ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | আরো ৪ ভুয়া ডাক্তারকে অর্থদন্ড ও চেম্বার সীলগালা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত কক্সবাজার জেলার ২৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চলছে চরম দুর্বৃত্তায়ন

আরো ৪ ভুয়া ডাক্তারকে অর্থদন্ড ও চেম্বার সীলগালা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত কক্সবাজার জেলার ২৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চলছে চরম দুর্বৃত্তায়ন

coxsbazarএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার সরকারি হাসপাতাল গুলোতে আসন,জনবলের সংখ্যা যেমন অপ্রতুল, তেমনি এখানে প্রদত্ত চিকিৎসা সেবা সুবিধা অপর্যাপ্ত। সে কারণেই পুরো জেলার  প্রায় ২৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চলছে চরম দুর্বৃত্তায়ন । চিকিৎসা বাণিজ্য এতটাই লাভজনক হয়েছে যে, বহু মানুষ এখন ডিগ্রি ছাড়াই ডাক্তার সেজে এসব ক্লিনিকে দিব্যি সেবা দিয়ে চলেছেন। অনেক জায়গাতেই সুইপার, ওয়ার্ড বয়, মালি, ক্লিনিকের মালিক, ইত্যাদি ব্যক্তিরাও নাকি রোগিদের সেবা দিচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অপারেশন করছে। অনেকেই আবার ডিগ্রির সাথে বিভ্রান্তিকর কিছু বর্ণ (এবিসিডি) যুক্ত করে দিয়ে সরলমনা মানুষদের অজ্ঞতা, অন্ধ বিশ্বাস ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রমরমা বাণিজ্যের পসরা সাজিয়েছেন। ১৯ নভেম্বর সকালে শহরের  ৪ ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বারে অভিযান চালিয়ে কথিত চেম্বার সীল গালা ও অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। ইতোপূর্বে গত ৭ অক্টোবর ভ্রাম্যমান আদালক কক্সবাজার শহরে অভিযানে এ ধরণের ২ জন ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে বিনাশ্রমে ৬ মাস করে কারাদন্ড দেন।
কক্সবাজার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের রজিবুল আলমের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবদুচ সালাম ও ওষুধ তত্ত¡াবধায় হোসেন মোহাম্মদ ইমরান, ভ্রাম্যমান আদালত সহকারী সুমনদে ও পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্পটে ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। ১৯ নভেম্বর সকাল ১১ টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত  টানা অভিযানে ৪ টি ভুয়া প্রতিষ্টানকে অর্থদন্ড ছাড়াও চেম্বার সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। অভিযানে সীলগালা করে দেয়া প্রতিষ্টানের মধ্যে রয়েছে, শহরের এন্ডারশন রোডের ডেল্টাল চিকিৎসক ডাঃ ফরিদা  ইয়াছমিনকে ৩ হাজার টাকা, পান বাজার রোডস্থ খান মার্কেটের রফিক ডেন্টাল কেয়ার সীলগালা, এস আলম হোমিও হলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও সীলগালা এবং খুরুস্কুল রোডের জার্মাণ হোমিওকে ৪০ হাজার জরিমানা ও সীলগালা ছাড়াও অন্তত ২০ লাখ টাকার অবৈধ ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে।  পান বাজার রোডের  ভুয়া ডাক্তার শিমুল নাথ এর চেম্বারে অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভ্রাম্যমান আদালত এই ভুয়া ডাক্তারদের গ্রেফতার ও জরিমানা দায়ের করলেও এদের দৌরাত্ম যেন কমছে না। শুধু ডাক্তার নয়, ভুয়া নার্স, ভুয়া প্যাথলজিষ্ট, ভুয়া টেকনিশিয়ান ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই এই ভুয়াদের চলছে রাজত্ব ।
জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা এতটাই খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে যে, অনেক জায়গাতেই সুইপার, ওয়ার্ড বয়, মালি, ক্লিনিকের মালিক, ইত্যাদি ব্যক্তিরাও নাকি রোগিদের সেবা দিচ্ছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অপারেশন করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজার জেলা সদরের ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল যতটুকু আছে তাতেও দরকারি সেবা পাওয়া যায় না। এছাড়া শহরের নাম করা বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে কল্পনাতীত ব্যয় হচ্ছে। এমন ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে অপেক্ষাকৃত সস্তা ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ডাঃ রূপস পাল জানান, সাধারণতঃ দালাল চক্রের প্ররোচণায় গ্রামের রোগিরা সেখানে গিয়ে এসব ভুয়া ডাক্তার, নার্স বা ল্যাব টেকনিশিয়ানদের খপ্পরে পড়েন। অজ্ঞ বা অনভিজ্ঞ এই মানুষদের পক্ষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বোঝা সম্ভব হয় না কে সঠিক বা কোনটি সঠিক? তারা দালালদের খপ্পরে পড়ে এক ধরণের জালে আটকে যান, যেখান থেকে তাদের পক্ষে পালানো সম্ভব হয় না।
