ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | আরফিন রুমির জামিন কাহিনী : সমঝোতা করালেন সিডি চয়েসের কর্ণধার শেখ সুমন এমদাদ

আরফিন রুমির জামিন কাহিনী : সমঝোতা করালেন সিডি চয়েসের কর্ণধার শেখ সুমন এমদাদ

arfin rumey and his 2 wifeস্টাফ রিপোর্টার : মূলত প্রথম স্ত্রী অনন্যার সঙ্গে সমঝোতার কারণেই জামিন পেয়েছেন আরফিন রুমি।

শনিবার গ্রেপ্তারের পর মহানগর মুখ্য হাকিম রুমি ও তার ভাইকে জামিন না দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এরপর থেকেই শুরু হয় রুমির পক্ষ থেকে অনন্যার পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার দৌড়ঝাঁপ। আর এই সমঝোতার পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের কর্ণধার শেখ সুমন এমদাদ।

সমঝোতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসার থাকলে সেখানে অশান্তি থাকবে, ভুল বুঝাবুঝি হবে-এটাই স্বাভাবিক। রুমি কিংবা অনন্যার কথা আলাদা করে ভাবিনি আমি।

তিনি বলেন, শনিবার সকাল থেকেই চেয়েছি সংসারটা যেন ভেঙে না যায়। সব সমস্যাই সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান যোগ্য। সে জন্যই আমি চেষ্টা করেছি রুমি-অনন্যার সংসারটা বাঁচিয়ে রেখে একটা সুন্দর সমাধানের। আইন অনুযায়ী সাধারণত নারী নির্যাতন মামলায় মূলত দু’টি পথ। একটি সমঝোতা অন্যটি সশ্রম কারাভোগ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রুমিকে রোববারের মধ্যে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করার জন্য শনিবার পুরো রাত চলেছে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার দেন-দরবার।

এক পর্যায়ে অনন্যার পরিবারের বেশকিছু কঠিন শর্ত মেনে নিয়ে সমঝোতায় উপনীত হন উভয়পক্ষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে আরফিন রুমি তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে দিবেন।

আড়াই বছর বয়সী ছেলে আরিয়ানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২০ লাখ কিংবা তারও অধিক টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হবে অনন্যার নামে। স্ত্রীর গান গাওয়া এবং পড়াশোনায় কোন বাধা দেয়া যাবে না।

অনন্যা নিজ খুশি মতো তার মায়ের বাসা এবং স্বামীর বাসায় যাতায়াত করতে পারবেন।

এছাড়া, কোন রকম শারীরিক নির্যাতন কিংবা যৌতুকের জন্য হুমকি দেয়া যাবে না।

সর্বোপরি প্রথম স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের শতভাগ দায়িত্ব পালন এবং মর্যাদা দিতে হবে আরফিন রুমিকে।

আর এসব শর্ত ভঙ্গ করলে সকল দায়দায়িত্ব নিবেন সমঝোতাকারী অডিও প্রযোজক-গীতিকবি শেখ সুমন এমদাদ।

মূলত এমন বেশকিছু শর্ত সংবলিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর শেষে আরফিন রুমি রোববার সন্ধ্যা নাগাদ মোহাম্মদপুরস্থ নিজ বাসায় ফেরেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অনন্যার মা বলেন, আমরা আদালতের কাছে ১৫ দিনের সময় পেয়েছি। এই ১৫ দিনের মধ্যে রুমি ও তার পরিবার কোন শর্ত ভঙ্গ করলে আমরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হবো।

উল্লেখ্য, লামিয়া ইসলাম অনন্যা শুক্রবার রাতে নারী নির্যাতনের মামলা দায়েরের পর শনিবার ভোরে রুমি ও তার ভাই রনিকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

একই দিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় রুমির মা নাসিমা বেগম রোজীকেও আসামি করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রুমি বিয়ের পর থেকেই ২০ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে আসছিলেন।

ওই টাকার জন্য শুক্রবার তিন আসামি মিলে বাদী লামিয়া ইসলাম অনন্যাকে বেঁধে তার ওপর নির্যাতন চালায়। অল্প সময়ে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়া শিল্পী-সুরকার-সংগীত পরিচালক-গীতিকবি আরফিন রুমি একসঙ্গে এক সংসারে দুই স্ত্রী রেখে গেল এক বছর ধরে দারুণ নিন্দা ও সমালোচনার মধ্যে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংঘর্ষের ঘটনায় ভোলায় থমথমে অবস্থা

স্টাফ রির্পোটার :  ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ...

ইরানি জনগণ প্রতিরোধের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিচ্ছে:রুহানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের যকোন ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা ...