Home | বিবিধ | কৃষি | আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমন দিশেহারা কৃষক

আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমন দিশেহারা কৃষক

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম ; কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার জমির আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো ও খোল পঁচা রোগ বিস্তার লাভ করায় এবং রাতারাতি এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে পোকার আক্রমন ও রোগ ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা পরেছেন কৃষক।

রাজারহাট ইউনিয়নের গোবর্ধ্বন দোলা, দূর্গারাম, ফুলবাড়ি উপনচৌকী, হরিশ্বর তালুক, স্বরুপ চামারু, চাকিরপশার ইউনিয়নের খুলিয়াতারী, পীরমামুদ, চাকিরপশার তালুক, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মনঃস্বর, পাড়ামৌলা, ছিনাই ইউনিয়নের সিংহীমারী, বাঙ্গালপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানের শতাধিক ধান ক্ষেতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা গেছে। ধানক্ষেতের অধিকাংশ গাছের মা পাতা মরে যাচ্ছে। একই স্থানের বিভিন্ন ধান ক্ষেত ভিন্ন ভিন্ন রোগ আক্রমিত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের পীরমামুদ মৌজার বর্গা চাষী অনন্ত কুমার জানান,“হ্যামরা আর আবাদ করবেন নই ব্যাহে, দাম কম থাকায় আগের ধান বেচপার পাং নাই। এল্যা এক একর আমন ধান আবাদ করিয়া তাতেও মাজরা পোকা ও পাতা মরা রোগ ধরছে”।

ফুলবাড়ি উপনচৌকী মৌজার কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান,আমি আমন চাষাবাদের পর প্রচন্ড তাপদাহের কারনে প্রথমবার ক্ষেতের ফসল পুড়ে যাওয়ায় পূনঃরায় জমি চাষ করে ধানের চারা রোপন করি। কিন্তু কপাল পুড়ে গেছে, মাজরা পোকা ও খোলপঁচা রোগের আক্রমনে আবাদ আর হলো না।

পীরমামুদ গ্রামের কবির হোসেন, মিন্টু, শাহজালাল ও ওসমান আলী জানান, শুরুতে আবাদ ভালোই হয়েছিল, কিন্ত এক সপ্তাহের মধ্যেই এ রোগের আক্রমনে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। রাতারাতি বিবর্ণ হয়ে ধান গাছ মরে যাচ্ছে। কীটনাশক দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

হরিশ্বর তালুক গ্রামের আব্দুল হাই জানান, এমনিতেই কৃষি সামগ্রী ও শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধির ফলে ধান চাষাবাদে তেমন লাভ হয় না,তার উপর সেচ পাম্পের পানি দিয়ে চাষাবাদ করার পর এ অবস্থার উত্তরন না ঘটলে আমার মত কৃষকদের সর্বশান্ত হতে হবে। এভাবে গত এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার ছিনাই, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, উমরমজিদ, নাজিমখান, চাকিরপশার ও রাজারহাট ইউনিয়ন সহ উপজেলার সব এলাকাতেই প্রায় অর্ধেক জমির ধান ক্ষেতে মাজরা পোকা, খোল পচা ও পাতা মোড়ানো রোগ আক্রমন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে ধান চাষিরা মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বেন বলে আশংকা প্রকাশ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান ধান ক্ষেতে রোগের আক্রমনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, অনাবৃষ্টির কারনে পাতা মোড়ানো ও কোন কোন ক্ষেতে খোল পঁচা রোগ আক্রমন করেছে, আতঙ্কিত না হয়ে কৃষকদের স্প্রে ও ঔষুধ প্রয়োগ করার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডবে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডবে অন্তত ...

সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৩০

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়দূর্গা পূজায় গ্রামের পূজা মন্ডপে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র ...