তিনি আরো বলেন, ভুয়াদের গ্যাং কুমিরের মত এসে তাদের গ্রাস করে ফেলে। গরীব মানুষগুলো তখন সব কিছু ওপর আলার হাতে সমর্পণ করে কপালের দোষ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকেন। অর্থ, ভোগান্তির সাথে সাথে এদের প্রাণটাও অনেক সময় চলে যায়।
প্রতারিত লোকজনের অভিযোগ, চিকিৎসাক্ষেত্রে বিরাজমান এই দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে প্রায়ই খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? বেপরোয়া ও দুর্বিনীতি এই ভুয়াদের দৌরাত্ম রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা ক্ষমতায়িত বলেই প্রশাসন সাধারণতঃ সবকিছু দেখেও কিছুই না দেখার ভান করে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন।
ভোক্তভোগী ছৈয়দা খাতুন, শামীমা ও ইমাম শরীফ জানান, .কোন দল ক্ষমতায় সেটা বিবেচ্য নয়, সব দলের শাসনামলেই এই চিত্র অভিন্ন। রাষ্ট্র সকল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সাংবিধানিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জনগণ কি সেই সেবা পাচ্ছে? এই খবর এখন ্্্্্্্্্্্্্আরকেউ রাখেন না । ফলে চিকিৎসা খাদে চলছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন,বেশীর ভাগ ডাক্তার উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে সেবা দিতে আগ্রহী নন। সরকার প্রতি ইউনিয়ন ওক্ষেত্রবিশেষে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক করেছেন বটে কিন্তু সেখানে সেবার মান ও অঙ্গীকার নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জেলা শহরে ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বড় বড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতাল গুলোতে সেবা দেবার ব্যবস্থা অপ্রতুল। উপজেলায় না হোক অন্ততঃ সরকারী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। যেখানে যতটুকুই আছে ততটুকুর সেবা পাওয়া নিয়েও নানা ধরণের ভোগান্তি ও অনিয়মের কথা ভুক্তভোগীরা বলে থাকেন।
চিকিৎসা নিয়েতু দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে, সে সাথে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের জন্য সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত খাবার নিয়েও চলছে সীমাহিন প্রতারণা আর দুর্নীতি। রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার অধিকাংশই ভাগ ভাটোয়ারা করে নেন কর্মচারীরা। রোগীদেরকে প্রতি শনিবার খাসির মাংস দেয়ার নিয়ম থাকলেও কালেভদ্রেও খাসির মাংস দেয়া হয় না।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা একটি সেবার নাম, বাণিজ্য নয়। এটা মুনাফা খোরদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হতে পারে না। স্বাস্থ্যসেবায় যে কারো আস্থা নেই তার প্রমাণ দেখা যায় বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় নেতাদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর হিড়িক পর্যবেক্ষণ করলে।
প্রতিদিন পাশের দেশ ভারত, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডন,মালয়েশিয়া ও আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রচুর মানুষ। স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা নিজেই যখন দেশে চিকিৎসা নিতে ভরসা পান না তখন দেশের স্বাস্থ্যসেবা যে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলবে এটাই তো স্বাভাবিক অথচ এই ভিআইপিগণ যদি দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন তাহলে তারা বুঝতেন সেখানে কি অবস্থা বিরাজ করছে এবং আরও কি করা দরকার। এর ফলে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেকখানি উন্নত হতো আর সুফল পেত দেশের সাধারণ মানুষ।
কক্সবাজার সোসাইটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্বৃত্তায়ন কেবল স্বাস্থ্যখাতেই নয়, সকল ক্ষেত্রেই বিরাজমান। তবু স্বাস্থ্যসেবার মত জরুরি খাতে আমরা সুব্যবস্থাপনা দাবি করি। মানুষ রাষ্ট্রের কাছে সুশাসন চায়। সরকারের কর্মকর্তারা যে সেবা দেবার অঙ্গীকার নিয়ে চাকরিতে এসেছেন তা তাদের রক্ষা করতে হবে।
উপজেলা শহর বা ইউনিয়নে গিয়ে সেবা দিতে না চাইলে সরকারি চাকরিতে এসেছেন কেন? জনগণের পয়সায় বেতন নিবেন অথচ সেবা দিবেন না এটা কেমন কথা? প্রান্তিক জনপদের মানুষদেরকে সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে আমাদের আরও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা দরকার। দরকার ঐসব হাসপাতালে ডাক্তারদের থাকার উপযোগী নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা। বিশেষ নারী ডাক্তারদের পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হলে তা গ্রামীণ নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সরকারের মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসে সহায়ক হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোস্তাক আহম্মদ বলেন, প্রান্তিক মানুষদের সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এত ক্লিনিক এক সঙ্গে না করে বরং কিছু ভাল মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে আরও ভাল ফল পাওয়া যেত। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে অবিলম্বে ন্যুনপক্ষে দুজন নার্স এবং একজন প্যারামেডিকস্ এবং কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা দরকার।
