ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | আলীকদমে পাহাড়ে জুমের ধানের বাম্পার ফলন উপজাতীয় জুমিয়াদের মাঝে আনন্দের উল্লাস

আলীকদমে পাহাড়ে জুমের ধানের বাম্পার ফলন উপজাতীয় জুমিয়াদের মাঝে আনন্দের উল্লাস

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২৬ সেপ্টেম্বর \ পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ জুম চাষের অনুকূলে থাকায় জুম চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে জুমের ধান কাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জুমিয়া পরিবারের কৃষান-কৃষানী থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই। তবে এবারে বন্য শুকর ও বন্য হাতির উপদ্রব তেমন না থাকায় ফসল ভাল হওয়ায় উপজাতীয় জুমিয়া পরিবারের পল¬ীগুলোতে শুরু হয়েছে সুখের উল¬াস।
আলীকদম উপজেলার উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী এ জুম চাষ। যুগযুগ ধরে এলাকার উপজাতীয় কিছু স¤প্রদায় সনাতন পদ্ধতিতে এই জুম চাষ করে তাদের সারা বছরের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ইতিমধ্যে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় জুম চাষীরা জুমের ধান কাটতে শুরু করেছে। এ উপলে পাহাড়ের চুড়ায় চুড়ায় চলছে আনন্দ উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের উৎসব। সোনালী পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে গ্রামগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য্যরে লীলা ভূমি বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে যেদিকে চোখ যায় সেদিকে এখন চোখে পড়ে জুমের সোনালী ধান। পাহাড়ের সমতল এলাকার পরিমাণ কম থাকায় এলাকার উপজাতিয় জনগোষ্ঠীরা যুগযুগ ধরে পাহাড়ের চুড়ায় জুম চাষ করে আসছে। এ দুই উপজেলায় জুম চাষের বিকল্প কোনো অত্যাধুনিক চাষাবাদের পদ্ধতি উদ্ভাবন না হওয়ায় এলাকার উপজাতিরা জুম চাষকে পেশা হিসাবে ধরে রেখেছে। প্রতি বছর এ জুম চাষ করে এলাকার জুম চাষীরা তাদের সারা বছরের খাদ্য মওজুত সহ পরিবারের ভরন পোষন করে আসছে।
আলীকদম উপজেলার জুম চাষী রবিদা তংচংগ্যা জানান, জুমে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্য বছরের চেয়ে এ বছর আবহাওয়া জুম চাষের অনুকূলে থাকায় জুমের ধান ভাল হওয়ায় চাষীরা খুশি। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্য সময়ে জুম চাষের জন্য পাহাড় নির্বাচিত করে এরপর পাহাড়ী গাছ-পালা কেটে আগুনে পুড়িয়ে জুম চাষের জন্য ত্রে প্রস্তুত করে। তারপর শুরু হয় বীজ রোপনের পালা। পাহাড়ের মাটি আগুনে পোড়ার পর নরম হয়ে গেলে সেখানে খন্তি দিয়ে ছোট ছোট গর্ত করে একই সাথে ধানের বীজসহ ৬/৭ রকমের সবজি বীজ বপন করেন। যা ৩/৪ মাস পর অর্থাৎ আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফসল উত্তোলন শুরু হয়। জুমের ধান পাকার পূর্বে অন্যান্ন উৎপাদিত ফসল উত্তোলন করে। যারমধ্যে রয়েছে মারপা, মরিচ, বেগুন, শসা, শীম, ঢেড়শ, মিষ্টি লাউ, করলা, ঠান্ডা আলু, জুমের কচু, ভুট্টাসহ হরেক রকমের শাক-শবজি। তার পাশাপাশি জুমিয়া কৃষকেরা অতি লোভের আশায় পাহাড়ে হলুদ, আদা ও তুলা চাষ করে ভাল লাভবান হচ্ছে বলে তিনি জানান। এবছর এক একর জুমে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে এ জুমিয়ারা মনে করেন।
কৃষি বিভাগের এক তথ্যে জানা যায়, পাহাড়ে আদি পদ্ধতিতে জুম চাষ মাটির জন্য অত্যন্ত তিকর। তার পরও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ বছরে পর বছর জুম চাষ করে আসছে। এ বছর বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলার পাহাড়ে কি পরিমাণ জুম চাষ হয়েছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই। স্থানীয় কৃষি ও বন বিভাগ গুলো তার কোন সঠিক তথ্য জানাতে পারেনি। তবে গত বছর আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ে ২ হাজার ১৩২ হেক্টর পাহাড়ী জমিতে জুম চাষ করা হয়েছে। অপরদিকে জুম চাষে উৎপাদিত তরি-তরকারীতে ও শাক-সবজিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়না। তাই এ ফসল গুলো খুবই সুস্বাদু। এলাকায় জুমের ফসলের ব্যাপক চাহিদা ও এলাকায় জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারে ফল ভাল হওয়ায় জুমিয়া পল¬ীগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময়টা জুমিয়ারা নবান্ন উৎসব হিসেবে পালন করেন। তারা রাতে নাচ-গান ও সংস্কৃতিক অংশ হিসেবে শুকর মেরে মধ্যপানসহ বিভিন্ন উৎসব পালন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুরে প্রতিমন ধান বিক্রি করে মিলছে একজন শ্রমিক !

দিনাজপুর প্রতিনিধি :  উত্তরের শষ্যভান্ডার দিনাজপুরে ধানের ভালো ফলন পেয়েও ভালো নেই ...

দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ...