর বৃহৎ গবাদি পশুর বাজারে ভাটা দেখা দেয় । পরে ষ্টেশন সড়ক ও রেল কতৃপরে খালি জায়গায় গবাদি পশুর বাজার বসানো হলে তার পরিসর ও জৌলস অনেকটা কমে যায় । তাছাড়া উপজেলার অন্য গবাদি পশুর তালিকাভূক্ত বাজার কাটিরহাট বাজারের পরিসরও ক্রমে ছোট হয়ে আসে । তখন পার্শ্ববর্তী উপজেলার নাজিরহাটের গবাদি পশুর বাজার জমে উঠে । উপজেলার আওতাধীন সরকারী তালিকাভূক্ত দুইটি গবাদি পশুর বাজারের বার্ষিক ইজারা ফি ছিল অন্যান্য বাজার থেকে অনেক বেশী । পরে এই দুইটি গবাদি পশুর বাজারের পরিসর ছোট হয়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কোরবানীর ঈদ উপলে কোন বিশেষ ব্যাক্তি অথবা সংগঠন কোরবানীর পশু ক্রয় বিক্রয়ের সুবিধার্থে মৌসুমী গবাদি পশুর বাজারের আয়োজন করেন । এসব মৌসুমী বাজারের সংবাদ প্রশাসন জ্ঞাত হয়ে বাজারের বার্ষিক ইজারা ফি বৃদ্ধি করে দেয় । এতে সরকারের রাজস্ব কিছুটা বৃদ্ধি পায় । পরবর্তীতে গবাদি পশুর ব্যবসা লাভজনক দেখে উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অনেকে এই ব্যবসার দিকে ঝুকে পড়ে । উত্তর বঙ্গ থেকে ট্রাকে করে গবাদি পশু এনে কোরবানীর সময় বিভিন্ন মৌসুমী বাজারে গবাদি পশু বিক্রি করতে থাকে । দেশের অন্যান্য স্থানের মত এই উপজেলায় ও গরুর মাংসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে । এই চাহিদা পূরনের জন্য অনেকে বিভিন্ন হাট বাজারে গরুর মাংসের দোকান খুলে বসে । মাংসের দোকানে এক সময় গবাদি পশু এলাকা থেকে সরবরাহ করা হত । তখন গ্রামের প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়ীতে গবাদি পশু পালনের ব্যাপক প্রবনতা ছিল । গৃহস্থ পরিবার গুলো গবাদি পশু পালন করে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করত । যা পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাজে লাগত । কিন্তু এখন এই উপজেলার গৃহস্থ পরিবার গুলো গবাদি পশু পালন এক প্রকার ছেড়ে দিয়েছে । পশু খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি,গো চারন ভূমি বিলুপ্ত ও খড় সংকটের কারনে । তাছাড় গবাদি পশু পালন করা খুবই পরিশ্রমের কাজ ও কষ্ট সাধ্য এবং লোকবলেও প্রয়োজন । তাছাড়া এক সময় গবাদি পশু পালন যাদের একমাত্র পেশা ছিল এদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী । আর বর্তমান প্রজম্মের বউ ঝিরা গবাদি পশুর কাজ ও পরিচর্যা করতে একেবারে অনাগ্রহী । অনেকে কর্ম তাগিদে আপন বসত বাড়ী ছেড়ে বাসা বাড়ীতে অবস্থান করার কারনে ও গবাদি পশু লালন পালন গ্রামে কমে গেছে । গবাদি পশুর চারন ভূমি উপজেলার পশ্চিমের পাহাড়ী অঞ্চল । সংরতি বনভ’মিতে এক সময় গবাদি পশু চড়ানো হত । এখন এই সব সংরতি বনাঞ্চল কতৃপরে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার জন্য অবৈধ দখলে চলে গেছে । বন বিভাগের দূর্নীতিবাজদের সহযোগীতায় সংরতি বনাঞ্চল অবৈধ দখলে চলে যাওয়ায় গো চারনের সমস্যা দেখা দিয়েছে । ফলে কারো কারো আগ্রহ থাকলেও এই সব নানা কারনে গবাদি পশুর পালন অনেকের পে সম্ভব হচ্ছে না ।
একটি সূত্রে জানায়, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেনীর লোক গবাদি পশুর ব্যবসার দিকে ঝুকে পড়েছে । তারা সিন্ডিকেট করে দেশের উত্তর বঙ্গ থেকে ট্রাকে করে গবাদি পশু এনে হাটবাজারে বিক্রির পরিবর্তে নিজ নিজ এলাকায় গবাদি পশুর শোরুম ও দোকান করে বসেছে । বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা এই সব গবাদি পশুর দোকার ও শোরুমের কারনে হাটবাজারে গবাদি পশুর বেচা বিক্রি বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গেছে । স্থান বিশেষে কোন গৃহস্থ পরিবার শখের বশে গবাদি পশু প্রতিপালন করলেও তা প্রয়োজনের সময় বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে গবাদি পশুর দোকানী সিন্ডিকেটের কারনে । এই সব গবাদি পশু বিক্রি চক্রের স্থানে স্থানে দোকান ও শোরুমের কারনে হাটবাজারে সরকারী রাজস্ব আয় আশংকা জনক হারে কমে গেছে । তাছাড়া গবাদি পশু বহনকারী ভারী ট্রাকের কারনে উপজেলার আওতাধীন সড়ক ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক তিসাধনও হচ্ছে । এ চক্র বিভিন্ন জায়গায় বিশাল ভাড়া নিয়ে,সওজ এর জায়গা দখল করে অথবা নিজস্ব জমি ভরাট করে গবাদি পশুর শোরুম কিংবা দোকান গড়ে তুলছে । এতে অবশ্য কিছু পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান ও হচ্ছে । ব্যবসায়ী ও গবাদি পশুর শোরুমে চাকরি নিয়ে অনেকে পরিবারের ভরন পোষনও চালাচ্ছে । এই চক্রের কারনে গো খাদ্যের মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহস্থ পরিবার গবাদি পশু পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে । উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন স্থানে এই চক্র গবাদি পশুর দোকান করলেও তারা কোন স্থানে সরকারী রাজস্ব পরিশোধ না করায় সরকার প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । সরকারী রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও গবাদি পশু বহনকারী ভারী পরিবহনের কারনে সড়ক ও রাস্তাঘাটের তি রোধ কল্পে এই ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সুশিল সমাজ ও পর্যবেক মহল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কালিয়াকৈরে বকেয়া বেতনের দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠি চার্জ টিয়ারসেল নিক্ষেপ আহত ২৫

হুমায়ুন কবির,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি ॥ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার বুধবার সকালে হ্যাসং বিডি ...

দিনাজপুর এক্সপ্রেস পত্রিকার ৪র্থ বর্ষপূর্তিতে পুলিশ সুপার

মোঃ আফজাল হোসেন ফুলবাড়ি,দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম ...