Home | ফটো সংবাদ | আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাম কি রাজনীতি

আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাম কি রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় পেট্রল বোমায় দগ্ধ একজন রাজনীতিতে সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, রাজনীতির নামে এই ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রবিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির উদ্যোগে এক আলোচনায় এ কথা বলেন পেট্রলবোমায় দগ্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রেজাউল করিম।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় নাশকতার ঘটনায় আহত এই আলু ব্যবসায়ীর জীবনটাই পাল্টে গেছে। এখন ভয় নিয়েই তাকে চলতে হয়, করতে হয় কাজ।

রেজাউল করিম বলেন, ‘আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাম কি রাজনীতি? আমি তো অসহায় মানুষ, আমি তো কোন রাজনীতি করি নাই, কোন মিছিল, মিটিং এ যাই নাই। আমি ছোট ব্যবসায়ী। কী অপরাধ ছিল আমার? আমি দেশের প্রতিটা মানুষের কাছে আমি বিচার চাই, এর বিচার আপনারাই করবেন।’

এ সময় বক্তব্য রাখেন পেট্রল বোমায় আহত হওয়ার পর চাকরি চলে যাওয়া বিক্রয়কর্মী মোশাররফের স্ত্রী লাভলী আক্তারও। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া পেট্রল বোমার আঘাতে আমার স্বামীর মুখমণ্ডল পুড়ে যায়, তখন তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এরপর আমার স্বামীর চাকরিও চলে যায়। আমরা দুই ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আর্থিক অস্বচ্ছলতায় পড়ে যায়। তিনি এখন মালয়েশিয়ায় আছেন, কিন্তু সেখানেও তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। একদিন কাজ করলেই তাঁর হাতের যন্ত্রণা উঠে।’

পেট্রল বোমায় দগ্ধ মাইশার মা ও নুরুজ্জামানের স্ত্রী মাফরুহা বেগম, ট্রাক চালক পটল মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল মোর্শেদ আলমও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আর বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে বোমায় ঝলসে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল সহায়তা তুলে দেন। আরও সাহায্যের ঘোষণাও দেন তিনি।

আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে দাঁড়ানোয় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত, আমরা বাঁচতাম না। আমার চিকিৎসা হতো না।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলনে পেট্রল বোমা হামলা ও অন্যান্য নাশকতা নিয়ে খণ্ডচিত্র প্রদশর্নীরও আয়োজন করা হয়।

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের এ সকল হত্যা, আগুন সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্যের বিষয় শুধু ঘরের মধ্যে বললেই হবে না। এর ব্যাপক প্রচার দরকার। প্রযুক্তির ব্যবহার করে জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়েই প্রচার করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান, তাদেরকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানান এইচ টি ইমাম। বলেন, ‘আপনারা আমাদের কাছ থেকে ভিডিও নিয়ে গিয়ে নিজ নিজ এলাকায় দেখান। এ প্রচার নিয়মিত দেখানো হলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে যে বিজয় হয়েছিলো তার পুনরাবৃত্তি হবে, এবার আরও বড় আকারে হবে।’

ভোটের আর বেশি দেরি নাই জানিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘যখন নির্বাচনের জোরালো প্রস্তুতি শুরু হবে, তখন সবাই এ প্রচারের কথা ভুলেও যেতে পারে। তাই এখন থেকে জনমত যদি আমাদের পক্ষে আনতে হয় সেক্ষেত্রে আমাদের শেখ হাসিনার উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের কথাও তুলে ধরতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নিখোঁজের ৭ দিন পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার//খুলনার ভৈরব নদে নিখোঁজ হওয়ার সাতদিন পর মিঠুন কুমার দাস (২৩) নামে ...

খুলনায় নারী শ্রমিককে নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার , খুলনা// ইটভাটায় তরকারি রান্না খারাপ হওয়ায় লিপিকা (২৪) নামে ...