প্রফেসর মোস্তাক আহম্মদ আরো বলেন, সরকারী হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ওষুধের ব্যবস্থাপনা মনিটরিং এর জন্য শক্ত সিষ্টেম থাকা দরকার। সরকারের ওষুধ রোগি কতখানি পায় সেটা সম্ভবতঃ সকলেই জানেন। স্থানীয় ভিত্তিক মনিটরিং কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তারদের সরকারি চাকরি পাবার/নিশ্চয়তার প্রথম শর্তই হবে স্থানীয় পর্যায়ে নুন্যতমপক্ষে ৩ বৎসর চিকিৎসাসেবা প্রদানের অঙ্গীকার। উচ্চশিক্ষা ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হলে ডাক্তারগণ স্থানীয় পর্যায়ে সেবাদানে বাধ্য হবেন।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরির্দশক ডাঃ মৌলানা রমিজ আহম্মদ নুরী বলেন, আধুনিক চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সকলের জন্য পছন্দমত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরে হোমিওপ্যাথিক ও আয়ূর্বেদিক/ ইউনানী চিকিৎসা সুবিধা বিকাশে রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করাটাও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তীদেশ ভারত, চীন, জাপানসহ উন্নত বিশ্বে অলটারনেটিভ মেডিসিন এবং হলিষ্টিক চিকিৎসা সেবা খুব দ্রæত প্রসার লাভ করছে। অথচ এখানে আমরা অনাদরে অবহেলায় এই অলটারনেটিভ মেডিসিন এবং হলিষ্টিক চিকিৎসা দেয়ার লোকজন জ্ঞান হারাতে বসেছি।
তিনি বলেন,আমাদের নিম, তুলসী, বাসক, অর্শ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, আমলকি, বহেড়া, হরিতকী, আদা, মধু, কাঁচা হলুদ, কালোজিরা, তিল, তেঁতুল ইত্যাদির যে অবিশ্বাস্য রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা রয়েছে সে সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই অজ্ঞ। আমরা সামান্য কিছু খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলেই দীঘদিন সুস্থ্যদেহে, পূর্ণযৌবনের আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি। আমাদের স্বাস্থ্যশিক্ষায় এ বিষয়গুলো যুক্ত করা জরুরি।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবদুচ সালাম বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তায়নের এই সুযোগেই ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যেজেলা শহরে ২৫ জন ভুয়া ডাক্তারের তালিকা করে তা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ জনকে আটক করে সাজাও দিয়েছেন এবং ৪ জন ভুয়া ডাক্তারের চেম্বার সীলগালা করে অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
তিনি বলেন, ভুয়া ডাক্তারদের শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি অনুমোদনহীন ভুয়া ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, বøাড ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যে এলাকায় এ ধরণের ভুয়া প্রতিষ্ঠান থাকবে সেখানে দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তাদেরদের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোলতান আহম্মদ সিরাজী বলেন, যথাম্ভব জেলা সদর হাসপাতালে আসারোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন জরুরী বিভাগেও শতাধিকরোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়। হাসপাতালে খাবার নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে এব্যাপারে অণ্যমেডিকেল অফিসার এবং তত্বাবধায়ক জানতে পারবেন বলে জানান তিনি।
তবে হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডাঃ অজয়ঘোষকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাঃ কাজল কান্তি বড়–য়া  জানান, কক্সবাজারের ভুয়া ডাক্তারদের চিহ্নিত করে পর্যাক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। খাবার কিংবা সরকারী হাসপাতাল গুলোতে অনিয়মের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থানেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চিকিৎসকরা হিমশিম ডেঙ্গু রোগীর চাপে

ডেস্ক রির্পোট : রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তানিয়া সুলতানা নামে এক ...

ডেঙ্গুতে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক রির্পোট : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৩-১৪ ...